শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন




পরিবহন শ্রমিক সংগঠন কল্যাণ তহবিলের টাকা শ্রমিকদের দুঃসময়ে কাজে লাগানো হোক

সম্পাদকীয়
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৮৬ বার পঠিত



একটি সহযোগী জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠনের কল্যাণ ফান্ডের টাকা করোনাভাইরাস সংকটের এই দুঃসময়ে তাদের কোন কাজে আসছে না। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে,‌দেশের পরিবহন শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। দেশজুড়ে বিস্তৃত এর কার্যক্রম। বিভিন্ন যানবাহন থেকে প্রতিদিন আদায় করে বড় অংকের চাঁদা। শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সংগঠনটির রয়েছে শতকোটি টাকার ‘শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড’। তবে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে উপার্জনহীন শ্রমিকদের কোনো কাজেই আসছে না এ টাকা।

শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা জমা থাকার বিষয়টি বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের এক শীর্ষ নেতা। পরিবহন শ্রমিকরা যখন ‘অনাহারে-অর্ধাহারে’ দিন পার করছেন, তখন সংগঠনটির সেই নেতা বলছেন, নিয়োগপত্র না থাকায় কল্যাণ ফান্ডের টাকা এ দুর্যোগকালে তাদের প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টাকে ‘আইনি জটিলতা’ হিসেবে দেখছেন তিনি।

নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। একই দিন থেকে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। এরই মধ্যে অতিবাহিত হয়েছে ১৩ দিন। অন্য অনেক পেশার মতো আয়-রোজগার বন্ধ ৫০ লাখের বেশি পরিবহন শ্রমিকের। আছে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। আয়-রোজগার না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতাদের দাবি, পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে ‘অর্ধাহারে-অনাহারে’। এমন অবস্থায় শ্রমিকদের সহায়তার জন্য সরকারের কাছে খাদ্য ও অর্থসহায়তা এবং প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। গত সোমবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোটি কোটি মানুষকে পরিবহনের কাজে নিয়োজিত পরিবহন শ্রমিকরা দিন-রাত কাজ করেন। গাড়ি চললে পরিবহন শ্রমিকদের সংসার চলে। সব সময় মানুষের সংস্পর্শে আসায় পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেশি। এদিকে উপার্জন বন্ধ থাকায় হাজার হাজার পরিবহন শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপায়হীন হয়ে অনেক পরিবহন শ্রমিক রাস্তায় নামারও চেষ্টা করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকার যন্ত্রণা শ্রমিকদের কাছে করোনা সংক্রমণের ভয়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে। করোনার এ দুর্দিনে সরকারের কাছ থেকে অর্থসহায়তা ও প্রণোদনা চাইলেও এতদিন আদায় করা চাঁদার অর্থ দিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের পাশে থাকছে না সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো।

বাংলাদেশ ট্যাংক-লরি শ্রমিক ফেডারেশন, বিপ্লবী শ্রমিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, সংযুক্ত ট্রাক বন্দোবস্তকারী পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ট্যাক্সিক্যাব-মাইক্রোবাস চালক ফেডারেশন, অটোরিকশা-অটোটেম্পো পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মতো অসংখ্য শ্রমিক সংগঠন আছে দেশজুড়ে। সারা দেশে ২৪৯টি শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে। ঢাকায় বাস ও ট্রাক টার্মিনালকেন্দ্রিক শ্রমিক ইউনিয়ন ছাড়াও প্রতি জেলায় অন্তত দুটি করে বাস ও ট্রাকের শ্রমিক ইউনিয়ন আছে। শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তথ্য বলছে, দেশের সড়ক পরিবহন সেক্টরে মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের সংখ্যা ৯৩২। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাকালে এ শ্রমিক সংগঠনগুলোকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

ঠেলাগাড়ি, ভ্যান, রিকশা, ভটভটি, টেম্পো, মিশুক, অটোরিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্রেইলার—এমন কোনো বাহন নেই যেগুলো থেকে চাঁদা আদায় করে না শ্রমিক সংগঠনগুলো। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে রাজধানী—চাঁদা আদায়ে সবখানেই একই চিত্র। আর এসব চাঁদা আদায় করা হয় শ্রমিকদের কল্যাণের নামে। শত শত কোটি টাকা আদায় হয়েছে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে। দুর্দিনে এ ফান্ড থেকে ছিটেফোঁটাও সাহায্য পাচ্ছেন না পরিবহন শ্রমিকরা।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর আয়ের প্রধান উৎস যানবাহন থেকে দৈনিক আদায় হওয়া চাঁদার টাকা। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম গত বছর এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, ঢাকায় চলাচল করা প্রতিটি বাস থেকে দৈনিক ৪০ টাকা আদায় করে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আদায় করে আরো ৩০ টাকা। সংগঠন দুটির হিসাবে ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার বাস চলাচল করে। এ হিসাবে প্রতি মাসে আদায় হচ্ছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা।‘

আমরা মনে করি, পরিবহন শ্রমিক নেতাদের জন্য এখন একটি বড় পরীক্ষার সময় চলছে। তারা আসলে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করেন, নাকি তাদের রক্ত চোষে রাজনীতির নামে বিত্তশালী হওয়ায় তাদের লক্ষ্য তা এই সংকটের সময় শ্রমিকরা উপলদ্ধি করতে পারবেন।

আমরা আশা করি, শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতার নিজে থেকে সক্রিয় না হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব সংগঠনগুলোর তহবিলের কোথায় কী অবস্থায় আছে, কী কাজে ব্যয় হচ্ছে তার খেঁাজ নিয়ে শ্রমিকদের পাশে দঁাড়ানো।

 




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..









© All rights reserved © 2018 Daily Khoborpatra
Theme Developed BY ThemesBazar.Com