ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সন্তানের ঈমান রক্ষায় মাতা-পিতার ৩ করণীয় Logo সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী Logo বোরহানউদ্দিনে স্কিল প্লাস একাডেমির উদ্বোধন করলেন এমপি হাফিজ ইব্রাহিম Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায়

অধীনস্থের ওপর জুলুমের ভয়াবহ পরিণতি

  • ইসলাম ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০২:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • 83

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু মাসউদ বদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি আমার এক দাসকে চাবুক দিয়ে প্রহার করলছিলাম। তখন আমার পিছন দিক থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম।
শোনো, হে আবু মাসউদ, তখন অতিরিক্ত রাগের কারণে আমি তার কথা বুঝতে পারিনি। এরপরে যখন তিনি আমার কাছাকাছি হলেন, বুঝতে পারলাম যে, তিনি মহানবী (সা.)। মহানবী (সা.) আমাকে বললেন, জেনে রাখো, হে আবু মাসউদ, তার ওপর তোমার যে পরিমাণ ক্ষমতা রয়েছে, তার চেয়ে অনেক ক্ষমতা তোমার ওপর আল্লাহর আছে। তখন আমি বললাম, আর কোনোদিন আমি গোলামকে প্রহার করব না।

এক বর্ণনায় আছে-মহানবী (সা.)-এর ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর ওয়াস্তে আমি তাকে মুক্ত করে দিলাম। মহানবী (সা.) বললেন, হ্যাঁ, তুমি যদি মুক্ত না করতে, তাহলে জাহান্নাম তোমাকে গ্রাস করত বা জাহান্নামের আগুন তোমাকে স্পর্শ করত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৩০৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৩৫১)
শিক্ষা ও বিধান
১. অতিরিক্ত রাগ মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।আবু মাসউদ (রা.)-ও রাগের অবস্থায় দাসকে প্রহার করছিলেন। নবীজি (সা.) তাঁকে সতর্ক করে বুঝিয়ে দেন—রাগের কারণে অন্যের ওপর জুলুম করা কোনোভাবেই ঠিক নয়।
২. ক্ষমতা আল্লাহর দেওয়া আমানত। নবীজি (সা.) বলেন, ‘তার ওপর তোমার যে পরিমাণ ক্ষমতা রয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতা তোমার ওপর আল্লাহর আছে।’ এটি হাদিসটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, প্রতিষ্ঠান বা সমাজে যার হাতে যতটুকু ক্ষমতা আছে, তাকে মনে রাখতে হবে।
৩. অধীনস্থদের সঙ্গে সদয় আচরণ করতে হবে। তাই কর্মচারী, শ্রমিক, অধীনস্থ, সন্তান কিংবা দুর্বল—কারও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার ওপর জুলুম করা যাবে না।
৪. দুর্বল মানুষের ওপর শক্তির অপব্যবহার বড় অন্যায়। যে ব্যক্তি প্রতিবাদ করতে পারে না, নিজের অধিকার আদায় করতে পারে না কিংবা ক্ষমতাবানের ওপর নির্ভরশীল—তার ওপর অত্যাচার করা আরও গুরুতর অন্যায়।
৫. নিজের ভুল বুঝতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন হওয়া উচিত। নবীজি (সা.)-এর সতর্কবাণী শুনে আবু মাসউদ (রা.) সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল উপলব্ধি করেন। তিনি বলেন, ‘আর কোনোদিন আমি গোলামকে প্রহার করব না।’
৬. আল্লাহর শাস্তির ভয় মানুষকে জুলুম থেকে বিরত রাখে। নবীজি (সা.) তাঁকে সতর্ক করেন যে, তিনি যদি তাকে মুক্ত না করতেন, তবে জাহান্নামের আগুন তাঁকে স্পর্শ করত। এটি দেখায়—মজলুমের ওপর জুলুমের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
এই হাদিস আমাদের সামনে একটি গভীর সত্য তুলে ধরে—মানুষের ওপর ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতা চিরস্থায়ী। আজ যে ব্যক্তি কারও ওপর কর্তৃত্ব করছে, কাল তাকেই তার প্রতিটি আচরণের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সন্তানের ঈমান রক্ষায় মাতা-পিতার ৩ করণীয়

