রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১

আজ ৭ ডিসেম্বর। ভারতের স্বীকৃতির পর এই দিনে রণাঙ্গনে ও রণাঙ্গনের বাইরে প্রতিটি মানুষ অধিকতর সাহস নিয়ে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রয়াস পায়। একাত্তরের এদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, নয়াদিল্লীতে স্বাক্ষর করা হয় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সহযোগিতা চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী, মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ কমান্ডের অধিনায়ক নিযুক্ত হন ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। তিনি জেনারেল মানেকশ’র মাধ্যমে উভয় সরকার প্রধানকে রিপোর্ট করবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়া ভারতের পথ ধরে প্রতিবেশী দেশ ভুটানও এদিন বাংলাদেশেকে স্বীকৃতি দেয়। অন্য দিকে ভারত সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করায় পাকিস্তান সরকার ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
লন্ডনের দ্য সানডে টাইমস’র খবর অনুযায়ী, যুদ্ধের সপ্তম দিনে যশোরে ভারতীয় বাহিনী ও পাকিস্তানী সেনাদের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। ভারতীয় সৈন্য যশোর ক্যান্টনমেন্ট দখল করার পর যুদ্ধ করতে করতে খুলনা সড়ক দিয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকে। তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান ও দৈনিক আজাদ পত্রিকার খবর অনুযায়ী, অবশেষে এদিন সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নূরুল আমিনকে প্রধানমন্ত্রী করে কেন্দ্রে কোয়ালিশন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সহকারী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয় জুলফিকার আলী ভুট্টোকে। পররাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়। গবর্নর ডা. মালিকের আহ্বানে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ভারতীয় হামলার তীব্র নিন্দা করেন। ভারতের ‘বাংলাদেশ’ স্বীকৃতি দানকে পিকিং বেতার ভারতের পূর্ব পাকিস্তান দখলের ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করে। এছাড়া এদিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে অর্থনৈতিক সাহায্য দান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। আর সোভিয়েত নেতা ব্রেজনেভ কোনো প্রকার বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া পাক-ভারত সংঘর্ষের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি মার্কিনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) যা ঘটছে তা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রস্তাবের পক্ষে ১০৪টি এবং বিপক্ষে ১১টি ভোট পড়ে। দশটি দেশ ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকে। সাধারণ পরিষদে গৃহিত প্রস্তাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য ভারত-পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন থাকলেও বাংলাদেশের বিজয়কে তা প্রতিহত করতে পারেনি। এদিন তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন ঘোষণা দেয়, বাংলাশের মুক্তিকামী জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে যায় এমন কোনো প্রস্তাব যদি জাতিসংঘ গ্রহণ করে তাহলে ক্রেমলিন মেনে নেবে না।
বীর যোদ্ধাদের মুক্তি অর্জনের ধারাবাহিকতায় এদিন মুক্ত হয় শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, মাগুরা, গোপালগঞ্জ, নোয়াখালী, ঝিনাইদহ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, কুমিল্লার বরুড়া, সিলেটের বালাগঞ্জ, সুনামগঞ্জের ছাতক, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল। এদিন সিলেটে হেলিকপ্টারযোগে অবতরণ করেছিল ভারতীয় সৈন্যরা। তাদের সহযোগিতায়ই মুক্তিবাহিনী সিলেট, মৌলবীবাজারকে মুক্ত করে। জামালপুর সীমান্তে চলছিল প্রচন্ড যুদ্ধ। মূলত এদিনই পাকবাহিনী পরাজয়বরণ করে।
এদিন ভোরে ভারতীয় ছত্রীসেনা সিলেটের নিকটবর্তী বিমানবন্দর শালুটিকরে অবতরণ করে। তারপর চতুর্দিক থেকে পাকিস্তানী সেনাদের ঘাঁটিগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। দুপুর বেলা-ই এখানকার পাকিস্তানি সেনানায়ক আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এদিন যৌথবাহিনী চান্দিনা ও জাফরগঞ্জ অধিকার করে। বিকেলের দিকে বগুড়া-রংপুর সড়কের করতোয়া সেতু দখল নিয়ে পাকিস্তান ও যৌথবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর সম্মিলিত শক্তি ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ঘিরে ফেলে হানাদারদের ঘাঁটি নোয়াখালীর মাইজদী টাউনহল। চরম আক্রমণে হানাদার বাহিনী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কবি আসাদ চৌধুরীর ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক গ্রন্থে একাত্তরের ৭ ডিসেম্বরের ঘটনাবলী উল্লেখ করে বলা হয়, “মিত্রবাহিনী যখন যশোর ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করলো, দেখলো ফাঁকা। ওরা আগের দিনেই পালিয়েছে। তাই মিত্রবাহিনী আবার ছুটলো ওদের পিছু পিছু খুলনায়। সিলেটেরও পতন হলো ঐদিন। দুপুরের মধ্যেই সিলেটে পাকিস্তানের কমান্ডার আত্মসমর্পণ করলো।” এদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুহার্তো প্রস্তাব দেন যদি ভারত ও পাকিস্তান অনুরোধ করে তাহলে দুই দেশের মধ্যে তিনি মধ্যস্থতা করতে রাজি আছেন। বিশ্বের বহু দেশ এ প্রস্তাবে সায় দেয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বে যতই উদ্বেগ বাড়তে থাকে, বিজয়ও তত ঘনিয়ে আসতে থাকে।-( গ্রন্থনা: ইবরাহীম খলিল )




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com