বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

হাইকোর্টে আগাম জামিন পেলেন নাহিদ সুলতানা যুথীসহ ৪ আইনজীবী

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির সময়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নির্বাচনের স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথীসহ চার আইনজীবীকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার (২০ মার্চ) বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বে এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শেখ আওসাফুর রহমান বুলু। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেন নির্বাচনের স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী। গত ১৪ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়। প্রসঙ্গত, নাহিদ সুলতানা যুথী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী।
একই মামলার আসামি অ্যাডভোকেট শাকিলা রৌশন ও ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমাও (কবিতা) জামিন আবেদন করেন। পরে ১৮ মার্চ নাহিদ সুলতানা যুথীর আগাম জামিন আবেদনের ওপর শুনানি নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নুর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বে ।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৮ মার্চ রাতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের নির্বাচনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় স্বতন্ত্র থেকে সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী, বিএনপির প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান চৌধুরী সাইফ তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অন্য আসামিরা হলো— অ্যাডভোকেট. মো. জাকির হোসেন ওরফে মাসুদ (৫৫), অ্যাডভোকেট শাকিলা রৌশন, অ্যাডভোকেট কাজী বশির আহম্মেদ, ব্যারিস্টার উসমান, অ্যাডভোকেট আরিফ, অ্যাডভোকেট সুমন, অ্যাডভোকেট তুষার, রবিউল, ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা (কবিতা), সাইদুর রহমান জুয়েল (৪০), অলিউর, যুবলীগ নেতা জয়দেব নন্দী, মাইন উদ্দিন রানা, মশিউর রহমান সুমন, কামাল হোসেন, আসলাম রাইয়ান, অ্যাডভোকেট তরিকুল ও অ্যাডভোকেট সোহাগ। এছাড়াও মামলায় ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা মামলার এক নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথীর নির্দেশে এবং প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে বাকি আসামিরা সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির নিচ তলার শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনের দরজা খুলে অস্ত্র হাতে জোর করে প্রবেশ করেন। এসময় তারা অকথ্য ভাষায় বাদিসহ নির্বাচন সাব-কমিটির অন্যান্য সদস্যদের গালিগালাজ করে। ৫ নং আসামির হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার মাঝ বরাবর আঘাত করলে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন। অন্যান্য আসামিরা কাঠের লাঠি, কাঠের ও প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে অতর্কিতভাবে মারপিট করে ও পা দিয়ে আঘাত করে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে এবং আমার পরিহিত কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।
আসামিরা বাদির সঙ্গে থাকা ব্যারিস্টার জাকারিয়া হাবিবকেও মারপিট করে আহত করে বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে ৫ নং আসামির হাতে থাকা কাঠের লাঠি দিয়ে ব্যারিস্টার জাকারিয়া হাবিবকে আঘাত করে তার ডান হাতের আঙ্গুল ভেঙে ফেলে ও কাপড় ছিঁড়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ১ নং আসামি অ্যাডভোকেট রিনা বেগমকে চড় থাপ্পড় ও হুমকি দেয় এবং ১১নং আসামি গলা চেপে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা করে।
ওইদিন অডিটোরিয়ামের ভেতরে ভাঙচুর ও অরাজকতা সৃষ্টি করার ফলে নির্বাচনি দায়িত্বরত সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং নির্বাচনি অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ রূপে ভ-ুল হয়ে যায় অভিযোগ করে বলা হয়, একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে নির্বাচন সাব-কমিটির প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল খায়েরকে ভোট গণনা ছাড়াই এক নম্বর আসামিকে সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করার জন্য বাধ্য করে। নির্বাচন সাব-কমিটির সদস্যরা জীবন বাঁচানোর জন্য ভোট গণনার কাজ না করেই চলে যেতে বাধ্য হন। মামলার ১২ নং আসামি বাদির পকেটে থাকা ১৫ হাজার টাকাও নিয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার বিষয়ে সমস্ত ধারণ করা আছে। নির্বাচনের ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার কাজ আসামিরা সম্পন্ন হতে না দিয়ে নাহিদ সুলতানা যুথীকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করার অবৈধ দাবিতে তার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের বিএনপির প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ৬ আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়।
হাইকোর্ট বে তাদের জামিন আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করলে নাহিদ সুলতানা যুথীর আগাম জামিন আবেদনের শুনতে নতুন বে নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com