ঢাকা ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক Logo আবুল কালাম এম.পির আন্তরিক প্রচেষ্টায় লাকসামে উন্নয়নের বিপ্লব: ৭ মাসে সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় ৪৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন Logo বদলগাছীতে সহোদর দুই বোনকে বিয়ে করলেন টিকটকার মাসুদ Logo চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে একটি করে পাঠাগার-জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান Logo গ্রাম্য আদালতকে উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ Logo কলমাকান্দায় কাঠের সেতু সংস্কার, উদ্বোধন করল শিক্ষার্থীরা Logo রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন না হলে তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথে হাঁটবেন-আহবায়ক নাহিদ ইসলাম Logo গণ-অধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য রেলি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে স্পিকারের অনুদানের চেক পেলেন ১৯০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবার Logo মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার অভ্যাস, ভালো নাকি খারাপ

প্রতিদিন সকালে নাশতা খাওয়া নিয়ে অনেকের সময় ব্যয় করতে হয় ঘণ্টাখানিক। না সময় ব্যয় নাশতা খাওয়ার জন্য না বরং কি খাব বা বানাব সেটা নিয়ে। কারণ একই ধরনের নাশতা খাওয়ার কথা শুনে অনেকের একঘেয়ে লাগতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় আমরা একই খাবার নাশতায় খেয়ে থাকি।
তবে বিষয়টি নিয়ে আরেকটু ভেবে দেখা প্রয়োজন। দিনের শুরুতে একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস আসলে মানসিক চাপ কমাতে পারে। তাছাড়া যদি প্রতিদিন সকালে ফ্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে কী খাবেন তা নিয়ে ভাবতে না হয়, তাহলে মস্তিষ্কের ওপরও অনেকটা চাপ কমে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত একটি সুষম নাশতা খাওয়ার অভ্যাস সারাদিনের খাদ্যাভ্যাসকে আরও স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এখানে একটি শর্ত রয়েছে। সেটি হলো আপনার বেছে নেওয়া নাশতাটি অবশ্যই পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।
প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা দুটোই রয়েছে। আসুন জেনে নেই এর সুবিধা-অসুবিধা, কিংবা প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়া ভালো নাকি খারাপ-
প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার উপকারিতা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে নাশতা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। আর একই ধরনের নাশতা খেলে ব্যস্ত জীবনে অনেক ঝামেলা কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক স্টেসি হাইমবার্গারের ভাষায়, আমাদের মস্তিষ্ক এমন অভ্যাস পছন্দ করে, যেগুলো বারবার একইভাবে করা যায়। তাই প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়া স্বাভাবিকভাবেই একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্লান্তি কমায়
প্রতিদিন একই নাশতা খেলে খাবার নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় না, ফলে মানসিক চাপও কিছুটা কমে। পুষ্টিবিদ কেট লাইম্যানের মতে, প্রতিদিনের অসংখ্য সিদ্ধান্তের বড় একটি অংশই খাবারকে ঘিরে। তাই নাশতা নিয়ে ভাবতে না হলে মস্তিষ্ক অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে পারে। গবেষণায়ও দেখা গেছে, একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া আত্মনিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
দৈনন্দিন রুটিন সহজ করে
একই নাশতার আরেকটি বড় সুবিধা হলো সময় বাঁচানো। চিকিৎসক হাইমবার্গারের মতে, তার অনেক রোগী প্রতিদিন একই ধরনের সকালের খাবার, দুপুরের খাবার বা বিকেলের নাশতা খান। তবে বাধ্য হয়ে নয়, বরং এতে তাদের দৈনন্দিন জীবন সহজ হয়। এমনকি এতে বাজার করা, অনলাইনে খাবার অর্ডার দেওয়া, রান্না করা এবং বাসন পরিষ্কার-সবই কম সময়ে শেষ করা যায়।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলে
প্রতিদিন একই পুষ্টিকর নাশতা খেলে ব্যস্ততা বা মানসিক চাপের মধ্যেও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া সহজ হয়। গবেষণায়ও দেখা গেছে, নিয়মিত সকালের নাশতা খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে সপ্তাহে একবারও নাশতা বাদ দিলে এই উপকারিতার কিছুটা কমে যেতে পারে।
প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার অসুবিধা
তবে প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দীর্ঘদিন একই খাবার খেতে খেতে অনেকের কাছে তা একঘেয়ে লাগতে পারে, আর খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে গেলে সেই অভ্যাস ধরে রাখাও কঠিন হয়। এছাড়া প্রতিদিন একেবারে একই উপকরণের খাবার খেলে কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সপ্তাহে বা কয়েক দিন পরপর উপকরণে সামান্য পরিবর্তন আনলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
স্বাস্থ্যকর নাশতা কেমন হওয়া উচিত?
চিকিৎসক স্টেসি হাইমবার্গার বলেন, ‘এ পর্যন্ত হওয়া গবেষণা অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে-যদি প্রতিদিন একই নাশতা খান, তবে সেটি অবশ্যই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং কম গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত হওয়া উচিত। এ ধরনের খাবার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ মানুষের জন্য প্রতিদিন একই ধরনের স্বাস্থ্যকর নাশতা খাওয়ার সুবিধা অসুবিধার চেয়ে বেশি। এতে খাবার বেছে নেওয়ার ঝামেলা কমে, বাজার করা সহজ হয় এবং এমন একটি ইতিবাচক অভ্যাস তৈরি হয়, যা শুধু নাশতায় নয়, সারাদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সূত্র: রিয়েল সিম্পল

