ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

এক যুগেরও বেশি সময় সংস্কারহীন কয়রার বেড়িবাঁধ, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

খুলনার কয়রা উপজেলায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কাম গ্রামীণ সড়কটি সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা এই সড়কের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং কয়রা গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধটি (যা গ্রামীণ সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়) নব্বইয়ের দশকে নির্মিত হয়েছিল। ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র আঘাতে বাঁধটি ল-ভ- হয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁধটি সামাল দেওয়া হয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সড়কটি মেরামত করে। এরপর ২০১৩ সালের দিকে নদী ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ৫০০ মিটার এলাকায় আরসিসি ব্লক বসানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। তবে ব্লক বসানোর পর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধের ভেতরের অংশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বাঁধের দুটি স্থান দিয়ে ‘ঘোগ’ (ভেতরের গর্ত) তৈরি হয়ে জোয়ারের সময় নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো আরসিসি ব্লকের টেম্পারিং নষ্ট হয়ে রাস্তাটি এখন পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য। সরেজমিনে দেখা যায়, ৪নং লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশের আরসিসি ব্লক অংশ থেকে স্লুইসগেট অভিমুখী প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সম্পূর্ণ সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বাঁধের ভেতরের অংশে মাটি না থাকায় এবং ব্লকের আস্তরণ উঠে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ এখানে কোনো কাজ করতে চায় না। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হলে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং রোগীদের যাতায়াত সহজ হতো। আরেক বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ”সিসি ব্লকের আবরণ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গোলাম সরদারের বাড়ি থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত অংশটি যদি দ্রুত মাটি দিয়ে সংস্কার করা না হয়, তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় জোয়ারের চাপে পুরো এলাকা আবার প্লাবিত হতে পারে। এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি কেবল যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, দুর্যোগের সময় এটি নদী রক্ষা বাঁধ এবং স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ হওয়ায় আইনি জটিলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এটি মেরামত করা সম্ভব হয় না। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সুলতান মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আগামী বাজেটে ৪নং কয়রা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে স্লুইসগেট অভিমুখী ওই ক্ষতিগ্রস্ত আরসিসি ব্লকের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। আশা করছি দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

এক যুগেরও বেশি সময় সংস্কারহীন কয়রার বেড়িবাঁধ, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট সময় ০৪:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

খুলনার কয়রা উপজেলায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কাম গ্রামীণ সড়কটি সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা এই সড়কের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং কয়রা গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধটি (যা গ্রামীণ সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়) নব্বইয়ের দশকে নির্মিত হয়েছিল। ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র আঘাতে বাঁধটি ল-ভ- হয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁধটি সামাল দেওয়া হয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সড়কটি মেরামত করে। এরপর ২০১৩ সালের দিকে নদী ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ৫০০ মিটার এলাকায় আরসিসি ব্লক বসানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। তবে ব্লক বসানোর পর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধের ভেতরের অংশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বাঁধের দুটি স্থান দিয়ে ‘ঘোগ’ (ভেতরের গর্ত) তৈরি হয়ে জোয়ারের সময় নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো আরসিসি ব্লকের টেম্পারিং নষ্ট হয়ে রাস্তাটি এখন পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য। সরেজমিনে দেখা যায়, ৪নং লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশের আরসিসি ব্লক অংশ থেকে স্লুইসগেট অভিমুখী প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সম্পূর্ণ সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বাঁধের ভেতরের অংশে মাটি না থাকায় এবং ব্লকের আস্তরণ উঠে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ এখানে কোনো কাজ করতে চায় না। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হলে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং রোগীদের যাতায়াত সহজ হতো। আরেক বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ”সিসি ব্লকের আবরণ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গোলাম সরদারের বাড়ি থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত অংশটি যদি দ্রুত মাটি দিয়ে সংস্কার করা না হয়, তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় জোয়ারের চাপে পুরো এলাকা আবার প্লাবিত হতে পারে। এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি কেবল যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, দুর্যোগের সময় এটি নদী রক্ষা বাঁধ এবং স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ হওয়ায় আইনি জটিলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এটি মেরামত করা সম্ভব হয় না। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সুলতান মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আগামী বাজেটে ৪নং কয়রা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে স্লুইসগেট অভিমুখী ওই ক্ষতিগ্রস্ত আরসিসি ব্লকের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। আশা করছি দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।