শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

সঙ্কীর্ণতা সাফল্যের অন্তরায়

প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী:
  • আপডেট সময় সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১

আল্লাহ তায়ালা চান তাঁর বান্দারা তাঁরই মতো হবে উদার ও প্রশস্ততার অধিকারী। আল্লাহ তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। মানুষ অন্যায় করবে আর ধরে ধরে জাহান্নাম পূর্ণ করবেন, এটি আল্লাহর অভিপ্রায় নয়। বান্দা ভালো কাজের নিয়ত করলেই সওয়াব আর কর্ম সম্পাদন করলে তার সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। পক্ষান্তরে মন্দ কাজে নিয়ত করলে কোনো গুনাহ নেই। মন্দ কাজ করলে সমপরিমাণ গুনাহ এবং গুনাহ করে তওবা করলে সেই গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। ছোট গুনাহসমূহ ভালো কাজের বিনিময়ে এমনিতেই ক্ষমা করে দেয়া হয়। এটি বান্দার প্রতি আল্লাহর উদারতা ও ক্ষমাশীলতারই বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহও তাঁর বান্দার মধ্যে উদারতা ও ক্ষমাশীলতার গুণ দেখতে চান। মানুষ তো তাঁরই প্রতিনিধি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও, আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হও।’
আল্লাহপাক তাঁর বান্দাকে কার্পণ্য ও সঙ্কীর্ণতার ঊর্র্ধ্বে দেখতে চান এবং কল্যাণ ও সাফল্য রয়েছে উদারতার মধ্যে। তাঁর বাণী, ‘যে ব্যক্তি স্বীয় মনের সঙ্কীর্ণতা থেকে নিজেকে রক্ষা করল সে-ই কল্যাণ লাভ করল।’ (সূরা তাগাবুন-১৬) ‘যেসব লোককে তাদের মনের সঙ্কীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই সফলকাম।’ (সূরা হাশর-০৯)
শুহ-হা শব্দটি আরবি ভাষায় অতি কৃপণতা ও বখিলি বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। এর সাথে নাফসিহি যোগ হওয়ায় তখন তা দৃষ্টি ও মনের সঙ্কীর্ণতা, পরশ্রীকাতরতা এবং মনের নিচতার সমার্থক হয়ে যায়। যাদের অন্তর বা মন সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ে তারা মানুষের গুণের প্রশংসা করতে পারে না। অন্যকে কিছু দেয়া দূরের কথা, কেউ কাউকে দিক সেটাও পছন্দ করে না। রাসূলুল্লাহ সা: মনের সঙ্কীর্ণতাকে নিকৃষ্টতম স্বভাব বলে গণ্য করেছেন যা সব বিপর্যয়ের উৎস। জাবের ইবনে আবদুুল্লাহ রা: ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা: রাসূলুল্লাহ সা: থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘তোমরা শুহ-হা (সঙ্কীর্ণতা) থেকে নিজেকে রক্ষা করো। কারণ এটিই তোমাদের আগের লোকদের ধ্বংস করেছে। এটিই তাদেরকে পরস্পরের রক্তপাত ঘটাতে এবং অপরের মর্যাদাহানি নিজের জন্য বৈধ মনে করে নিতে প্ররোচিত করেছে। এটিই তাদের জুলুম করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, তাই তারা জুলুম করেছে। পাপের নির্দেশ দিয়েছে, তাই পাপ করেছে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে বলেছে, তাই তারা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছে।’
আবু হোরায়রা রা: বর্ণনা করেছেন। নবী করিম সা: বলেছেন, ‘ঈমান ও মনের সঙ্কীর্ণতা একই সাথে কারো মধ্যে অবস্থান করতে পারে না।’ (ইবনে আবি শায়বা, নাসায়ি)। আবু সাঈদ খুদরি বর্ণনা করেন, নবী সা: বলেছেন, ‘দু’টি স্বভাব এমন যা কোনো মুসলমানের থাকতে পারে না, তা হলো- কৃপণতা ও দুশ্চরিত্রতা।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, বুখারি)
