ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমৃদ্ধ নবীনগর উপজেলার প্রকৃতিতে এখন বসন্তের আগমনী বার্তা। শীতের আমেজ কাটতে না কাটতেই গাছে গাছে উঁকি দিয়েছে আমের মুকুল। সবুজ পাতার ফাঁকে সোনালি আভা ছড়িয়ে মুকুল যেন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে আমচাষিদের। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঘের শুরু থেকেই আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। চাষিদের আশা, আগামী ১০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে অধিকাংশ গাছেই পূর্ণমাত্রায় মুকুল ফুটবে। তখন আমের মুকুলের সুবাসে ভরে উঠবে চারপাশ।
সারা দেশের মতো নবীনগরেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশে আমের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎপাদনও। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছোট-বড় অসংখ্য আম বাগান গড়ে উঠেছে। পৌর এলাকার বনরাজ হর্টিকালচারের মালিক আবু তাহের জানান, ১২০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা তার পাঁচ বছরের আমবাগানে বারি-৮, বারি-৪, বারি-১১, থ্রি টেস্ট, কিউজাই, চিয়াংমাইসহ দেশীয় বিভিন্ন জাতের কলম করা আমগাছ রয়েছে। গাছে মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছি,” বলেন তিনি। উপজেলার আরেক আমচাষি মোক্তার হোসেন বলেন, পুরোদমে মুকুল আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। এ সময় গাছের বিশেষ যতœ নিতে হয়। আগাছা পরিষ্কার, নিয়মিত পরিচর্যা ও পোকামাকড় দমনে স্প্রে করা হচ্ছে। চাষিরা জানান, মুকুলের সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় পোকার আক্রমণ বা আবহাওয়ার প্রতিকূলতা দেখা দিলে ফলন ব্যাহত হতে পারে। তবে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবার নবীনগরে আমের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আম শুধু মৌসুমী অর্থকরী ফলই নয়, বর্তমানে এটি শিল্পজাত পণ্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। ফলে আম উৎপাদন বৃদ্ধি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানিয়েছে, মুকুল আসার এই সময়টাতে অতিরিক্ত বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি কিংবা ঝড় হলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই চাষিদের নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে আমের মুকুলে ভরা বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ। অনেকেই মুকুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে আসছেন আমবাগানে। সব মিলিয়ে আমের মুকুলে ভরা এই সময়টা চাষি ও প্রকৃতিপ্রেমী সবার কাছেই আনন্দের। এখন শুধু সঠিক পরিচর্যা আর অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় তাহলেই হাসবে আম চাষিদের মুখ।