ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাংলাদেশ ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে প্রাক-অর্থায়ন স্কীম বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর Logo বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র ও রপ্তানি প্রবেশদ্বার হতে চায় বাংলাদেশ Logo সিপাহি-জনতার বিপ্লব : সংবাদপত্রের পাতায় সেই দিনটি Logo উপকূলীয় অঞ্চলে চাষাবাদে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এলো উচ্চ ফলনশীল ‘ব্রি ধান- Logo শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিফ প্রসিকিউটরের চিঠি Logo গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সচেষ্ট সরকার, অস্থিরতার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo গ্যাস সরবরাহ চারদিন বন্ধ থাকবে এমন সংবাদ বিভ্রান্তিকর : পেট্রোবাংলা Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo পুলিশের জন্য কেনা হবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যানসহ ৫৮৩০ বাহন Logo কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

দাগনভূঞায় পৌরকর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন

অস্বাভাবিক হারে পৌরকর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় দাগনভূঞা জিরো পয়েন্ট স্কুল মার্কেটের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না করেই পৌরকর কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। বক্তারা বলেন, দাগনভূঞা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সড়কবাতির সংকট এবং সুপেয় পানির সমস্যাসহ নানা নাগরিক দুর্ভোগ বিরাজ করছে। এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান না করেই হঠাৎ করে করের হার বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে বর্ধিত কর প্রত্যাহার করে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী কর আদায়ের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য দেন দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা থাকলেও দাগনভূঞায় নাগরিক সেবার চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। বছরের পর বছর মানুষ ভাঙা রাস্তায় চলাচল করছে, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ হয় না, সড়কবাতির অভাব রয়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পৌরকর বৃদ্ধি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অযৌক্তিক। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ ফুটন হোসেন বলেন, আমি টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে থাকি। আগে ৫০০ টাকা কর দিতাম, এখন ১৫ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে। দিন এনে দিন খাওয়া একজন মানুষের পক্ষে এ কর পরিশোধ করা অসম্ভব। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এক বছর আগে একই বাড়ির জন্য আমার পৌরকর ছিল ৫৪০ টাকা। এখন ১৬ হাজার টাকার বেশি করের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এত টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিবি রহিমা জানান, এক বছর আগে তার গৃহকর ছিল ৯০০ টাকা, যা এখন ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আকতারুনের কর ৩৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ধরনের অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধির নোটিশ পাওয়া অন্তত ১০ জন বাড়িমালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশেরই কর পরিশোধের সামর্থ্য নেই। তারা কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। মানববন্ধনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা ইছমাইল কেরানী বলেন, পৌরবাসীর আয়-সামর্থ্য ও বাস্তব অবস্থা বিবেচনা না করেই কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে বর্ধিত কর প্রত্যাহার করে যৌক্তিক হারে কর নির্ধারণ করতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে দাগনভূঞা পৌরসভার প্রশাসক শাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে প্রাক-অর্থায়ন স্কীম বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর

দাগনভূঞায় পৌরকর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০২:৩৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

অস্বাভাবিক হারে পৌরকর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় দাগনভূঞা জিরো পয়েন্ট স্কুল মার্কেটের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না করেই পৌরকর কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। বক্তারা বলেন, দাগনভূঞা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সড়কবাতির সংকট এবং সুপেয় পানির সমস্যাসহ নানা নাগরিক দুর্ভোগ বিরাজ করছে। এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান না করেই হঠাৎ করে করের হার বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে বর্ধিত কর প্রত্যাহার করে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী কর আদায়ের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য দেন দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা থাকলেও দাগনভূঞায় নাগরিক সেবার চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। বছরের পর বছর মানুষ ভাঙা রাস্তায় চলাচল করছে, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ হয় না, সড়কবাতির অভাব রয়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পৌরকর বৃদ্ধি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অযৌক্তিক। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ ফুটন হোসেন বলেন, আমি টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে থাকি। আগে ৫০০ টাকা কর দিতাম, এখন ১৫ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে। দিন এনে দিন খাওয়া একজন মানুষের পক্ষে এ কর পরিশোধ করা অসম্ভব। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এক বছর আগে একই বাড়ির জন্য আমার পৌরকর ছিল ৫৪০ টাকা। এখন ১৬ হাজার টাকার বেশি করের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এত টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিবি রহিমা জানান, এক বছর আগে তার গৃহকর ছিল ৯০০ টাকা, যা এখন ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আকতারুনের কর ৩৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ধরনের অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধির নোটিশ পাওয়া অন্তত ১০ জন বাড়িমালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশেরই কর পরিশোধের সামর্থ্য নেই। তারা কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। মানববন্ধনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা ইছমাইল কেরানী বলেন, পৌরবাসীর আয়-সামর্থ্য ও বাস্তব অবস্থা বিবেচনা না করেই কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে বর্ধিত কর প্রত্যাহার করে যৌক্তিক হারে কর নির্ধারণ করতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে দাগনভূঞা পৌরসভার প্রশাসক শাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।