রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

আটটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও গ্রন্থালোচনা 

খবরপত্র ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ উপলক্ষে একাডেমিয়া পাবলিশিং হাউজ লিমিটেড (এপিএল) প্রকাশিত পাঁচটি, বিআইআইটি পাবলিকেশন্স (বিপি) কর্তৃক প্রকাশিত ১টি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) কর্তৃক প্রকাশিত ২টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি, রোজ বৃহস্পতিবার, বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্ৰন্থ উন্মোচন মঞ্চে ৮টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ উপলক্ষে একাডেমিয়া পাবলিশিং হাউজ লিমিটেড (এপিএল) প্রকাশিত পাঁচটি, বিআইআইটি পাবলিকেশন্স (বিপি) কর্তৃক প্রকাশিত ১টি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) কর্তৃক প্রকাশিত ২টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি, রোজ বৃহস্পতিবার, বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্ৰন্থ উন্মোচন মঞ্চে ৮টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এপিএল প্রকাশিত বইগুলো হচ্ছে- স্মার্ট শিক্ষা, নৈতিকতা ও প্রযুক্তি; নারীবাদ, হিজাব ও বিজ্ঞান; আইডিয়াল টিচার: দ্য আর্কিটেক্ট অব হিউম্যান ক্যাপিট্যাল; একাডেমিক গবেষণা পদ্ধতি; এবং ইসলামি ক্যালিগ্রাফির বিকাশধারা। বিপি প্রকাশিত বই হচ্ছে- শিশুর মনস্তত্ত্বে শিক্ষার প্রভাব: শিক্ষার উন্নয়নে নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। বিআইআইটি প্রকাশিত বই দুটি হচ্ছে- ‘আন্তঃধর্মীয় সংলাপ: বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট’ এবং ‘টেরোরিজম এন্ড জিহাদ: এনালাইটিক্যাল স্টাডি ফ্রম ইসলামিক এন্ড সিকিউরিটি পার্সপেক্টিভ’।

স্মার্ট শিক্ষা, নৈতিকতা ও প্রযুক্তি বইটি লেখক ড. মো. মাহমুদুল হাছান এর সৃষ্টিশীল রচনার অনন্যসাধারণ একটি বই। শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য-উপাত্ত, মূল্যায়ন-নীরিক্ষণ ও প্রয়োগ-প্রযোজনা যেহেতু স্মার্ট অনুশীলনের সাথে সম্পর্কিত, তাই স্মার্ট উপকরণের সন্নিবেশ এ বইটির প্রধান আকর্ষণ। বইটির মর্মার্থ হলো শিক্ষার এমন একটি ধারণা, যা মৌলিক শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে সুদৃঢ় করে, আধুনিক প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদান করতে চেষ্টা করে। এ বইটি রচনার লক্ষ্যই হলো প্রচলিত অনুশীলন ও অত্যাধুনিক কৌশলগুলোর মধ্যে ব্যবধান দূর করে একটি কার্যকর শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা গড়ে তোলা। এ বইয়ের অধ্যায়গুলো শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই চাহিদা অনুয়ায়ী রচিত হয়েছে। এ গ্রন্থটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের বিশেষ উপকারে আসবে।

