শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

যা দেখলাম সরেজমিন ঘুরে

শাহ বুলবুুল
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে যেতে হাতের বাম পাশে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজ এবং ডান পাশে মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। মুখোমুখি এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই রয়েছে ভোটকেন্দ্র। আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লক্ষ্য করা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। পুরো মাঠ জুড়েই একটা উৎসবের আমেজ। কেউ এই মাত্র ভোট দিতে এসেছেন আবার কেউ ভোট দিয়ে সারছেন একটু খোশগল্প। সব মিলিয়ে এখানকার নির্বাচনী পরিবেশ বেশ আমুদে। কথা হয় এখানে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সাথে। তিনি জানান, সকাল থেকেই ভোটাররা আসছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে উপস্থিতি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, কেন্দ্রের পরিবেশ খুবই শান্তিপূর্ণ এবং যারা আসছে তারা সকলেই নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করতে পারছেন। অন্যদিকে, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এখানে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম তবে কেন্দ্রের পরিবেশ একেবারেই শান্তিপূর্ণ। রাজধানীর কাফরুল থানার অদূরেই রোটারি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন কাফরুল থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর জনাব আশরাফুল। তার ভাষায়, এই কেন্দ্রে সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা। কোন প্রকার অভিযোগ বা অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়াই চলছে ভোট গ্রহণ। আমরা যখন কথা বলছিলাম জনাব আশরাফুলের সাথে তখন সারিবদ্ধভাবে ভোটারের অপেক্ষা, ভোট দিয়ে যথাসময়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ, কেন্দ্রে প্রবেশ প্রমাণ করছিলো একটি দীর্ঘপ্রতিক্ষিত আশা ও প্রত্যাশার ভোট অনুষ্ঠানের কথা।
আমাদের পরবর্তী গন্তব্য রাজধানীর উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র। ঘড়ির কাটায় সময় তখন বেলা সাড়ে এগারোটা। উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনে লোকজনের ভিড় দেখেই আমরা বুঝতে পারলাম ভোটার উপস্থিতি বেশ সাবলীল। এখানে কথা হয় বুথ ফেরত জনাব ওবায়দুল ইসলামের সাথে। বৃদ্ধ মাকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন জনাব ওবায়দুল, সাথে এনেছেন সন্তানকেও। নিজের ভোট দিয়ে বের হতে পারলেও সন্তানকে নিয়ে মাঠেই অপেক্ষা করছেন বৃদ্ধ মায়ের জন্য। জনাব ওবায়দুল ইসলামের কথায় জানা গেলো, উত্তরা মডেল টাউনের অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় এখানে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হয় বিশেষত: নারী ভোটারের উপস্থিতি এখানে পুরুষের তুলনায় কিছুটা হলেও বেশি। আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি মাইলস্টোন লরেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্র। এখানেও দেখেছি ভোটারের লম্বা সারি। লরেল কেন্দ্রেই কথা হয় একজন গণমাধ্যম কর্মী, একজন পর্যবেক্ষক ও একজন সাধারণ ভোটারের সাথে। গণমাধ্যম কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান খান নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন মাইলস্টোন লরেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে। তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জানান, ভোটের পরিবেশ একদম নির্বিঘœ। এখানে কেউ কাউকে প্রভাবিত করেনি। পরিবেশ, ভোটার উপস্থিতি, নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন মোস্তাফিজুর রহমান খান। তার মতে, নারী পুরষ উভয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছে এটাই হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম ভালো দিক।
উত্তরার দুটি কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস যেভাবে দেখা গেছে তার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মিরপুর সেকশন-২ এ অবস্থিত ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এখানে বাইরে বেশ জটলা দেখা গেলেও কেন্দ্রের ভেতরে যেন অনেকটাই নীরবতা। ভোটার উপস্থিতিও কিছুটা কম। ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় শিক্ষার্থী মেহেরুন নেসা মিমের সাথে। এটার তার জীবনের প্রথম ভোট। ভয়হীন ভোট দিতে পেরে বেশ খুশি মেহেরুন নেসা। তার প্রত্যাশা, যে দলই সকার গঠন করবে তারা যেন দেশের উন্নয়নে মনোযোগি হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটায়। মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে ভোটের পরিবেশ বেশ ভালো। মানুষ যে যার মতো ভোট দিতে পারছে। কেন্দ্র ঘুরে বের হওয়ার পথে কথা হয় বুথ ফেরত মি. আহমেদুল বশির রবিনের সাথে। তার ভাষায়, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এর আগেও তিনি দু’বার ভোট দিয়েছেন। আগের ভোটগুলো একচেটিয়া হলেও এখন ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছে। মি. আহমেদুল বশির রবিনের মতে, আগের এবং আজকের ভোটের মধ্যে এটাই আসল তফাৎ। তার প্রত্যাশা, আগামী সরকার যেন সবার আগে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটান এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, সকালের দিকে কিছুটা কম হলেও ভরদুপুরে ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে মিরপুর-১ নম্বরের মাজার রোডে অবস্থিত হযরত শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে আমাদের সাথে কথা বলেন, মি. মাহফুজ করিম সাহেল। জীবনের প্রথম ভোট দিতে এসেছেন সাহেল। তার মতে, সবচেয়ে ভালোলাগার ব্যাপার হলো কোন প্রকার চাপ ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। সাহেল জানান, আগের রাতে কিছু খারাপ খবর শুনলেও ভোট দিতে এসে তার ধারণা বদলেছে। তার প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার হলো নিরাপত্তা যাতে মানুষ সহজেই এবং ভয়হীনভাবে দিনাতিপাত করতে পারে।
উল্লেখ, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৯৯ আসনে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে ১৭৫৫ জন প্রার্থী।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com