ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন Logo ‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী Logo বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন Logo আমরা যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. শফিকুর রহমান এমপি Logo অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মদিন আজ Logo সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত প্রবারণা পূর্ণিমা Logo জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম Logo টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির Logo বাংলাদেশে পলাতক অপরাধীকে কোন অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা

খুলনার পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে জিয়া বিশ্বাসের অবদান স্থানীয় কৃষিতে এক দারুণ অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিকূল লবণাক্ত আবহাওয়া ও মাটিকে জয় করে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা আবাদ করে সাফল্য লাভ করেছেন। সাধারণত পাইকগাছা অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার কারণে ঐতিহ্যগত ফসলের বাইরে ভিন্ন কিছু চাষ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করে তিনি এই অসাধ্য সাধন করেছেন। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ানের মটবাটি গ্রামের সভ্রান্ত ও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস। তিনি সাবেক ব্যাংকার, সৌখিন ও রুচিশীল মানুষ হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তিনি সখের বসে মাল্টা বাগান করলেও পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে রুপ নিয়েছে। জানাগেছে, মটবাটি বাড়ির পাশে নিজের পাঁচ বিঘা জমিতে মালটা বাগান তৈরি করেছেনে। বাগানে ৭০১টি মাল্টা গাছ রয়েছে। মাল্টা বাগান দেখাশুনা ও পরিচর্যা করেন আর এক সফল কৃষক লুৎফর রহমান সানা (লুতু)। প্রথম দিকে বিপনন ব্যাবস্থা ভালো না থাকায় আশানারুপ লাভ হয়নি। তবে বিগত বছর থেকে বাগানের মাল্টা বিক্রি করে আশানারুপ লাভ হচ্ছে। বাগানের প্রতিটা গাছে মাল্টায় ভরে আছে। মাল্টার ভরে গাছের ডাল মাটিতে নুয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে মাল্টা বাগানের ফল প্রায় ৭লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এবছর মাল্টার ব্যাপক চাহিদা ও মূল্য বেশি থাকায় ক্রয়কৃত বাগানের মাল্টা প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী উচ্চ ফলনশীল ও খরাসহিষ্ণু বারি মাল্টা-১ জাতটি চাষের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এই জাতের মাল্টা আকারে বড়, রসালো এবং অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে থাকে। লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা এড়াতে উঁচু জমি বা নিপুণভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করে বেলে-দোআঁশ মাটিতে মাল্টা চাষ করা হয়। সঠিক পরিমাণে গোবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি এবং পটাশ সার ব্যবহার করে গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করা হয়। মাল্টা চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। একবার গাছ বড় হয়ে ফল দেওয়া শুরু করলে দীর্ঘ কয়েক বছর পর্যন্ত সেখান থেকে নিয়মিত ফলন পাওয়া যায়, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণে ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। জিয়া বিশ্বাসের এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন পাইকগাছার আরও অনেক তরুণ ও কৃষক ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদের পাশাপাশি মালটা ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন

উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা

আপডেট সময় ০৭:৫৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে জিয়া বিশ্বাসের অবদান স্থানীয় কৃষিতে এক দারুণ অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিকূল লবণাক্ত আবহাওয়া ও মাটিকে জয় করে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা আবাদ করে সাফল্য লাভ করেছেন। সাধারণত পাইকগাছা অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার কারণে ঐতিহ্যগত ফসলের বাইরে ভিন্ন কিছু চাষ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করে তিনি এই অসাধ্য সাধন করেছেন। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ানের মটবাটি গ্রামের সভ্রান্ত ও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস। তিনি সাবেক ব্যাংকার, সৌখিন ও রুচিশীল মানুষ হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তিনি সখের বসে মাল্টা বাগান করলেও পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে রুপ নিয়েছে। জানাগেছে, মটবাটি বাড়ির পাশে নিজের পাঁচ বিঘা জমিতে মালটা বাগান তৈরি করেছেনে। বাগানে ৭০১টি মাল্টা গাছ রয়েছে। মাল্টা বাগান দেখাশুনা ও পরিচর্যা করেন আর এক সফল কৃষক লুৎফর রহমান সানা (লুতু)। প্রথম দিকে বিপনন ব্যাবস্থা ভালো না থাকায় আশানারুপ লাভ হয়নি। তবে বিগত বছর থেকে বাগানের মাল্টা বিক্রি করে আশানারুপ লাভ হচ্ছে। বাগানের প্রতিটা গাছে মাল্টায় ভরে আছে। মাল্টার ভরে গাছের ডাল মাটিতে নুয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে মাল্টা বাগানের ফল প্রায় ৭লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এবছর মাল্টার ব্যাপক চাহিদা ও মূল্য বেশি থাকায় ক্রয়কৃত বাগানের মাল্টা প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী উচ্চ ফলনশীল ও খরাসহিষ্ণু বারি মাল্টা-১ জাতটি চাষের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এই জাতের মাল্টা আকারে বড়, রসালো এবং অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে থাকে। লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা এড়াতে উঁচু জমি বা নিপুণভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করে বেলে-দোআঁশ মাটিতে মাল্টা চাষ করা হয়। সঠিক পরিমাণে গোবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি এবং পটাশ সার ব্যবহার করে গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করা হয়। মাল্টা চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। একবার গাছ বড় হয়ে ফল দেওয়া শুরু করলে দীর্ঘ কয়েক বছর পর্যন্ত সেখান থেকে নিয়মিত ফলন পাওয়া যায়, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণে ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। জিয়া বিশ্বাসের এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন পাইকগাছার আরও অনেক তরুণ ও কৃষক ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদের পাশাপাশি মালটা ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।