ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন এবং জাতীয়তাবাদী ফোরাম এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে র্যালি ও গণজমায়েতে অংশগ্রহণ Logo খুলনা অঞ্চলের শাখাসমূহ নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ Logo অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিলেই সিসার বিষ! Logo ‘হাবিবি প্যাক’ চালু, সিনেটর নির্বাচিত হয়েই চমক এল-সায়েদের Logo মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর: বাংলাদেশ-জাপান যৌথ ঘোষণায় বিগ-বি প্রকল্প Logo ইসরায়েলের ইহুদিদের উপর ভরসা বাড়ছে ভারতের Logo আগাম জাতের আমন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত লালমনিরহাটের কৃষকরা Logo আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী Logo কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী Logo সাদমানকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

‘এই মাটি কারো দাস হবে না’

  • বিনোদন
  • আপডেট সময় ০৮:৫১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • 11

সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, সাংস্কৃতিক ব্রেইনওয়াশের মাধ্যমে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের পেছনে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল। তার মতে, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে দেবতুল্য করে দেখানোর মধ্য দিয়ে এই ব্রেইনওয়াশের প্রক্রিয়া জোরালো হয়েছে।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন ফারুকী। সেখানে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে কিছু মিল তুলে ধরেন। তার ভাষায়, দুটি ঘটনার মধ্যেই একটি অভিন্ন সুর রয়েছে – ‘এই মাটি কারো দাস হবে না’।
তিনি স্ট্যাটাসের শুরুতেই বলেন, ‘রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের অ‍্যাপ্রুভাল রেট অনেক ভাবে দেখা যায়। জিয়াউর রহমানের অ‍্যাপ্রুভাল রেট তার জানাযার নামাজে মানুষের ঢল।’
ফারুকী লিখেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনা চরিত্র, ত্যাগ ও ব্যাপ্তির দিক থেকে আলাদা হলেও দাসত্ব ঠেকানো কিংবা দাসত্ব থেকে মুক্তির প্রশ্নে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে সমাজের একটি ক্ষুদ্র শ্রেণির মানুষের কাছে দুটি ঘটনাই অপছন্দের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সাত নভেম্বর ১৯৭৫-য়ে যদি দাসত্ব থেকে মুক্তিই পাইয়া থাকি তাহলে ২০০৮-২৪-য়ে আইসা আমরা আবার দাস হইলাম কিভাবে?’
স্ট্যাটাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান স্বীকার করতে হবে। একইভাবে রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদানও স্বীকার করা প্রয়োজন।
তার দাবি, বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান ভিত্তি, শিক্ষা ও নারী অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সাংস্কৃতিকভাবে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। ফারুকীর মতে, দেশের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন পরিচয় তৈরির চেষ্টা ছিল এই জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে।
তবে ফারুকীর অভিযোগ, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক উপাদানে জিয়াউর রহমানকে বেশির ভাগ সময় নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমানকে দেবতুল্য করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘দেখবেন জিয়াকে আমাদের কালচারাল অঙ্গনে, আমাদের কালচারাল প্রোডাক্টে একটা নেগেটিভ চরিত্র হিসাবেই মোস্টলি আঁকা হইছে। আর মুজিবকে আঁকা হইছে দেবতা হিসাবে।’
তার ভাষ্য, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর এই সাংস্কৃতিক ব্রেইনওয়াশের প্রক্রিয়া আরও জোরালো হয়। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তী সময়ে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের পেছনে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্মতি তৈরি হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও একই ধরনের ব্রেইনওয়াশ কার্যকর হবে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে ফারুকী বলেন, এত দ্রুত তা সম্ভব হবে না। কারণ, গত ১৬ বছরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তৈরি বিভিন্ন তথ্যচিত্রের সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা ২০ কোটির বেশি বলে দাবি করেন তিনি। মানুষের মুঠোফোনে জুলাইয়ের স্মৃতি ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন এই নির্মাতা।
তবে এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ফারুকী। তার মতে, সময়ের সঙ্গে মানুষের তাজা স্মৃতি মুছে যাওয়ার আগেই এসব ঘটনা সম্মিলিত স্মৃতিতে ধরে রাখা জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত সাংস্কৃতিক রোডম্যাপ বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন এবং জাতীয়তাবাদী ফোরাম এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে র্যালি ও গণজমায়েতে অংশগ্রহণ