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক

প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার অভ্যাস, ভালো নাকি খারাপ

আপডেট সময় ১০:২৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

প্রতিদিন সকালে নাশতা খাওয়া নিয়ে অনেকের সময় ব্যয় করতে হয় ঘণ্টাখানিক। না সময় ব্যয় নাশতা খাওয়ার জন্য না বরং কি খাব বা বানাব সেটা নিয়ে। কারণ একই ধরনের নাশতা খাওয়ার কথা শুনে অনেকের একঘেয়ে লাগতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় আমরা একই খাবার নাশতায় খেয়ে থাকি।
তবে বিষয়টি নিয়ে আরেকটু ভেবে দেখা প্রয়োজন। দিনের শুরুতে একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস আসলে মানসিক চাপ কমাতে পারে। তাছাড়া যদি প্রতিদিন সকালে ফ্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে কী খাবেন তা নিয়ে ভাবতে না হয়, তাহলে মস্তিষ্কের ওপরও অনেকটা চাপ কমে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত একটি সুষম নাশতা খাওয়ার অভ্যাস সারাদিনের খাদ্যাভ্যাসকে আরও স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এখানে একটি শর্ত রয়েছে। সেটি হলো আপনার বেছে নেওয়া নাশতাটি অবশ্যই পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।
প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা দুটোই রয়েছে। আসুন জেনে নেই এর সুবিধা-অসুবিধা, কিংবা প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়া ভালো নাকি খারাপ-
প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার উপকারিতা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে নাশতা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। আর একই ধরনের নাশতা খেলে ব্যস্ত জীবনে অনেক ঝামেলা কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক স্টেসি হাইমবার্গারের ভাষায়, আমাদের মস্তিষ্ক এমন অভ্যাস পছন্দ করে, যেগুলো বারবার একইভাবে করা যায়। তাই প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়া স্বাভাবিকভাবেই একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্লান্তি কমায়
প্রতিদিন একই নাশতা খেলে খাবার নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় না, ফলে মানসিক চাপও কিছুটা কমে। পুষ্টিবিদ কেট লাইম্যানের মতে, প্রতিদিনের অসংখ্য সিদ্ধান্তের বড় একটি অংশই খাবারকে ঘিরে। তাই নাশতা নিয়ে ভাবতে না হলে মস্তিষ্ক অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে পারে। গবেষণায়ও দেখা গেছে, একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া আত্মনিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
দৈনন্দিন রুটিন সহজ করে
একই নাশতার আরেকটি বড় সুবিধা হলো সময় বাঁচানো। চিকিৎসক হাইমবার্গারের মতে, তার অনেক রোগী প্রতিদিন একই ধরনের সকালের খাবার, দুপুরের খাবার বা বিকেলের নাশতা খান। তবে বাধ্য হয়ে নয়, বরং এতে তাদের দৈনন্দিন জীবন সহজ হয়। এমনকি এতে বাজার করা, অনলাইনে খাবার অর্ডার দেওয়া, রান্না করা এবং বাসন পরিষ্কার-সবই কম সময়ে শেষ করা যায়।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলে
প্রতিদিন একই পুষ্টিকর নাশতা খেলে ব্যস্ততা বা মানসিক চাপের মধ্যেও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া সহজ হয়। গবেষণায়ও দেখা গেছে, নিয়মিত সকালের নাশতা খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে সপ্তাহে একবারও নাশতা বাদ দিলে এই উপকারিতার কিছুটা কমে যেতে পারে।
প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার অসুবিধা
তবে প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দীর্ঘদিন একই খাবার খেতে খেতে অনেকের কাছে তা একঘেয়ে লাগতে পারে, আর খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে গেলে সেই অভ্যাস ধরে রাখাও কঠিন হয়। এছাড়া প্রতিদিন একেবারে একই উপকরণের খাবার খেলে কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সপ্তাহে বা কয়েক দিন পরপর উপকরণে সামান্য পরিবর্তন আনলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
স্বাস্থ্যকর নাশতা কেমন হওয়া উচিত?
চিকিৎসক স্টেসি হাইমবার্গার বলেন, ‘এ পর্যন্ত হওয়া গবেষণা অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে-যদি প্রতিদিন একই নাশতা খান, তবে সেটি অবশ্যই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং কম গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত হওয়া উচিত। এ ধরনের খাবার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ মানুষের জন্য প্রতিদিন একই ধরনের স্বাস্থ্যকর নাশতা খাওয়ার সুবিধা অসুবিধার চেয়ে বেশি। এতে খাবার বেছে নেওয়ার ঝামেলা কমে, বাজার করা সহজ হয় এবং এমন একটি ইতিবাচক অভ্যাস তৈরি হয়, যা শুধু নাশতায় নয়, সারাদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সূত্র: রিয়েল সিম্পল