বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৬:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
রামগতির মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, জেলেদের মুখে হাসি গঙ্গাচড়ায় বিলীন হওয়ার পথে শিমুল গাছ কঠোর লকডাউনের মধ্যেও বরিশালের লাহারহাটে প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে অবৈধ স্পিডবোট মৌলভীবাজারে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ আরও ২২৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের রেকর্ড ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে ভারতীয় তরল মেডিকেল অক্সিজেন খালাস করে সড়ক পথে নেয়া হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টে ফেনী সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন ‘জয়যুগান্তর পত্রিকার অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান অনুকরণীয়’ যুবলীগ নেতা বক্করের উদ্যোগে আলাউদ্দিন নাসিমের সুস্থতা কামনায় সালাতুন নারিয়া খতম দুর্গাপুরে কমরেড মণি সিংহের ১২০তম জন্মজয়ন্তী পালিত কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত, ৫২ পদের মধ্যে ৩০ টি শূন্য




মেহজাবিন দায় স্বীকার করলেও স্বজনদের ‘সন্দেহ’ শফিকুলকে

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ২১ জুন, ২০২১




রাজধানীর কদমতলীতে বাবা, মা ও বোনকে হত্যার পেছনে মেহজাবিন ইসলাম মুনের ছোট বোনের সঙ্গে স্বামী শফিকুলের পরকীয়া আর সম্পত্তির লোভ কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া মেহজাবিন হত্যার দায় স্বীকার করলেও তার স্বামী শফিকুল নিজে এ হত্যাকা- চালিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মেহজাবিনের দুই খালা। তারা বলছেন, হত্যাকা-ে হয়তো মেহজাবিন ‘সহায়তা’ করে থাকতে পারেন।
তবে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৬ সালে মেহজাবিনকে দিয়ে তার মা ‘অনৈতিক কাজ’ করিয়েছিলেন। বেশ কয়েকবার অন্য পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয় তাকে। ওই ঘটনার পর থেকেই মায়ের প্রতি ক্ষোভের জন্ম হয় তার। পরবর্তীতে বাবা মাসুদ রানাকে বিষয়টি অবহিত করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। সেই ক্ষোভ থেকেই এ ধরনের হত্যার পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন।
শনিবার (১৯ জুন) সকালে কদমতলীর মুরাদপুরে পাঁচ তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (৪৫) এবং তাদের ছোট মেয়ে জান্নাতুল (২০)। সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও মেয়ে তৃপ্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় সেদিনই আটক করা হয় মেহজাবিনকে। হত্যাকা-ের পর তিনি নিজেই ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বলেন, ‘মা-বাবা ও ছোট বোনকে হত্যা করেছি। আপনারা আসেন। এসে আমাকে ধরে নিয়ে যান।’ এ ঘটনায় নিহত মাসুদ রানার বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। সে মামলায় মেহজাবিন ইসলাম মুনের গতকাল (২০ জুন) চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এরপর হাসপাতাল থেকে গতকালই শফিকুলকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আজ (২১ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে এ ঘটনার আগের কয়েক বছরের রোমমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে মেহজাবিনের দুই খালার কাছে। মেহজাবিনের ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে শফিকুলের পরকীয়া এবং মেহজাবিনের এক সময়ের গৃহশিক্ষক আমিনুল হত্যাকা-ের ঘটনাও উঠে এসেছে তাদের বর্ণনায়। গ্রেফতার হওয়া মেহজাবিনের খালা ইয়াসমিন বলেন, শফিকুলের সঙ্গে বিয়ের আগে মেহজাবিন আমিন নামে একজনের কাছে প্রাইভেট পড়ত। সে সময় মেহজাবিনের সঙ্গে প্রেমের পরে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে আমিনের। বিষয়টি জানাজানি হলে দ্রুত শফিকুলের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়। তবে বিয়ের পর শফিকুল সন্দেহ করত, আমিনের সঙ্গে মুনের সম্পর্ক এখনও আছে। এরপর ২০১৬ সালে আমিনকে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনায় যে মামলা হয় তাতে শফিকুল ইসলাম, তার শাশুড়ি মৌসুমী, খালা শাশুড়ি শিউলি আক্তার ও স্ত্রী মেহজাবিনকে আসামি করে মামলা হয়। সে মামলায় তারা জেলও খেটেছেন। মেহজাবিনকে পরবর্তীতে আদালত