ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

সড়ক দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকার দোয়া ও আমল

প্রতিদিনের জীবনে পথ চলা আমাদের জন্য অপরিহার্য। জীবিকার প্রয়োজনে, পড়াশোনা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা নানা দায়িত্ব পালনে মানুষকে প্রতিনিয়ত ঘর থেকে বের হতে হয়। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মানুষের মনে অজানা এক আতঙ্ক তৈরি করেছে ।
ইসলাম মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই একজন মুসলিমের উচিত দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালকের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাঁর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করা। আর নিরাপদ সফরের জন্য ইসলামী কিছু আদব-আমল রয়েছে।
সেগুলো হলো-
১. ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পঠিতব্য দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘর থেকে বের হওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পড়তে শিক্ষা দিয়েছেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যদি বলে—
: বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ : আল্লাহর নামে বের হলাম। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম।
আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
এই দোয়া পড়ার পর তাকে বলা হয়—তোমার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে, তুমি রক্ষা পেয়েছ এবং শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪২৬)
২. বাহনে ওঠার সময় দোয়া পড়া
গাড়ি, বাস, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো বাহনে ওঠার সময়ও আল্লাহকে স্মরণ করা মুমিনের সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে আরোহণ করো। তারপর তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ করো যখন তোমরা তাতে আরোহণ করো এবং বলো, পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এটিকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন; আমরা তো এটিকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না।
আর আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ১২-১৪)
তাই বাহনে ওঠার সময় পড়তে হবে,: সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাযা, ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনীন। ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকালিবুন।
অর্থ : পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এটিকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন; আমরা নিজেরা এটিকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর অবশ্যই আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী। (সুরা : জুখরুফ)
৩. সফরে নিরাপদ থাকার দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) সফরে বের হলে আল্লাহর কাছে সফরের কল্যাণ ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করতেন। দোয়াটি হলো-: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাযাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা। আল্লাহুম্মা হাওয়িন আলাইনা সাফারানা হাযা, ওয়াতউই আন্না বুদাহু। আল্লাহুম্মা আনতাস-সাহিবু ফিস-সাফারি, ওয়াল-খলিফাতু ফিল-আহলি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন ওয়া‘ছা-ইস-সাফারি, ওয়া কা-আবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল-মালি।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আমরা তোমার কাছে কল্যাণ ও তাকওয়া এবং এমন আমল প্রার্থনা করছি, যা তুমি পছন্দ করো। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফর সহজ করে দাও এবং এর দূরত্ব আমাদের জন্য সংক্ষিপ্ত করে দাও। হে আল্লাহ! সফরে তুমিই আমাদের সঙ্গী এবং পরিবারের কাছে তুমিই আমাদের স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি, দুঃখজনক দৃশ্য এবং পরিবার ও সম্পদের ক্ষেত্রে খারাপ অবস্থায় ফিরে আসা থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪২)
দোয়ার পাশাপাশি সতর্কতাও জরুরি
দোয়া পড়ে গাড়িতে উঠলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ইসলাম কখনো অসতর্কতাকে উৎসাহিত করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫)
তাই নিরাপদ সফরের জন্য চালককে অবশ্যই নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে হবে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে, ঘুমন্ত বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না, সিটবেল্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পথচারীকেও রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তাওয়াক্কুলের অর্থ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করা নয়; বরং যথাসাধ্য চেষ্টা ও সতর্কতা অবলম্বন করে ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করা।
জীবন আল্লাহর দেয়া আমানত
একজন মুমিনের কাছে নিজের জীবন শুধু নিজের সম্পদ নয়; এটি আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাই নিজের জীবনকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি অন্যের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে গাড়ি চালানোও গুরুতর দায়িত্বহীনতা। সড়কে নিরাপদ থাকার জন্য আমাদের তিনটি বিষয় একসঙ্গে গ্রহণ করতে হবে—সচেতনতা, সতর্কতা ও দোয়া। চালক দায়িত্বশীল হবে, যাত্রী নিরাপত্তাবিধি মেনে চলবে এবং প্রত্যেকে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাইবে।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কয়েক মুহূর্ত থেমে আল্লাহকে স্মরণ করা, বাহনে ওঠার সময় তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা করা এবং সফরের সময় তাঁর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রার্থনা করা—এসবই একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
তাই প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মনে রাখা উচিত—আমরা জানি না সামনে কী অপেক্ষা করছে, কিন্তু আমরা জানি, আমাদের রব সবকিছু জানেন এবং তিনিই সর্বোত্তম হেফাজতকারী। সতর্কতা অবলম্বন করে, সুন্নাহর দোয়া পড়ে এবং পূর্ণ তাওয়াক্কুলের সঙ্গে পথ চলাই হোক আমাদের অভ্যাস। আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আমাদের পরিবারকে সব ধরনের দুর্ঘটনা, বিপদ-আপদ ও অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমাদের প্রতিটি সফর নিরাপদ ও কল্যাণময় করুন এবং সুস্থ-সালামতে আপনজনদের কাছে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

