ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

অজ্ঞতাবশত বিতর্ক মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়

  • ইসলাম ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০৮:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • 10

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, মানুষের মধ্যে কিছু লোক অজ্ঞতাবশত আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং তারা প্রত্যেকে অবাধ্য শয়তানকে অনুসরণ করে।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : এ আয়াতে আল্লাহ এমন এক শ্রেণির মানুষের কথা তুলে ধরেছেন, যারা প্রকৃত জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহ তাআলার সত্তা, ক্ষমতা, বিধান ও পরকাল সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়।
তারা আল্লাহর নাজিলকৃত ওহি এবং তাঁর রাসুলের নির্দেশনা অনুসরণ না করে নিজেদের অজ্ঞতা, প্রবৃত্তি ও ভ্রান্ত ধারণাকে প্রাধান্য দেয়। ফলে তারা এমন অবাধ্য শয়তানের অনুসারী হয়ে পড়ে, যে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত এবং মানুষকে সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে সচেষ্ট। এই আয়াতে আল্লাহর পুনরুত্থানের ক্ষমতা অস্বীকার করা এবং আল্লাহ সম্পর্কে ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির ও তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
শিক্ষা ও বিধান
১. ইসলাম মানুষকে চিন্তা, গবেষণা ও সত্য অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে।
তবে আল্লাহ, তাঁর দ্বিন ও পরকাল সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান ও প্রমাণ থাকা জরুরি। অনুমান, আবেগ কিংবা ব্যক্তিগত ধারণার ভিত্তিতে দ্বিনের বিষয়ে কথা বলা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই কোনো বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে তা নির্ভরযোগ্য আলেমদের জিজ্ঞাসা করা উচিত।
২. মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
মানুষের মৃত্যু, দেহের মাটিতে মিশে যাওয়া কিংবা হাড়গোড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া তাঁকে পুনরায় সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান এবং হিসাব-নিকাশ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত।
৩. আল্লাহর ওহি ও রাসুলের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা একজন মুমিনের চিন্তা, বিশ্বাস ও জীবন পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হলো পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ।
৪. শয়তান মানুষকে কখনো প্রকাশ্য পাপের মাধ্যমে, আবার কখনো সন্দেহ, অহংকার ও ভ্রান্ত যুক্তির মাধ্যমে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
তাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে এবং দ্বিনের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
৫. কোনো বিষয়ে আলোচনা বা প্রশ্ন করা নিজেই নিন্দনীয় নয়। বরং সঠিক উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধান করা প্রশংসনীয়। কিন্তু সত্য গ্রহণের পরিবর্তে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা, অন্যকে অপদস্থ করা কিংবা অহংকারবশত বিতর্ক চালিয়ে যাওয়া নিন্দনীয়।
৬. সব বিষয়ে প্রত্যেক মানুষের সমান জ্ঞান থাকে না। তাই কোনো বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান না থাকলে মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া কিংবা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নামে অপ্রমাণিত কথা প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিনয়ের সঙ্গে ‘আমি জানি না’ বলতে পারাও জ্ঞান ও তাকওয়ার পরিচয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক জ্ঞান, বিশুদ্ধ আকিদা ও সত্যের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

অজ্ঞতাবশত বিতর্ক মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়

আপডেট সময় ০৮:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, মানুষের মধ্যে কিছু লোক অজ্ঞতাবশত আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং তারা প্রত্যেকে অবাধ্য শয়তানকে অনুসরণ করে।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : এ আয়াতে আল্লাহ এমন এক শ্রেণির মানুষের কথা তুলে ধরেছেন, যারা প্রকৃত জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহ তাআলার সত্তা, ক্ষমতা, বিধান ও পরকাল সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়।
তারা আল্লাহর নাজিলকৃত ওহি এবং তাঁর রাসুলের নির্দেশনা অনুসরণ না করে নিজেদের অজ্ঞতা, প্রবৃত্তি ও ভ্রান্ত ধারণাকে প্রাধান্য দেয়। ফলে তারা এমন অবাধ্য শয়তানের অনুসারী হয়ে পড়ে, যে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত এবং মানুষকে সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে সচেষ্ট। এই আয়াতে আল্লাহর পুনরুত্থানের ক্ষমতা অস্বীকার করা এবং আল্লাহ সম্পর্কে ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির ও তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
শিক্ষা ও বিধান
১. ইসলাম মানুষকে চিন্তা, গবেষণা ও সত্য অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে।
তবে আল্লাহ, তাঁর দ্বিন ও পরকাল সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান ও প্রমাণ থাকা জরুরি। অনুমান, আবেগ কিংবা ব্যক্তিগত ধারণার ভিত্তিতে দ্বিনের বিষয়ে কথা বলা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই কোনো বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে তা নির্ভরযোগ্য আলেমদের জিজ্ঞাসা করা উচিত।
২. মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
মানুষের মৃত্যু, দেহের মাটিতে মিশে যাওয়া কিংবা হাড়গোড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া তাঁকে পুনরায় সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান এবং হিসাব-নিকাশ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত।
৩. আল্লাহর ওহি ও রাসুলের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা একজন মুমিনের চিন্তা, বিশ্বাস ও জীবন পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হলো পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ।
৪. শয়তান মানুষকে কখনো প্রকাশ্য পাপের মাধ্যমে, আবার কখনো সন্দেহ, অহংকার ও ভ্রান্ত যুক্তির মাধ্যমে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
তাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে এবং দ্বিনের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
৫. কোনো বিষয়ে আলোচনা বা প্রশ্ন করা নিজেই নিন্দনীয় নয়। বরং সঠিক উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধান করা প্রশংসনীয়। কিন্তু সত্য গ্রহণের পরিবর্তে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা, অন্যকে অপদস্থ করা কিংবা অহংকারবশত বিতর্ক চালিয়ে যাওয়া নিন্দনীয়।
৬. সব বিষয়ে প্রত্যেক মানুষের সমান জ্ঞান থাকে না। তাই কোনো বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান না থাকলে মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া কিংবা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নামে অপ্রমাণিত কথা প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিনয়ের সঙ্গে ‘আমি জানি না’ বলতে পারাও জ্ঞান ও তাকওয়ার পরিচয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক জ্ঞান, বিশুদ্ধ আকিদা ও সত্যের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।