ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন Logo ‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী Logo বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন Logo আমরা যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. শফিকুর রহমান এমপি Logo অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মদিন আজ Logo সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত প্রবারণা পূর্ণিমা Logo জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম Logo টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির Logo বাংলাদেশে পলাতক অপরাধীকে কোন অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের আরো ৪২১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের আরো ৪২১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের আরো প্রায় ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। সম্প্রতি হালনাগাদকৃত সরকারের এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়ন বিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায়’ এ তথ্য জানানো হয়।
জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্মশালাটির আয়োজন করে।
কর্মশালার মূল উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। তিনি তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে অধিক অর্থায়ন নিশ্চিতকরণের সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেন।
ড. সেলিম রায়হান জানান, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। এ অর্থের সিংহভাগ দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানায়, কর্মশালায় ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল পর্যালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের হালনাগাদকৃত এসডিজি অর্থায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। ডিএফএ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্লেষণ কাঠামো। যা জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়ন নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক প্রবাহের কার্যকর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নের অবশিষ্ট সময়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। একদিকে অর্থায়নের যেমন ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে তেমনি হাতে সময় সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। তবে আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের প্রয়োজন সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই প্রতিবেদনসমূহের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎস থেকে এসডিজি বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
ইউএনডিপির উপআবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারতেœ বলেন, ‘অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে আরো কার্যকর অর্থায়ন নীতি এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় অর্থায়ন শুধু অধিক সম্পদ সংগ্রহের বিষয় নয়; বরং পরিকল্পনা প্রণয়নের শুরু থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য।’
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি ক্লাইমেট ফাইন্যান্স নেটওয়ার্ক (সিএফএন) কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়ন কৌশলটি চূড়ান্ত করা হবে।
কর্মশালার সভাপতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকালীন এই সময়ে একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের আরো ৪২১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন

আপডেট সময় ০৬:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের আরো প্রায় ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। সম্প্রতি হালনাগাদকৃত সরকারের এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়ন বিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায়’ এ তথ্য জানানো হয়।
জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্মশালাটির আয়োজন করে।
কর্মশালার মূল উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। তিনি তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে অধিক অর্থায়ন নিশ্চিতকরণের সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেন।
ড. সেলিম রায়হান জানান, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। এ অর্থের সিংহভাগ দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানায়, কর্মশালায় ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল পর্যালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের হালনাগাদকৃত এসডিজি অর্থায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। ডিএফএ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্লেষণ কাঠামো। যা জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়ন নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক প্রবাহের কার্যকর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নের অবশিষ্ট সময়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। একদিকে অর্থায়নের যেমন ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে তেমনি হাতে সময় সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। তবে আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের প্রয়োজন সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই প্রতিবেদনসমূহের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎস থেকে এসডিজি বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
ইউএনডিপির উপআবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারতেœ বলেন, ‘অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে আরো কার্যকর অর্থায়ন নীতি এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় অর্থায়ন শুধু অধিক সম্পদ সংগ্রহের বিষয় নয়; বরং পরিকল্পনা প্রণয়নের শুরু থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য।’
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি ক্লাইমেট ফাইন্যান্স নেটওয়ার্ক (সিএফএন) কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়ন কৌশলটি চূড়ান্ত করা হবে।
কর্মশালার সভাপতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকালীন এই সময়ে একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’