ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট Logo সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী Logo মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার Logo বিএনপি সব সময় ইসলামের পথে থাকে-আমান উল্লাহ আমান Logo জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo তারাকান্দায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা Logo চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলো সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি Logo উত্তরের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ইলিশ Logo কালীগঞ্জে দারিদ্র্যতা হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা

রৌমারীতে ধর্ণী নদীর ভাঙ্গনরোধে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের বান্ডেল নির্মাণ এলাকাবাসীর

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী এলাকায় ধরণী নদীতে ভাঙ্গনরোধে ফারুকের উদ্যোগে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে বাশেঁর বান্ডেল নির্মাণ করেছেন এলাকাবাসী। গত এক সপ্তাহ থেকে ওই নদীতে এই বান্ডেল নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারের কাছে ভিটে বাড়ি রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। জানা গেছে, ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা ধরণী নদীতে শুকনা মৌসুমে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান ভরসা। নদীর দুই তীরে আমন, সরিষা, মাসকলাই ও ভুট্টার ক্ষেত। নদী কেন্দ্রিক জীবনই এখানকার মানুষদের বাস্তবতা। কিন্তু ভারতের পাহাড়ি ঢলের স্্েরাতে, ভাঙ্গন তান্ডবে প্রতি বছর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ভেঙ্গে যায়। এতে নিঃস্ব হচ্ছে শতশত পরিবার। প্রতি বছরে নদী ভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে ওই এলাকার মানচিত্র। সরকারি ভাবে প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদ এর উদ্যোগে নিজ অর্থায়ন ও এলাকাবাসী বাঁশ, অর্থ এবং বিভিন্ন সহযোগিতায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য ৭টি বাঁশের বান্ডাল নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু জাফর আলী বলেন, এক বছরে কয়েক একর জমি, ঘরবাড়ি গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। পরে আমরা নিজেরা সহযোগিতা করে বান্ডাল দেওয়ায় আপাতত ভাঙ্গন থেমেছে। একই এলাকার মোহাম্মদ আলী বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা বান্ডালের কারণে এবার তারা নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সরকারের নিকট দাবি, নদী ভাঙ্গনে স্থায়ী রক্ষাবাধ নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণের। স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, বাপ-দাদার ৭ একর জমি ছিল। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এহন শুধু বসতভিটা আছে। তবে বান্ডাল দেওয়ার পর এ বছর আর ভাঙ্গে নাই। স্থায়ী বাঁধ না থাকায় বড়াইবাড়ির প্রায় ২০০ পরিবারের দুই হাজার মানুষ এখনো ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছেন। হুমকিতে আছে স্থানীয় বাজার, মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বড়াইবাড়ি বিজিবি ক্যাম্প, ঈদ-গা মাঠ ও কবরস্থান। রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, ভারতীয় পাহাড়ি ঢোল, পানির চাপ ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধ দরকার। তবে বান্ডাল নির্মাণের ফলে চলতি বছর এখানকার মানুষ নদীর আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেয়েছেন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

রৌমারীতে ধর্ণী নদীর ভাঙ্গনরোধে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের বান্ডেল নির্মাণ এলাকাবাসীর

আপডেট সময় ০৩:৩৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী এলাকায় ধরণী নদীতে ভাঙ্গনরোধে ফারুকের উদ্যোগে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে বাশেঁর বান্ডেল নির্মাণ করেছেন এলাকাবাসী। গত এক সপ্তাহ থেকে ওই নদীতে এই বান্ডেল নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারের কাছে ভিটে বাড়ি রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। জানা গেছে, ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা ধরণী নদীতে শুকনা মৌসুমে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান ভরসা। নদীর দুই তীরে আমন, সরিষা, মাসকলাই ও ভুট্টার ক্ষেত। নদী কেন্দ্রিক জীবনই এখানকার মানুষদের বাস্তবতা। কিন্তু ভারতের পাহাড়ি ঢলের স্্েরাতে, ভাঙ্গন তান্ডবে প্রতি বছর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ভেঙ্গে যায়। এতে নিঃস্ব হচ্ছে শতশত পরিবার। প্রতি বছরে নদী ভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে ওই এলাকার মানচিত্র। সরকারি ভাবে প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদ এর উদ্যোগে নিজ অর্থায়ন ও এলাকাবাসী বাঁশ, অর্থ এবং বিভিন্ন সহযোগিতায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য ৭টি বাঁশের বান্ডাল নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু জাফর আলী বলেন, এক বছরে কয়েক একর জমি, ঘরবাড়ি গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। পরে আমরা নিজেরা সহযোগিতা করে বান্ডাল দেওয়ায় আপাতত ভাঙ্গন থেমেছে। একই এলাকার মোহাম্মদ আলী বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা বান্ডালের কারণে এবার তারা নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সরকারের নিকট দাবি, নদী ভাঙ্গনে স্থায়ী রক্ষাবাধ নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণের। স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, বাপ-দাদার ৭ একর জমি ছিল। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এহন শুধু বসতভিটা আছে। তবে বান্ডাল দেওয়ার পর এ বছর আর ভাঙ্গে নাই। স্থায়ী বাঁধ না থাকায় বড়াইবাড়ির প্রায় ২০০ পরিবারের দুই হাজার মানুষ এখনো ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছেন। হুমকিতে আছে স্থানীয় বাজার, মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বড়াইবাড়ি বিজিবি ক্যাম্প, ঈদ-গা মাঠ ও কবরস্থান। রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, ভারতীয় পাহাড়ি ঢোল, পানির চাপ ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধ দরকার। তবে বান্ডাল নির্মাণের ফলে চলতি বছর এখানকার মানুষ নদীর আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেয়েছেন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।