ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর
বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি

র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ বিল পাস

বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মধ্যে জাতীয় সংসদে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিন বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ পর্যায়ে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। গত বুধবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন জয়নুল আবেদীন। বিলের ওপর সাতটি আপত্তি জানায় বিরোধী দল।
নোট অব ডিসেন্টে বিরোধী সদস্যরা বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে যথাযথ জাতীয় পরামর্শ ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের আপত্তির মধ্যে রয়েছে বিলটি দ্রুত পাস, র‌্যাবের জনবল-সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তর, অভিযোগ তদন্তের কাঠামো, গ্রেফতার ও আটকের ক্ষমতা, প্রশিক্ষণ এবং বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী সদস্যদের সুরক্ষা। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ স্বাধীন নজরদারি
ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন এসআরবি র‌্যাবেরই নতুন নাম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ জন্য রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বিস্তৃত পরামর্শের প্রস্তাব দেয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি বিল, ২০২৬’ পাসের আগে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা বলেছেন, র‌্যাবের জনবল, স্থাপনা, সম্পদ ও কার্যক্রমের বড় অংশ নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করে শুধু নাম পরিবর্তন করলে অতীতের গুম, হেফাজতে নির্যাতন, বেআইনি আটক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের অবসান হবে না। তাদের দাবি, নতুন বাহিনী গঠনের আগে স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং অংশীজনদের মতামত নিতে হবে। বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। তবে, সরকারি দলের দাবি র‌্যাবের মতো আরেকটি বিশেষায়িত সংস্থার প্রয়োজন আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব আপত্তির জবাবে বলেছেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট না করে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিলটি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা ও পরামর্শ হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের পর স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার জন্য সময় বাড়ানো হয়েছিল। চার কার্যদিবস আলোচনা হয়েছে এবং স্থায়ী কমিটির রিপোর্টেই তার প্রতিফলন রয়েছে।
তিনি বলেন, বিলটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং বাইরের অংশীজনদের মতামতও নেয়া হয়েছে। বিরোধী সদস্যদের দেয়া নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে এবং তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংশোধনীও আনা হয়েছে।
ধারা ২৪-এর অভিযোগ প্রতিকার কমিটি নিয়ে আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই কমিটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের জন্য নয়; এটি বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য। কোনো সদস্য অপরাধ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিষয়ে বিলে স্পষ্ট বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর তাকে অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানার হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দিতে হবে। র‌্যাব থেকে এসআরবিতে সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে এবং এসআরবি হবে নতুন একটি বাহিনী। তবে রাষ্ট্রের অস্ত্র, সরঞ্জাম, স্থাপনা ও অন্যান্য সম্পদ নষ্ট বা নিলামে দিয়ে দেয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং নতুন করে একই সরঞ্জাম কিনে অর্থ অপচয় ঠেকাতেই প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব সম্পদ নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, র‌্যাব মূলত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের একটি ধারার অধীনে পরিচালিত হতো। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ওই কাঠামোর ত্রুটি ধরা পড়েছে। তাই র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন আইনগত কাঠামোর অধীনে এসআরবি গঠন করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সাইবার স্পেস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীর অধীনে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সমাজের প্রয়োজন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতার ভিত্তিতেই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি

র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ বিল পাস

আপডেট সময় ১২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মধ্যে জাতীয় সংসদে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিন বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ পর্যায়ে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। গত বুধবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন জয়নুল আবেদীন। বিলের ওপর সাতটি আপত্তি জানায় বিরোধী দল।
নোট অব ডিসেন্টে বিরোধী সদস্যরা বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে যথাযথ জাতীয় পরামর্শ ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের আপত্তির মধ্যে রয়েছে বিলটি দ্রুত পাস, র‌্যাবের জনবল-সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তর, অভিযোগ তদন্তের কাঠামো, গ্রেফতার ও আটকের ক্ষমতা, প্রশিক্ষণ এবং বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী সদস্যদের সুরক্ষা। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ স্বাধীন নজরদারি
ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন এসআরবি র‌্যাবেরই নতুন নাম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ জন্য রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বিস্তৃত পরামর্শের প্রস্তাব দেয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি বিল, ২০২৬’ পাসের আগে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা বলেছেন, র‌্যাবের জনবল, স্থাপনা, সম্পদ ও কার্যক্রমের বড় অংশ নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করে শুধু নাম পরিবর্তন করলে অতীতের গুম, হেফাজতে নির্যাতন, বেআইনি আটক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের অবসান হবে না। তাদের দাবি, নতুন বাহিনী গঠনের আগে স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং অংশীজনদের মতামত নিতে হবে। বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। তবে, সরকারি দলের দাবি র‌্যাবের মতো আরেকটি বিশেষায়িত সংস্থার প্রয়োজন আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব আপত্তির জবাবে বলেছেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট না করে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিলটি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা ও পরামর্শ হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের পর স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার জন্য সময় বাড়ানো হয়েছিল। চার কার্যদিবস আলোচনা হয়েছে এবং স্থায়ী কমিটির রিপোর্টেই তার প্রতিফলন রয়েছে।
তিনি বলেন, বিলটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং বাইরের অংশীজনদের মতামতও নেয়া হয়েছে। বিরোধী সদস্যদের দেয়া নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে এবং তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংশোধনীও আনা হয়েছে।
ধারা ২৪-এর অভিযোগ প্রতিকার কমিটি নিয়ে আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই কমিটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের জন্য নয়; এটি বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য। কোনো সদস্য অপরাধ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিষয়ে বিলে স্পষ্ট বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর তাকে অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানার হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দিতে হবে। র‌্যাব থেকে এসআরবিতে সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে এবং এসআরবি হবে নতুন একটি বাহিনী। তবে রাষ্ট্রের অস্ত্র, সরঞ্জাম, স্থাপনা ও অন্যান্য সম্পদ নষ্ট বা নিলামে দিয়ে দেয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং নতুন করে একই সরঞ্জাম কিনে অর্থ অপচয় ঠেকাতেই প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব সম্পদ নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, র‌্যাব মূলত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের একটি ধারার অধীনে পরিচালিত হতো। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ওই কাঠামোর ত্রুটি ধরা পড়েছে। তাই র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন আইনগত কাঠামোর অধীনে এসআরবি গঠন করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সাইবার স্পেস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীর অধীনে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সমাজের প্রয়োজন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতার ভিত্তিতেই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়।