অধীনস্থের ওপর জুলুমের ভয়াবহ পরিণতি

আপডেট সময় ০২:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু মাসউদ বদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি আমার এক দাসকে চাবুক দিয়ে প্রহার করলছিলাম। তখন আমার পিছন দিক থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম।
শোনো, হে আবু মাসউদ, তখন অতিরিক্ত রাগের কারণে আমি তার কথা বুঝতে পারিনি। এরপরে যখন তিনি আমার কাছাকাছি হলেন, বুঝতে পারলাম যে, তিনি মহানবী (সা.)। মহানবী (সা.) আমাকে বললেন, জেনে রাখো, হে আবু মাসউদ, তার ওপর তোমার যে পরিমাণ ক্ষমতা রয়েছে, তার চেয়ে অনেক ক্ষমতা তোমার ওপর আল্লাহর আছে। তখন আমি বললাম, আর কোনোদিন আমি গোলামকে প্রহার করব না।

এক বর্ণনায় আছে-মহানবী (সা.)-এর ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর ওয়াস্তে আমি তাকে মুক্ত করে দিলাম। মহানবী (সা.) বললেন, হ্যাঁ, তুমি যদি মুক্ত না করতে, তাহলে জাহান্নাম তোমাকে গ্রাস করত বা জাহান্নামের আগুন তোমাকে স্পর্শ করত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৩০৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৩৫১)
শিক্ষা ও বিধান
১. অতিরিক্ত রাগ মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।আবু মাসউদ (রা.)-ও রাগের অবস্থায় দাসকে প্রহার করছিলেন। নবীজি (সা.) তাঁকে সতর্ক করে বুঝিয়ে দেন—রাগের কারণে অন্যের ওপর জুলুম করা কোনোভাবেই ঠিক নয়।
২. ক্ষমতা আল্লাহর দেওয়া আমানত। নবীজি (সা.) বলেন, ‘তার ওপর তোমার যে পরিমাণ ক্ষমতা রয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতা তোমার ওপর আল্লাহর আছে।’ এটি হাদিসটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, প্রতিষ্ঠান বা সমাজে যার হাতে যতটুকু ক্ষমতা আছে, তাকে মনে রাখতে হবে।
৩. অধীনস্থদের সঙ্গে সদয় আচরণ করতে হবে। তাই কর্মচারী, শ্রমিক, অধীনস্থ, সন্তান কিংবা দুর্বল—কারও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার ওপর জুলুম করা যাবে না।
৪. দুর্বল মানুষের ওপর শক্তির অপব্যবহার বড় অন্যায়। যে ব্যক্তি প্রতিবাদ করতে পারে না, নিজের অধিকার আদায় করতে পারে না কিংবা ক্ষমতাবানের ওপর নির্ভরশীল—তার ওপর অত্যাচার করা আরও গুরুতর অন্যায়।
৫. নিজের ভুল বুঝতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন হওয়া উচিত। নবীজি (সা.)-এর সতর্কবাণী শুনে আবু মাসউদ (রা.) সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল উপলব্ধি করেন। তিনি বলেন, ‘আর কোনোদিন আমি গোলামকে প্রহার করব না।’
৬. আল্লাহর শাস্তির ভয় মানুষকে জুলুম থেকে বিরত রাখে। নবীজি (সা.) তাঁকে সতর্ক করেন যে, তিনি যদি তাকে মুক্ত না করতেন, তবে জাহান্নামের আগুন তাঁকে স্পর্শ করত। এটি দেখায়—মজলুমের ওপর জুলুমের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
এই হাদিস আমাদের সামনে একটি গভীর সত্য তুলে ধরে—মানুষের ওপর ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতা চিরস্থায়ী। আজ যে ব্যক্তি কারও ওপর কর্তৃত্ব করছে, কাল তাকেই তার প্রতিটি আচরণের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে।