মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

গাজীপুরে শিক্ষক দম্পতি ‘হত্যা পরিকল্পিত দাবি স্বজনদের

রিপন আনসারী গাজীপুর ব্যুরো প্রধান :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

গাজীপুরে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী মাহমুদ আক্তার জলির লাশ তাদের প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার করা হয়। মহানগরীর গাছা থানার বগারটেক এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। শিক্ষক দম্পতি একসঙ্গে গাড়িতে করে বাসার উদ্দেশে স্কুল হয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে। এটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাদের পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীরা। নিহত একেএম জিয়াউর রহমানের ভগ্নিপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন জিয়াউর রহমান। পরে তাকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার স্ত্রী মাহমুদ আক্তার জলিও স্থানীয় আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তারা পরিবার নিয়ে গাছা থানার কামারজুরি এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। আব্দুর রশিদ বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তারা দুজনেই স্কুলে যাওয়া আসা করতেন। বুধবার স্কুল শেষে মামাতো ভাইকে গাড়িতে তুলে জলির স্কুলে যান জিয়াউর। সেখান থেকে জলিকে গাড়িতে তুলে মামাতো ভাইকে রাস্তায় নামিয়ে দেন। পরে তারা বাড়িতে আসার জন্য রওনা দেন। তার ছেলে মিরাজ সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে সাতটার দিকে বাবার মোবাইলে ফোন দেন। কিন্তু বাবার ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার মায়ের ফোনে ফোন দিচ্ছিলেন। পরে মা ফোন ধরে বাসায় আসার কথা জানান। ওই সময় তিনি তার মায়ের কথাবার্তায় ক্লান্তির ভাব বুঝতে পারেন। এরপর আর ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে তারা গাছা থানা, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় যোগাযোগ করেন। রাতভর তারা বিভিন্ন জায়গায় তাদের খোঁজ করেন। নিহত শিক্ষক দম্পত্তির ছেলে একেএম তৌসিফুর রহমান মিরাজ সাংবাদিকদের জানান, সবশেষ গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে বাবার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ওই সময়ই তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। এসময় মায়ের কন্ঠ ভার ছিল। তারপর কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে রাতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। ভোররাতের দিকে গাছা থানার জয়বাংলা সড়কে দক্ষিণ খাইলকুর বগারটেক নামক স্থানে তাদের প্রাাইভেটকার দেখতে পেয়ে কাছে যান। এসময় চালকের আসনে বাবা ও পাশেই মাকে নিস্তেজ অবস্থায় পেয়ে তাদের প্রথমে বোর্ডবাজার এলাকার তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উত্তরার অপর একটি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এরপর দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের মরদেহ গাছা থানায় আনা হয়। নিহত জিয়াউরের বড় ভাই মো. রিপন বলেন, এটি পুরোপুরি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কিছুই নেয়নি। ঘটনাটি যদি ছিনতাইকারী কিংবা দুর্বৃত্তরা ঘটাতো তাহলে টাকা, স্বর্ণ, মোবাইল ও গাড়ি নিয়ে যেত। তার কিছুই তারা নেয়নি। শুধু জান দুইটা নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ বলেন, ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিভাবে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে পুরো ঘটনাটিই রহস্যঘেরা মনে হচ্ছে। বিষক্রিয়া থেকে তাদের মৃত্যু কিনা কিংবা পূর্বশত্রুতাবশত হত্যাকান্ড, এসব বিষয় নিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিশনার আরো বলেন, নিহত প্রধান শিক্ষক ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। তার হাতটিও গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিল। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও পাওয়া গেছে। জিয়াউর রহমান মামুন ও তার স্ত্রীর মানিব্যাগ ও ভ্যানিটি ব্যাগও গাড়িতেই ছিল। সবমিলিয়ে এর রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com