বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, বি-৯৮৫ (সিবিএ) ও জাতীয়তাবাদী ফোরামের যৌথ উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এ সময় মাজার প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক (উপমহাব্যবস্থাপক) মো. জাহিদ হোসেন, অন্যতম সমন্বয়ক (উপমহাব্যবস্থাপক) সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, বি-৯৮৫ (সিবিএ)-এর সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হোসেন, নারায়নগঞ্জ এর মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আলাউদ্দিনসহ ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এ সময় ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ফুলের সৌরভে মুখরিত মাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগের এক মিলনমেলায়। মাজার প্রাঙ্গণের পাশে সারাদিনব্যাপী পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। ধারাবাহিক তেলাওয়াত ও দোয়ার মধ্য দিয়ে আগত মুসল্লি ও ভক্তরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্ত পরিবেশে পুরো এলাকা রূপ নেয় স্মরণ ও প্রার্থনার এক পবিত্র স্থানে। নেত্রীবৃন্দ বালেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন কেবল একটি ব্যক্তিগত জীবনগাথা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ ছিল আকস্মিক হলেও সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে তিনি নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করেন। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে অনস্বীকার্য। একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকেও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে কারাবরণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের কঠিন পথ। তবু আপসহীন নেতৃত্বে তিনি আমৃত্যু নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। স্বামীহারা হওয়ার বেদনা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক একাকীত্ব—সবকিছুকে শক্তিতে রূপ দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন গণতন্ত্রকামী মানুষের আস্থার প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর ত্যাগ, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কোরআন তেলাওয়াতের আবহে আজ বেগম জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণ সাক্ষী হয়ে রইল এক গভীর স্মরণ ও সম্মানের মুহূর্তের।