বর্তমান বিশ্বে বিশেষত মুসলিম বিশ্বে হিজাবের অবস্থান নিয়ে নারীবাদ, হিজাব ও বিজ্ঞান বই লিখেছেন অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের|তাছাড়া হিজাবের সীমা সম্পর্কে যেসব মতবিরোধ আছে, এমনকি সকল মাজহাব-মসলকের প্রতিনিধিত্বশীল পণ্ডিতদের হিজাববিষয়ক মতপার্থক্যগুলো এ গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. জাবেদ মুহাম্মাদ এর লেখা আইডিয়াল টিচার: দ্য আর্কিটেক্ট অব হিউম্যান ক্যাপিট্যাল এই গ্রন্থটি শিক্ষকদের ভালো ও আদর্শ শিক্ষক হবার গাইডলাইন বুক। শিক্ষকদেরকে ভেতরের শক্তির প্রতি গভীর বিশ্বাসী করবে এবং অনুপ্রেরণা জোগাবে। গ্রন্থটিতে মানব সম্পদ গঠনে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অন্বেষণ করা হয়েছে এবং তাদের অবদানের উপর একটি বিশ্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। এই বইটিতে ১৩টি অধ্যায় রয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ে মানব মূলধন বিকাশের ভিত্তি হিসেবে শিক্ষাদানের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার প্রধান ও মৌলিক উৎস এবং এর ঐশ্বরিক শিকড় পরীক্ষা করা হয়েছে। ব্যক্তি ও সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষার শক্তি বোঝা হয়েছে। শিক্ষা কীভাবে ব্যক্তিদের সমাজ ও অর্থনীতিতে উৎপাদনশীল অবদানকারীতে রূপান্তরিত করে তা অন্বেষণ করা হয়েছে। মন গঠন ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। গ্রন্থটিতে শিক্ষা কীভাবে মানব মূলধন গঠনে ও বিকাশে অবদান রাখে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

একাডেমিক গবেষণা পদ্ধতি এর লেখক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও গুলশান আকতার। গ্রন্থটিতে গবেষণার বিভিন্ন বিষয়াবলী সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। কারণ গবেষণা ব্যতিত শিক্ষকগণ শিক্ষাকার্যক্রমে সফলতা লাভ করতে পারেন না। অনুরূপভাবে গবেষণা ব্যতিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও বেগবান হয় না। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সকল বিভাগে ‘গবেষণা পদ্ধতি’ শিরোনামে একটি বিষয় আবশ্যকীয় রয়েছে। এ গ্রন্থটিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরে যেসব বিষয়ে গবেষণা নিয়মাবলী প্রয়োজন সেগুলো তথ্য ভিত্তিক আলোচিত হয়েছে। প্রত্যেকটি আলোচনায় মৌলিক গ্রন্থের মূল আরবি ও ইংরেজি উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে। গ্রন্থটি দ্বারা বিভিন্ন পাবলিক, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্বব্যিালয়, শিক্ষক, গবেষক ও সাধারণ পাঠকগণ ‘একাডেমিক গবেষণা পদ্ধতি’ সম্বন্ধে সঠিক নির্দেশনা লাভ করবে ।

ইসলামি ক্যালিগ্রাফির বিকাশধারা এর লেখক ড. মুহাম্মদ আরিফুর রহমান এর লেখা অসাধারণ বই। এতে ১২টি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে শিল্পকলার ইসলামি দৃষ্টিকোণ, দ্বিতীয় অধ্যায়ে আরবি লিপির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, তৃতীয় অধ্যায়ে ইসলামি ক্যালিগ্রাফির স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য, চতুর্থ অধ্যায়ে ইসলামি ক্যালিগ্রাফির বিকাশধারা, পঞ্চম অধ্যায়ে ইসলামি ক্যালিগ্রাফির বিভিন্ন শৈলী, ষষ্ট অধ্যায়ে পাক-ভারত উপমহাদেশে ক্যালিগ্রাফি চর্চা, সপ্তম অধ্যায়ে বাংলাদেশে ক্যালিগ্রাফি চর্চা, অষ্টম অধ্যায়ে বাংলাদেশের কয়েকজন খ্যাতিমান ক্যালিগ্রাফার, নবম অধ্যায়ে ইসলামি ক্যালিগ্রাফির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব, দশম অধ্যায়ে কুরআন ভিত্তিক ক্যালিগ্রাফির শিক্ষা ও সৌন্দর্য, একাদশ অধ্যায়ে হাদিস ভিত্তিক ক্যালিগ্রাফির শিক্ষা ও সৌন্দর্য, দ্বাদশ অধ্যায় ইসলামি বিবিধ ক্যালিগ্রাফি এবং পরিশিষ্টে আছে: ক্যালিগ্রাফার পরিচিতি, ক্যালিগ্রাফি সংশ্লিষ্ট বিবিধ বিষয় ও গ্রন্থপঞ্জি।

