সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
শেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলন নাজিরপুরের মাহামুদকান্দা মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ কমিটিতে আবারও বিনা প্রতিদন্ধিতায় সভাপতি হলেন মিজানুর রহমান দুলাল পাখি কিনেন প্রভাবশালীরা, হরিণ শিকারও বেড়েছে গোদাগাড়ীতে পুরোদমে চলছে বোরো চাষবাদ নালিতাবাড়ীর নিশ্চিন্তপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বরিশালে ৬ষ্ট ও ৭তম শ্রেণির সিলেবাস বাতিলের দাবীতে ইমাম সমিতির বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা অতঃপর জব্দ শিক্ষা যেমন ডিজিটাল হচ্ছে তেমনি শিক্ষকদেরও ডিজিটাল হতে হবে- মনোহরদীতে শিল্পমন্ত্রী হারবাংয়ে জমি দখলে নিতে অসহায় মহিলার বসতভিটা আগুনে পুড়িয়ে দিলো দূর্বৃত্তরা আলফাডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন ও সনদ বিতরণ

তিস্তার চরে ফসলের সমাহার

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০২১

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন স্বপ্ন বুননে ব্যস্ত সময় পার করছেন লালমনিরহাটের চরা লের চাষিরা। জানা গেছে, তিস্তা, ধরলা আর সানিয়াজান নদী বেষ্টিত লালমনিরহাটের প্রায় অর্ধশত চরা ল রয়েছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর বুকে জেগে ওঠা এসব বালুচরে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবারের সদস্যরা।
ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের সব সদস্য একযোগে কৃষি কাজে মাঠে নেমে পড়েন। পুরুষদের সঙ্গে পরিবারের নারী সদস্যরাও গৃহস্থলীর কাজ শেষ করে কৃষিকাজে যোগ দেন। চরা লের বালুময় জমিতে কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলানোই এক মাত্র আয়ের উৎস চরবাসীর। তাই ফসলের ভালো ফলন পেতে দিনভর মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেন তারা।
গতবারের বন্যায় আমন ধানের ক্ষেত বন্যা আর ভারী বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। অনেক কৃষকের গোলা শূন্য হয়ে পড়েছে। খাদ্যের যোগান ও সংসারের খরচ মেটাতে বালুময় জমিতে ফসল ফলানোর সংগ্রামে নেমে পড়েছেন চরবাসী। চরা লের এসব বালু জমিতে প্রচুর সেচ দিয়ে আলু, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ, তামাক, মরিচ, রসুন ও পেঁয়াজসহ নানান জাতের সবজি চাষাবাদ করেন চরবাসী।
তবে সেচ ব্যবস্থা চরা লের চাষাবাদে সবথেকে বড় সমস্যা। বালু জমি হওয়ায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ফসলের ক্ষেতে সেচ দিতে হয় চাষিদের। তার ওপর প্রত্যেক চাষির সেচ পাম্প নেই। ফলে ভাড়ায় চালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি পলিথিনের বিশেষ পাইপ দিয়ে প্রতি ঘণ্টা ১০০ টাকা দামে কিনতে হয় তাদের। যা ব্যয়বহুল ও পরিশ্রমের। এভাবেই কঠোর শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে স্বপ্ন বোনেন চরা লের চাষিরা। শুস্ক মৌসুমের চাষাবাদে অর্জিত আয়ে বন্যাকালীনসহ বাকি সময় চলে চরবাসীর প্রতিটি পরিবারের সংসার।
তিস্তার চরা ল কালীগঞ্জের চর বৈরাতি গ্রামের মমিনুল আনোয়ারা কৃষক দম্পত্তি বলেন, বাপ-দাদার ভিটে-মাটি সব তিস্তার হিংস্র স্রোতে বিলীন হয়েছে। গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান ছিল আমাদের। বর্তমানে কিছুই নেই। যা আছে সবই ধু ধু বালুর চর। সংসার চালাতে কনকনে শীত উপেক্ষা করেই এই বালু চরে পানি সেচ দিয়ে ভুট্টা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর চাষাবাদ করছি। একই চরের আফজাল হোসেন বলেন, একসময় জমি-জিরাত সবই ছিল। তিস্তা তা কেড়ে নিয়েছে। শীত মৌসমে পানি কমে যাওয়ায় সেই বসত-ভিটার জায়গা আবার জেগে উঠেছে। আর সেই বসত-ভিটায় এখন তাংকু (তামাক) আবাদ করছি। তাংকু বিক্রি করে সারা বছর সংসারের খরচ চালাবো। লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক শামীম আফরাফ বলেন, এ বছর কৃষিপণ্যের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা কোনো জমি পতিত রাখছে না। তারা নানা কৌশলে তিস্তার চরগুলোতেও চাষাবাদ করেছেন।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com