ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা Logo সতবিন্দর এবং হরজিৎ: ভারতকে না জানিয়েই যাদের শিরচ্ছেদ করে সউদী Logo একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: বিরোধীদলীয় নেতা Logo বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘ সংস্কারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন হুমায়ুন Logo লক্ষ্মীপূজা আজ Logo শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, থাকছে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ Logo বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর Logo নতুন কোচ মাকেতার ক্লাসে মুশফিক-মুমিনুল-শান্তরা Logo কার্যকর এআই তৈরিতে মনোযোগ মাইক্রোসফটেরমাইক্রোসফট

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে: শিমুল বিশ্বাস

 জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। ফাইল ছবি

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি।
তিনি বলেন, গণপরিবহন শুধু মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের স্বাভাবিক গতি জড়িত। তাই পরিবহন খাতের সমস্যা সমাধানে মালিক, শ্রমিক, পুলিশ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন, যানজট এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুধু ভাড়া নির্ধারণ করলেই হবে না; যানবাহনের মান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালক-শ্রমিকদের দায়িত্বশীলতা এবং যাত্রীসেবার মানও নিশ্চিত করতে হবে।
বাসভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যে হারে ভাড়া বাড়ার কথা, যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার চেয়ে কম হারে ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রতি কিলোমিটারে তিন পয়সা কম ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ করে চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণ করবে। পরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাসভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন পরিচালন ব্যয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে এ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের সক্ষমতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালার হারের চেয়ে কিছুটা কম ভাড়া রাখার বিষয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু রাজধানী বা মহানগর নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই নীতির আলোকে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিআরটিএর হিসাব ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর হবে।
যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর কোনো পরিবহন মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, আগের দফায় ভাড়া বাড়ানোর পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এবার যাতে এ ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
সাধারণ মানুষের ওপর পরিবহন ব্যয়ের চাপের বিষয়টি তুলে ধরে শিমুল বিশ্বাস বলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সব সময় পরিবহন ব্যয় বহনের সক্ষমতা বাড়ে না। তাই একদিকে পরিবহন খাতকে সচল রাখতে হবে, অন্যদিকে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব কমাতে হবে।
পরিবহন খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিবাচক পরিবর্তনে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সাংবাদিকদের পরিবহন খাতের অনিয়ম, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবহন মালিকদের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি যাত্রীদের স্বার্থও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিআরটিএর হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে দ্রুত ভাড়া নির্ধারণ করা হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারির পর নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকবে না।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে: শিমুল বিশ্বাস

আপডেট সময় ০৯:২৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি।
তিনি বলেন, গণপরিবহন শুধু মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের স্বাভাবিক গতি জড়িত। তাই পরিবহন খাতের সমস্যা সমাধানে মালিক, শ্রমিক, পুলিশ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন, যানজট এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুধু ভাড়া নির্ধারণ করলেই হবে না; যানবাহনের মান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালক-শ্রমিকদের দায়িত্বশীলতা এবং যাত্রীসেবার মানও নিশ্চিত করতে হবে।
বাসভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যে হারে ভাড়া বাড়ার কথা, যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার চেয়ে কম হারে ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রতি কিলোমিটারে তিন পয়সা কম ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ করে চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণ করবে। পরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাসভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন পরিচালন ব্যয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে এ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের সক্ষমতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালার হারের চেয়ে কিছুটা কম ভাড়া রাখার বিষয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু রাজধানী বা মহানগর নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই নীতির আলোকে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিআরটিএর হিসাব ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর হবে।
যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর কোনো পরিবহন মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, আগের দফায় ভাড়া বাড়ানোর পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এবার যাতে এ ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
সাধারণ মানুষের ওপর পরিবহন ব্যয়ের চাপের বিষয়টি তুলে ধরে শিমুল বিশ্বাস বলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সব সময় পরিবহন ব্যয় বহনের সক্ষমতা বাড়ে না। তাই একদিকে পরিবহন খাতকে সচল রাখতে হবে, অন্যদিকে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব কমাতে হবে।
পরিবহন খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিবাচক পরিবর্তনে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সাংবাদিকদের পরিবহন খাতের অনিয়ম, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবহন মালিকদের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি যাত্রীদের স্বার্থও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিআরটিএর হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে দ্রুত ভাড়া নির্ধারণ করা হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারির পর নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকবে না।