খালাস দেন। ইয়াসমিন বলেন, মেহজাবিনকে বিয়ের পর শফিকুল অনেক মারপিট করত। শফিকুলের বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে একবার সে পালিয়েও যায়। পরে মীমাংসা করে তারা আবার সংসার শুরু করে। আমার বোনের কোনো ছেলে নেই। এ কারণে শফিকুল ভাবত, জান্নাতুল আর মেহজাবিনকে ‘একসঙ্গে পেলে’ তাদের বাবার সব সম্পত্তি তার হাতের মুঠোয় নেয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার আরেক ভাগনি জান্নাতুলের সঙ্গেও শফিকুল অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। শারীরিক সম্পর্কের পর শফিকুল জান্নাতুলকে বলত ‘তুমি যদি আমার কথা না শোনো তাহলে আমাদের ভিডিওগুলো ফেসবুকে ছেড়ে দেব।’ অন্যদিকে, মেহজাবিনকে বলত, ‘তুমি যদি এগুলো কাউকে বলো তাহলে তোমাকে মেরে ফেলব।’ যেহেতু শফিকুল আগে একটি ‘খুন করেছে’ এজন্য মেহজাবিন ভয় পেত। এছাড়া তাদের বাচ্চাটাকেও জিম্মি করে রাখত, হত্যার ভয় দেখাত।’
ইয়াসমিনের দাবি, ‘তিনজনকে হত্যা করেছে শফিকুল নিজেই। এরপর তাকে যাতে সন্দেহ না করা হয় সেজন্য সেও ওষুধ খেয়ে অসুস্থতার ভান করে। নিজে হত্যার পর সে (শফিকুল) মেহজাবিনকে দিয়ে ৯৯৯-এ ফোন দেয়ায়।’ গ্রেফতার হওয়া মেহজাবিনের আরেক খালা শিউলি আক্তার বলেন, ‘মেহজাবিনের সঙ্গে বিয়ের পর জান্নাতুলকে ব্ল্যাকমেইল করে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল। এরপর আমরা জানার পর জান্নাতুলকে অনেক বুঝিয়েছি। বোঝানোর পর সে অবৈধ সম্পর্কের পথ থেকে সরে আসে। বিষয়টি মেহজাবিন জেনে গেলে শফিকুল নিজের মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখাত। মেহজাবিনকে মারপিটও করত শফিকুল। একপর্যায়ে সম্পত্তি দখলের জন্য শফিকুল জান্নাতুলকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করে। জান্নাতুলের বিয়ের কোনো প্রস্তাব এলে বিয়ে ভেঙে দিতে শুরু করে শফিকুল।’
তিনি বলেন, ‘শফিকুল আমিন হত্যা মামলার আসামি। আমাকেও ওই মামলায় আসামি করা হয়। আমার দুলাভাই (নিহত মাসুদ রানা) বিদেশ থেকে ফেরার পর নানা রকম টালবাহানা করে সম্পত্তি ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতে চায় সে। আমিন হত্যা মামলা শেষ করার জন্য ২০ লাখ টাকা চায় শফিকুল। কিন্তু আমার বোন তাকে টাকা দিতে রাজি হয় না। এজন্য পরিকল্পনা করে মেহজাবিন ও শফিকুল মিলে চা ও পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাদের হত্যা করে। এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। শফিকুলকে রিমান্ডে নিলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। যেভাবে তাদের হাত শক্ত করে বাঁধা ছিল, সেটা মেহজাবিনের একার পক্ষে সম্ভব না। তাদের বাসায় সিসিটিভি আছে সেগুলো চেক করলে ঘটনা জানা যাবে। এই হত্যাকা-ে মেহজাবিনের যদি ৫০ ভাগ দোষ থাকে তাহলে শফিকুলের দোষ ১০০ ভাগ।’ মেহজাবিনকে রবিবার আদালতে নেয়া হয়। তবে রোববার (২০ জুন) আদালত প্রাঙ্গণে মেহজাবিন ইসলাম মুন বলেছেন, ‘পরিবারের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব ছিল। এছাড়া ছোট বোনের সঙ্গে আমার স্বামীর পরকীয়া ছিল। এ কারণে আমি তাদের হত্যা করি। এ হত্যাকা-ের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে আমি মনে করছি।’ হত্যাকা-ের বিষয়ে মেহজাবিন আরও বলেন, ‘তিনজনকে আমি একাই হত্যা করেছি। এ হত্যাকা-ের সাথে কেউ জড়িত নয়। আমি এতে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নই।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কদমতলী থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) জাকির হোসেন বলেন, ‘নিহত মাসুদ রানার বড় ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। সে মামলায় শফিকুলকে এক নম্বর ও মেহজাবিনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।’ কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘গ্রেফতার মেহজাবিন ইসলাম মুনের স্বামী শফিকুলকে হাসপাতাল থেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আজ (সোমবার) তাকে আদালতে হাজির করা হবে।’ তিনি বলেন, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে ঘটে যাওয়া এ হত্যাকা-ের পেছনে আরও কোনও কারণ লুকিয়ে আছে কি-না এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। পরিবারের অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে মামলাটির তদন্ত চলছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com