অ্যান এল-মোসলিমানির লেখা এবং ইমদাদুল হক অনূদিত শিশুর মনস্তত্ত্বে শিক্ষার প্রভাব: শিক্ষার উন্নয়নে নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রন্থটিতে লেখক তাওহীদের অপরিহার্য নীতি (আল্লাহর একত্ব, মানবতা, জ্ঞান) থেকে শিক্ষার সন্ধান করেছেন; ফিতরাহ (মানব প্রকৃতির ধারণা); এবং পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিভু হিসাবে মানুষের ভূমিকা (দায়িত্ব এবং ন্যস্ত দায়বদ্ধতা) তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন- বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা একশ বছর বা তারও বেশি আগের এবং এটি পুনরায় সংস্কার করা অতীব প্রয়োজন।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুর রহমান আনওয়ারীর লেখা আন্তঃধর্মীয় সংলাপ: বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট গ্রন্থটি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরে মাঝে সংলাপ তথা আন্তঃধর্মীয় সংলাপের উপর সংক্ষেপে একটি চমৎকার অনবদ্য গ্রন্থ। এটি গবেষণা রীতিতে রচিত হলেও বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও গবেষক এবং সাধারণ পাঠকের সহজলভ্য করা হয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ সন্নিবেশিত আন্তঃধর্মীয় সংলাপ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক উপযোগী তেমন কোনো গ্রন্থ বাংলায় নেই বললেই চলে। এ হিসেবে গবেষণা পদ্ধতি রচিত এ গ্রন্থটি পথিকৃৎ ও অনন্য।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড. এ কে এম মাকসুদুল হক, পিএসসি (অব.) এর টেরোরিজম এন্ড জিহাদ : এনালাইটিক্যাল স্টাডি ফ্রম ইসলামিক এন্ড সিকিউরিটি পার্সপেক্টিভ গ্রন্থটি কীভাবে জিহাদকে সন্ত্রাসবাদের ন্যায্যতা হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা এবং অপব্যবহার করা হয়েছে তার একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্রদান করে; যা ইসলামে এর প্রকৃত, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যের সাথে এর তুলনা করে। এটি জিহাদের অর্থ পুনর্র্নিধারণ এবং সংঘাত ও ভুল বোঝাবুঝির ইন্ধন যোগায় এমন ভুল ধারণা দূর করার জন্য বিশ্বব্যাপী মুসলিম নেতা ও স্কলারদের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। বইটিতে লেখক সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদের একটি গভীর ও বিস্তৃত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। এই বইটি সন্ত্রাসবাদ ও জহিাদ বিষয়ের সাহিত্যের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজ এর সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন ও গ্রন্থালোচনায় অংশ নেন ড. আহমদ আবদুল কাদের, মো. সোলায়মান মিয়া, ড. মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, ফাতেমা মাহফুজ ও গবেষক আবদুল কাদের জিলানী প্রমূখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক আনিসুর রহমান এরশাদ।

উল্লেখ্য যে, একাডেমিয়া পাবলিশিং হাউজ লিমিটেড (এপিএল) সৃজনশীল একাডেমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ের সিলেবাস সংশ্লিষ্ট বই প্রকাশ করে আসছে; প্রকাশনাটির লক্ষ্য প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক, মানসম্মত রেফারেন্স বই তৈরি করা, মৌলিক ও সংকলন বই প্রকাশ করা এবং বরেণ্য সব লেখক ও গবেষকদের বৈচিত্র্যে উজ্জ্বল নানা বিষয়ক বই প্রকাশনা বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) চিন্তা ও জ্ঞান সংস্কারে নিবেদিত একটি থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক; জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গঠনে প্রতিষ্ঠানটি নিবেদিত। ঢাকার বাংলাবাজারের প্রকাশনা সংস্থা বিআইআইটি পাবলিকেশন্স (বিপি) এর লক্ষ্য বিশ্বের বড় বড় পণ্ডিতদের প্রধান বই অনুবাদ করা, সাহিত্যভুবনে অনুবাদ সাহিত্যগুলিকে বাংলায় প্রকাশ করা এবং বুদ্ধির মুক্তি এবং শুভবুদ্ধির বিকাশ ঘটানো।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com