‘এই মাটি কারো দাস হবে না’

আপডেট সময় ০৮:৫১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, সাংস্কৃতিক ব্রেইনওয়াশের মাধ্যমে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের পেছনে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল। তার মতে, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে দেবতুল্য করে দেখানোর মধ্য দিয়ে এই ব্রেইনওয়াশের প্রক্রিয়া জোরালো হয়েছে।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন ফারুকী। সেখানে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে কিছু মিল তুলে ধরেন। তার ভাষায়, দুটি ঘটনার মধ্যেই একটি অভিন্ন সুর রয়েছে – ‘এই মাটি কারো দাস হবে না’।
তিনি স্ট্যাটাসের শুরুতেই বলেন, ‘রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের অ‍্যাপ্রুভাল রেট অনেক ভাবে দেখা যায়। জিয়াউর রহমানের অ‍্যাপ্রুভাল রেট তার জানাযার নামাজে মানুষের ঢল।’
ফারুকী লিখেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনা চরিত্র, ত্যাগ ও ব্যাপ্তির দিক থেকে আলাদা হলেও দাসত্ব ঠেকানো কিংবা দাসত্ব থেকে মুক্তির প্রশ্নে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে সমাজের একটি ক্ষুদ্র শ্রেণির মানুষের কাছে দুটি ঘটনাই অপছন্দের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সাত নভেম্বর ১৯৭৫-য়ে যদি দাসত্ব থেকে মুক্তিই পাইয়া থাকি তাহলে ২০০৮-২৪-য়ে আইসা আমরা আবার দাস হইলাম কিভাবে?’
স্ট্যাটাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান স্বীকার করতে হবে। একইভাবে রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদানও স্বীকার করা প্রয়োজন।
তার দাবি, বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান ভিত্তি, শিক্ষা ও নারী অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সাংস্কৃতিকভাবে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। ফারুকীর মতে, দেশের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন পরিচয় তৈরির চেষ্টা ছিল এই জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে।
তবে ফারুকীর অভিযোগ, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক উপাদানে জিয়াউর রহমানকে বেশির ভাগ সময় নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমানকে দেবতুল্য করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘দেখবেন জিয়াকে আমাদের কালচারাল অঙ্গনে, আমাদের কালচারাল প্রোডাক্টে একটা নেগেটিভ চরিত্র হিসাবেই মোস্টলি আঁকা হইছে। আর মুজিবকে আঁকা হইছে দেবতা হিসাবে।’
তার ভাষ্য, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর এই সাংস্কৃতিক ব্রেইনওয়াশের প্রক্রিয়া আরও জোরালো হয়। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তী সময়ে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের পেছনে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্মতি তৈরি হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও একই ধরনের ব্রেইনওয়াশ কার্যকর হবে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে ফারুকী বলেন, এত দ্রুত তা সম্ভব হবে না। কারণ, গত ১৬ বছরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তৈরি বিভিন্ন তথ্যচিত্রের সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা ২০ কোটির বেশি বলে দাবি করেন তিনি। মানুষের মুঠোফোনে জুলাইয়ের স্মৃতি ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন এই নির্মাতা।
তবে এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ফারুকী। তার মতে, সময়ের সঙ্গে মানুষের তাজা স্মৃতি মুছে যাওয়ার আগেই এসব ঘটনা সম্মিলিত স্মৃতিতে ধরে রাখা জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত সাংস্কৃতিক রোডম্যাপ বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।