ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ) শীর্ষক সমাপ্ত প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে প্রক্রিয়াধীন সারাদেশে মোট ৭৭৭ জন শিক্ষকের চাকরি রাজস্বখাতে দ্রুত স্থানান্তর ও ১৮ মাসের বেতন ভাতার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত করা হয়েছে। মানবতার চরম লংঘন, শিক্ষকদের মানববন্ধন জীবন মরণ সন্ধিক্ষণে শিক্ষকবৃন্ধ ” মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের সামনে বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট টিচার্স ফেডারেশন ও আমরা মুক্তিযুদ্ধার সন্তান ফোরামের উদ্যোগে সমাপ্ত স্টেপ প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে প্রক্রিয়াধীন শিক্ষকবৃন্দের ব্যানারে শিক্ষকরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন শেষে দ্রুত বকেয়া বেতন বান্তবায়নের দাবিতে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের শিক্ষক, শেখ মাসুম মিয়া( আরএসি)টেক, ইন্সট্রাক্টর মোঃ আল আমিন, শাহনাজ পারভীন জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর(আর্কিটেকচার)টেক, আবুল কাশেম, মোঃ তোফাজ্জুল হক, সজল চন্দ্র দাস, ছাত্রনেতা নিলয় রহমান ইমন সহ প্রমুখ। মানবন্ধনে শিক্ষকদের সাথে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা এ মানব বন্ধনে অংশ নেয় এসময় তাহারা বলেন ২০১২ সাল হতে তারা মূল শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, স্টেপ প্রকল্পের আওতাধীন মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও এক প্রজ্ঞাপনে তাদেরকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়, দৈবাৎ অজ্ঞাত কারণে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে তাদের বেতন-ভাতাদি বন্ধ রয়েছে, সুদীর্ঘ ১৮ মাস বেতন ভাতাদি না পেয়েও তারা আত্মনিয়োগ করে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিতেছে, এরই মধ্যে সুদীর্ঘ সময় এ পেশায় থেকে তাদের সরকারি চাকরির বয়স সীমা পার হয়ে গেছে, সারাদেশে ৪৯ টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ২৯ টি বিষয়ের উপর পাঠ শিক্ষা দিয়ে দেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করতেছে ছাত্র-ছাত্রীদের, এমন মহান পেশায় থেকে, এমন নিদারুণ পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে, বাড়ি ভাড়া সহ খাবারে পয়সা যোগাতে পারছেনা তারা হিমশিম খাচ্ছে খাবার যোগাতে, তাদের নিজেদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছে না, তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একজন শিক্ষক তার কোলের সন্তানকে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় এবং বেতন ভাতাদি বন্ধ থাকায় বাচ্ছার দুধের টাকা যোগার করতে পারে না বলে জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইন্টিটিউটের অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) মো: আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষকদের প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষকের চাহিদা পূরণ করছে তাহারা, তাহাদের যৌক্তিক দাবী অনতিবিলম্বে বস্তবায়ন ও তাদের চাকরী প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত করতে ও বেতন ভাতাদি দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।