সড়ক দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকার দোয়া ও আমল

আপডেট সময় ০৯:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

প্রতিদিনের জীবনে পথ চলা আমাদের জন্য অপরিহার্য। জীবিকার প্রয়োজনে, পড়াশোনা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা নানা দায়িত্ব পালনে মানুষকে প্রতিনিয়ত ঘর থেকে বের হতে হয়। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মানুষের মনে অজানা এক আতঙ্ক তৈরি করেছে ।
ইসলাম মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই একজন মুসলিমের উচিত দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালকের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাঁর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করা। আর নিরাপদ সফরের জন্য ইসলামী কিছু আদব-আমল রয়েছে।
সেগুলো হলো-
১. ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পঠিতব্য দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘর থেকে বের হওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পড়তে শিক্ষা দিয়েছেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যদি বলে—
: বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ : আল্লাহর নামে বের হলাম। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম।
আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
এই দোয়া পড়ার পর তাকে বলা হয়—তোমার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে, তুমি রক্ষা পেয়েছ এবং শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪২৬)
২. বাহনে ওঠার সময় দোয়া পড়া
গাড়ি, বাস, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো বাহনে ওঠার সময়ও আল্লাহকে স্মরণ করা মুমিনের সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে আরোহণ করো। তারপর তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ করো যখন তোমরা তাতে আরোহণ করো এবং বলো, পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এটিকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন; আমরা তো এটিকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না।
আর আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ১২-১৪)
তাই বাহনে ওঠার সময় পড়তে হবে,: সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাযা, ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনীন। ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকালিবুন।
অর্থ : পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এটিকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন; আমরা নিজেরা এটিকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর অবশ্যই আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী। (সুরা : জুখরুফ)
৩. সফরে নিরাপদ থাকার দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) সফরে বের হলে আল্লাহর কাছে সফরের কল্যাণ ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করতেন। দোয়াটি হলো-: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাযাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা। আল্লাহুম্মা হাওয়িন আলাইনা সাফারানা হাযা, ওয়াতউই আন্না বুদাহু। আল্লাহুম্মা আনতাস-সাহিবু ফিস-সাফারি, ওয়াল-খলিফাতু ফিল-আহলি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন ওয়া‘ছা-ইস-সাফারি, ওয়া কা-আবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল-মালি।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আমরা তোমার কাছে কল্যাণ ও তাকওয়া এবং এমন আমল প্রার্থনা করছি, যা তুমি পছন্দ করো। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফর সহজ করে দাও এবং এর দূরত্ব আমাদের জন্য সংক্ষিপ্ত করে দাও। হে আল্লাহ! সফরে তুমিই আমাদের সঙ্গী এবং পরিবারের কাছে তুমিই আমাদের স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি, দুঃখজনক দৃশ্য এবং পরিবার ও সম্পদের ক্ষেত্রে খারাপ অবস্থায় ফিরে আসা থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪২)
দোয়ার পাশাপাশি সতর্কতাও জরুরি
দোয়া পড়ে গাড়িতে উঠলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ইসলাম কখনো অসতর্কতাকে উৎসাহিত করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫)
তাই নিরাপদ সফরের জন্য চালককে অবশ্যই নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে হবে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে, ঘুমন্ত বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না, সিটবেল্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পথচারীকেও রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তাওয়াক্কুলের অর্থ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করা নয়; বরং যথাসাধ্য চেষ্টা ও সতর্কতা অবলম্বন করে ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করা।
জীবন আল্লাহর দেয়া আমানত
একজন মুমিনের কাছে নিজের জীবন শুধু নিজের সম্পদ নয়; এটি আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাই নিজের জীবনকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি অন্যের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে গাড়ি চালানোও গুরুতর দায়িত্বহীনতা। সড়কে নিরাপদ থাকার জন্য আমাদের তিনটি বিষয় একসঙ্গে গ্রহণ করতে হবে—সচেতনতা, সতর্কতা ও দোয়া। চালক দায়িত্বশীল হবে, যাত্রী নিরাপত্তাবিধি মেনে চলবে এবং প্রত্যেকে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাইবে।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কয়েক মুহূর্ত থেমে আল্লাহকে স্মরণ করা, বাহনে ওঠার সময় তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা করা এবং সফরের সময় তাঁর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রার্থনা করা—এসবই একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
তাই প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মনে রাখা উচিত—আমরা জানি না সামনে কী অপেক্ষা করছে, কিন্তু আমরা জানি, আমাদের রব সবকিছু জানেন এবং তিনিই সর্বোত্তম হেফাজতকারী। সতর্কতা অবলম্বন করে, সুন্নাহর দোয়া পড়ে এবং পূর্ণ তাওয়াক্কুলের সঙ্গে পথ চলাই হোক আমাদের অভ্যাস। আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আমাদের পরিবারকে সব ধরনের দুর্ঘটনা, বিপদ-আপদ ও অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমাদের প্রতিটি সফর নিরাপদ ও কল্যাণময় করুন এবং সুস্থ-সালামতে আপনজনদের কাছে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।