প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক,বেসামরিক বিমান ও পর্যটন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ হুমায়ূন কবির পরিবেশ ও প্রতিবেশ বাঁচাতে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক অর্থনেতিক ও স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বহুমুখী কর্মযজ্ঞের মধ্যে দিয়ে খাল ও জলাশয় খনন কার্যক্রমে সকলকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবাণ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের নদীনালা ও খাল পুনঃখননের এই কর্মসূচি ঘোষণা করে গিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই কর্মসূচিকে দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলেন, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের হরিরামপুরে খাল পুনঃখনন শুরু হলো। খাল পুনঃখনন পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে,জলাবদ্ধতা ও বন্যা অনেকাংশে কমবে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী। সোমবার (১৬ মার্চ) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের সামনে হরিরামপুর খাল পূন:খনন কর্মসুচির উদ্বোধনকালে হুমায়ূন কবির এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির আহবায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর এম আহমেদ, সুনামগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল,বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী,সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান,বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসির উপপ্রধান প্রকৌশলী এস.এম শহীদুল আলম,নির্বাহী প্রকৌশলী আবু আহমেদ মাহমুদুল হাসান,সুনামগঞ্জ প্রকৌশলী কাজী হোসনে আর রাফি,জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য (স্বাক্ষর ক্ষমতাসম্পন্ন) এডভোকেট আব্দুল হক,বিএনপি নেতা নাদির আহমদ,আকবর আলী,সেলিম উদ্দিন আহমদ,আবুল মনসুর শওকত এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াসহ জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমাযূন কবির আরও বলেন, সুনামগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। জেলার উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, কীভাবে সুনামগঞ্জে আরও বেশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প আনা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, স্বাস্থ্যখাতসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ইনশাল্লাহ ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। উল্লেখ্য ১৯৭৯ সালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের মার্কূলী বাজারে সর্বপ্রথম এ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবারের মত খাল খনন কর্মসুচির শুভ উদ্বোধন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এসময় রাষ্ট্র প্রধানের খাল খনন কর্মসুচিকে স্বাগত জানিয়ে ভাটি বাংলার বাউল কবি কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) “সজনিগো নতুন একটা কোদাল লইয়া,নতুন একটা খাল কাটিয়া নতুন নদী ভরেগো নতুন,পিরিতি করলাম নতুন হৃদয় মাঝে ফুটলোগো সই ফুল দুইটা নতুন” নামে একটি মরমী গান পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর সুনামগঞ্জ জেলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে এবং জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ এডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া এমপির প্রচেষ্টায় কয়েকটি খাল খনন কর্মসুচি বাস্তবায়ন করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর এ কর্মসুচি বন্ধ থাকে। ফলে নদী ও খালগুলোতে পাহাড়ী বালির আগ্রাসনে খাল ও নদীর তলদেশ ভরপুর হয়ে যায়। এতে দফায় দফায় ভাটি অঞ্চলে বন্যার শুরু হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্র কাঠামোর ৩১ দফা সংস্কার কর্মসুচির আওতায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নবগঠিত বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহনের একমাস যেতে না যেতেই আবারও কাঙ্কিত খাল খনন কর্মসুচি শুরু হওয়ায় নতুন করে ভাটি অঞ্চলের মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।