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘কৃপণ ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। টাকা-পয়সা খরচে কৃপণ বড় কথা নয়; মনের কার্পণ্য ভয়ঙ্কর। এখানে মনের সঙ্কীর্ণতা উদারতা-প্রশস্ততার বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে। সঙ্কীর্ণ ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সর্বত্রই সমস্যা সৃষ্টি করে।’
মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ এবং একে অপরের প্রতি জুলুম-নির্যাতনের মূলে রয়েছে সঙ্কীর্ণতা। মানুষকে ক্ষমা করার জন্য প্রয়োজন হৃদয়ের প্রশস্ততা। সঙ্কীর্ণমনা মানুষ ক্ষমা করতে জানে না। সে তার নিজের দোষ দেখে না, শুধুই অপরের দোষ তালাশ করে এবং শ্রেষ্ঠত্বের অহমিকায় অন্যদের ছোট ভাবে। সে শুধু নিজের প্রশংসা শুনতে চায়। তার চতুর্দিকে জড়ো হয় চাটুকার। বাংলাদেশে ক্ষমা নয়, হিংসার চাষ হয় এবং মনে করা হয়, আমিই সেরা। এ যেন আরব জাহেলিয়াতকেও ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে ছিল বংশ পরম্পরায় ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারি; আমাদেরও তাই। নেলসন মেন্ডেলারা অমুসলিম হয়ে যা পারে আমরা পরকালে বিশ^াসী হয়েও তা পারি না। ধিক এসব মুসলিম নামধারী শয়তানের অনুসারীদের। লাইলাতুল কদরসহ বিশেষ বিশেষ রাতে আল্লাহপাক তাঁর অগণিত বান্দাকে ক্ষমা করেন। বাদ থাকে কেবল মুশরিক ও হিংসুক।
যে ক্ষমা করবে সে আল্লাহর ক্ষমা পাবে। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘দুনিয়ায় যে তার ভাইকে ক্ষমা করবে আল্লাহপাক কিয়ামতের দিন তাকে ক্ষমা করবেন।’ হ্যাঁ, প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ আছে কিন্তু একেবারে মেপে মেপে। আল্লাহর বাণী, ‘অন্যায়ের প্রতিবিধান সমপরিমাণ অন্যায়; কিন্তু যে ক্ষমা করে ও সংশোধন করে নেয় তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায়। আল্লাহ জালেমদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা শূরা-৪০)। আমাদের সমাজের ধারণা- ক্ষমা করা দুর্বলতা। কিন্তু আল্লাহ বলেন ভিন্ন। তাঁর বাণী, ‘যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে এবং মানুষদের ক্ষমা করে দেয় (সে যেন জেনে রাখে), অবশ্যই এটা হচ্ছে সাহসিকতার কাজসমূহের অন্যতম।’ (সূরা শূরা-৪৩)। ক্ষমা করা সহজ কাজ নয়। সঙ্কীর্ণদের পক্ষে তো নয়ই, প্রয়োজন মনের ঔদার্য ও আল্লাহপাকের অনুগ্রহ। একজন মুসলমান তার হন্তাকেও ক্ষমা করতে পারে। সেটি আল্লাহপাক সূরা ইয়াসিনে (১৩-৩০) বর্ণনা করেছেন, একটি জনপদে তিনজন রাসূল পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের চেষ্টায় একজন মুসলমান হলে সেই আল্লাহর বান্দা তাঁর জাতির কাছে এসে দাওয়াত দিলে তারা তাঁকে হত্যা করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়, দাখিল হও জান্নাতে। সে সময়ে তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হয়, ‘হায়! আমার জাতির লোকেরা যদি বুঝত কিসের বদৌলতে আমার রব আমাকে ক্ষমা করলেন ও সম্মানিত লোকদের মধ্যে গণ্য করলেন।’ কোনো অভিশাপ নয়, বদদোয়া নয় বরং মৃত্যুর সময়ও হন্তাদের সে কল্যাণ কামনা করেছেন। কত প্রশস্ততার অধিকারী আল্লাহর সেই বান্দা! একজন ঈমানদার ব্যক্তির হত্যার বদৌলতে আল্লাহপাক সেই জাতিকে পুরো ধ্বংস করে দেন। শত জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে আল্লাহর একদল বান্দা মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকেন বলেই তিনি পৃথিবীকে টিকিয়ে রেখেছেন।
আল্লাহপাক আমাদেরকে সঙ্কীর্ণতা মুক্ত করে উদার হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন। লেখক: উপাধ্যক্ষ (অব:), কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com