ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!

মীরসরাইয়ে জোঁক আতঙ্কে মাঠে নামছে না কৃষকরা

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১২নং খৈয়াছরা ইউনিয়নের ফেনাফুনি গ্রামের বাসিন্দাদের দুঃখ-দুর্দশার কারণ গোভানিয়া-আবুতোরাব খাল। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খালটি মজে যাওয়ায় ওদের দুর্ভোগ আর লাঘবই হচ্ছে না। খালটি মজে যাওয়ায় ফেনাফুনি গ্রামের প্রায় ৩শ একরের ফসলের মাঠটিতে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে ওই মাঠের ধান ডুবে গেছে। আর কিছু দিন থাকলেই ধান পচে যাবে। এর মধ্যে এক থেকে দেড় ইঞ্চি সাইজের জোঁকের কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও কার্যত কোনো উদ্যোগ নিতে অদ্যাবধি দেখা যায়নি। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ফেনাফুনি গ্রামের প্রায় ৩শ একরের ফসলের মাঠটিতে এমনিতেই বর্ষায় জলাবদ্ধতা থাকে। আবার শুকনো মৌসুমে সেচের অভাবে আমন ও আউশ ফলন সম্ভব হয় না। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এবার শতাধিক কৃষক প্রায় দুইশ একর জমিতে ইরি ধান চাষ করেছেন। কেউ ঋণ নিয়ে কেউ বর্গা চাষি হয়ে স্বপ্ন নিয়ে চাষ করা এ ইরিধানগুলো গত এক সপ্তাহে মৌসুমের অপ্রত্যাশিত অতিবৃষ্টির দরুন ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন। মাঠের বৃহৎ অংশের ধান শুয়ে গেছে হাঁটুপানিতে। কোথাও আবার একটু কম কোথাও আরও বেশি পানিও রয়েছে। ধানগুলোর অধিকাংশ পেকে গেলেও কিছু ধান এখনো ভালোভাবে পাকেনি; কিন্তু পেকে যাওয়া ধান ও কাটার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জোঁক। এক থেকে দেড় ইঞ্চি সাইজের বইশা জোঁকসহ বিভিন্ন ধরনের জোঁক ও পোকার আক্রমণে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। ফেনাফুনি গ্রামের কৃষক জামাল উল্লাহ(৬০) ও আজিজুল হক(৫৫) জানান, আমাদের পরিবারে অন্তত কয়েক কানি জমির ধান আটকে গেছে মাঠে। এই ধান কেটে না আনলে যেটুকু ফলন পাওয়ার আশা ছিল, তাও পাব না। কারণ পানিতে পচে যাবে ধান। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার খরচ ও উঠবে না। এতে নিজেদের খাবারের চালের সংস্থানও হবে না। কৃষক খুরশিদ আলম আরও জানান, প্রায় ১শ একর জমিন ধান এখন পানির নিচে।
এর মধ্যে রয়েছে জোঁকের আক্রমণ। জন্য কেউ কেউ ঝুঁকি নিতে চাইলেও বেশিক্ষণ পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে পারছেন না। এমতাবস্থায় উপজেলা কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা প্রয়োজন।
কৃষক আজিজুল হক বলেন, গোভানিয়া-আবুতোরাব খালটি মজে থাকায় বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা হয়; আর শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় জলের অভাব। এক যুগ ধরে এ অবস্থা চলে আসছে। আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়ে প্রতিশ্রুতি পেলেও নিরসন হচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, আটকে থাকা পানি কমে গেলেই কৃষকরা অনুকূল পরিবেশ পেত। তবুও আমরা মাঠকর্মীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, শিগগিরই গ্রামের কৃষকদের সহযোগিতা ও সংকটের প্রধান কারণ খালটি খননসহ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আবার তাৎক্ষনিক কি করা যায় তার জন্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

মীরসরাইয়ে জোঁক আতঙ্কে মাঠে নামছে না কৃষকরা

আপডেট সময় ০২:৪০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১২নং খৈয়াছরা ইউনিয়নের ফেনাফুনি গ্রামের বাসিন্দাদের দুঃখ-দুর্দশার কারণ গোভানিয়া-আবুতোরাব খাল। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খালটি মজে যাওয়ায় ওদের দুর্ভোগ আর লাঘবই হচ্ছে না। খালটি মজে যাওয়ায় ফেনাফুনি গ্রামের প্রায় ৩শ একরের ফসলের মাঠটিতে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে ওই মাঠের ধান ডুবে গেছে। আর কিছু দিন থাকলেই ধান পচে যাবে। এর মধ্যে এক থেকে দেড় ইঞ্চি সাইজের জোঁকের কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও কার্যত কোনো উদ্যোগ নিতে অদ্যাবধি দেখা যায়নি। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ফেনাফুনি গ্রামের প্রায় ৩শ একরের ফসলের মাঠটিতে এমনিতেই বর্ষায় জলাবদ্ধতা থাকে। আবার শুকনো মৌসুমে সেচের অভাবে আমন ও আউশ ফলন সম্ভব হয় না। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এবার শতাধিক কৃষক প্রায় দুইশ একর জমিতে ইরি ধান চাষ করেছেন। কেউ ঋণ নিয়ে কেউ বর্গা চাষি হয়ে স্বপ্ন নিয়ে চাষ করা এ ইরিধানগুলো গত এক সপ্তাহে মৌসুমের অপ্রত্যাশিত অতিবৃষ্টির দরুন ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন। মাঠের বৃহৎ অংশের ধান শুয়ে গেছে হাঁটুপানিতে। কোথাও আবার একটু কম কোথাও আরও বেশি পানিও রয়েছে। ধানগুলোর অধিকাংশ পেকে গেলেও কিছু ধান এখনো ভালোভাবে পাকেনি; কিন্তু পেকে যাওয়া ধান ও কাটার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জোঁক। এক থেকে দেড় ইঞ্চি সাইজের বইশা জোঁকসহ বিভিন্ন ধরনের জোঁক ও পোকার আক্রমণে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। ফেনাফুনি গ্রামের কৃষক জামাল উল্লাহ(৬০) ও আজিজুল হক(৫৫) জানান, আমাদের পরিবারে অন্তত কয়েক কানি জমির ধান আটকে গেছে মাঠে। এই ধান কেটে না আনলে যেটুকু ফলন পাওয়ার আশা ছিল, তাও পাব না। কারণ পানিতে পচে যাবে ধান। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার খরচ ও উঠবে না। এতে নিজেদের খাবারের চালের সংস্থানও হবে না। কৃষক খুরশিদ আলম আরও জানান, প্রায় ১শ একর জমিন ধান এখন পানির নিচে।
এর মধ্যে রয়েছে জোঁকের আক্রমণ। জন্য কেউ কেউ ঝুঁকি নিতে চাইলেও বেশিক্ষণ পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে পারছেন না। এমতাবস্থায় উপজেলা কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা প্রয়োজন।
কৃষক আজিজুল হক বলেন, গোভানিয়া-আবুতোরাব খালটি মজে থাকায় বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা হয়; আর শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় জলের অভাব। এক যুগ ধরে এ অবস্থা চলে আসছে। আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়ে প্রতিশ্রুতি পেলেও নিরসন হচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, আটকে থাকা পানি কমে গেলেই কৃষকরা অনুকূল পরিবেশ পেত। তবুও আমরা মাঠকর্মীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, শিগগিরই গ্রামের কৃষকদের সহযোগিতা ও সংকটের প্রধান কারণ খালটি খননসহ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আবার তাৎক্ষনিক কি করা যায় তার জন্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।