শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

চরফ্যাসনে পর্যটন এলাকায় প্রশান্তি

অশোক সাহা চরফ্যাসন :
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১

শঙ্খচিল আর মেঘ ছুয়ে যাওয়া বলাকাদের ডানা ঝাপটে দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছুটে চলা এবং মেঘনার অসীম জলরাশি আর নদীতটে ঢেউয়ের দোলায় চিকমিক করা বালিকনা ছুয়ে দেখতে যে কারো মন ছুটে আসে চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত তারুয়া দ্বিপে। হাতে হাত রেখে হোক অথবা বালি আর জলের অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বই হোক তারুয়া দ্বিপের বিচে বন্ধুদের সঙ্গে একটু প্রশান্তি খুঁজতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকদের ভিড় পড়ে যায় ঈদ পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে। তারুয়া দ্বিপে রয়েছে প্রায় ৭কিলোমিটার আয়তনের বালুকাময় সৈকত এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। ছায়াঘন ডালপালায় বাহারি রংয়ের ফুলসহ নানান রকমের উদ্ভিদের সবুজ আচ্ছন্নে ঘেরা কেওড়া বন। পাশাপাশি সমুদ্রের পানে ছুটে চলা রং বেরংর নৌকা ও ট্রলারে করে মাঝিদের জাল ফেলার ছবিও যেন শিল্পির তুলিতে জলচিত্রের মতো মনোমুগ্ধকর আঁকা এক প্রাণবন্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। এ সৈকতে বসে চা ও কফিতে চুমুক দিয়ে জলের আলতো ঢেউয়ে শতশত গাংচিলের মাছ শিকারের চিত্র দেখতেও মন্দ লাগবেনা কারোরই। নতুন এ দ্বিপে রয়েছে গোলপাতার বন ও নানান রকমের পাকপাখালীসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র। এখানকার গহিন অরণ্যের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া সুন্দরবনের আদলে খালের পাড়ে রয়েছে এক নৈসর্গিক দৃশ্য। বাংলাদেশের মালদ্বীপ বলে খ্যাত প্রকৃতির এ স্বর্গরাজ্যে পর্যটকদের জন্য রয়েছে নীল জলরাসির পাশাপাশি বিস্তীর্ণ চারণভূমি,হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ ও চিত্রা হরিণ, বুনো মহিষের পাল, বানর, শিয়াল আর লাল কাকরাসহ নানান প্রজাতির পাখপাখালি ও বৃক্ষরাজির বুনো ফল। বাংলাদেশের একমাত্র ভার্জিন সি বিচ হিসেবে পরিচিত এই তারুয়া সমুদ্রের অপার সৌন্দর্যের চারণভূমিতে আচরে পড়া নোনা জলের ঢেউ আর প্রাণবন্ত প্রশান্তি যোগানো বাতাস ও জঙ্গলে বৃক্ষরাজির পাশাপাশি নীল দিগন্তে বিস্তৃত অতিথি পাখির মনোমুগ্ধকর বিচরণে আপনার অবসরে সময় কাঠানো মোটেই মন্দ লাগবেনা। প্রকৃতির এ নিখাঁদ নির্জনতার দ্বীপ মোহনিয়ভাবে আপনাকে আবারো রঙিন স্বপ্ন দেখাবে নতুন উদ্দিপনা নিয়ে। ইট পাথরের ধুলোময় শহরের একঘেয়েমি ও ক্লান্তিকর সময়কে ছুটি দিয়ে কম খরচ ও নিরাপদে ঘুরতে চরফ্যাশনের এ বিনোদন স্পটে প্রতিদিন হাজার,হাজার পর্যটক আসে। তবে চলমান লকডাউনে পর্যটক আসা বন্ধ রয়েছে। বঙ্গপোসাগরের কূলঘেঁষে জেগে ওঠা দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট তাড়–য়া সমুদ্র সৈকতে কিভাবে আসবেন? ঢাকা নদীবন্দর থেকে চরফ্যাশন টু বেতুয়া অথবা ভোলার লঞ্চে সরাসরি পর্যটকরা ঘুরতে আসে চরফ্যাশনে। উপজেলা সদরে রঙ্গিন ঝর্ণার ফ্যাসন স্কয়ার ও শেখ রাসেল শিশু বিনোদন পার্ক ঘুরে ২২৫ ফুট উচ্চতার ১৬ তলা বিশিষ্ট জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ারে মেঘনিলিমার মাঝে নয়নাভিরাম সবুজের আলতো ছোয়া পরিদর্শন করেই পর্যটকদের গন্তব্য থাকে কুকরি-মুকরি ও তারুয়া সমুদ্র সৈকত পানে। বিভিন্ন গাড়ি দিয়ে চলে যাবেন উপজেলার দক্ষিন আইচার কচ্ছপিয়া ঘাটে। সেখান থেকে স্পিডবোট ও ট্রলারে ১৫ কিলোমিটার নৌ-পথ পেরিয়ে অবস্থিত এ দ্বিপ। সৈকতে প্রায় ৩শ ফুট দীর্ঘ ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরী করা হয়েছে যেখানে ট্রলার ও ছোট লঞ্চ নঙর করতে পাড়ে। স্থানীয় পর্যটকরা বলছেন অপার সম্ভাবনাময় চরফ্যাশনের তারুয়া দ্বিপকে যদি অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ ও পর্যটক আকর্ষণে আরো বহুমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তাহলে তারুয়া সমুদ্র সৈকতসহ চরফ্যাশনের পর্যটন এলাকাগুলো থেকেও সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় হবে। বিনোদনের অবকাঠামোয় গড়ে তোলার জন্য চরফ্যাশনের উপকূলীয় অঞ্চলকে সম্ভাবনাময় পর্যটনের দ্বারপ্রান্তে নিতেই স্থানীয় সাংসদ যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। তিনি চরফ্যাশন ও মনপুরা অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের পাশাপাশি অসংখ্য বিনোদনমূলক স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও তারুয়া সমুদ্র সৈকতকে ইকো টুরিজমের আওতায় আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান আঃ সালাম হাওলাদার। পর্যটনমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুললেই দক্ষিনের জনপদ চরফ্যাশন হবে পর্যটনের এক সম্ভানার নতুন দিগন্ত। এমনটাই মনে করছেন এলাকার সুধি সমাজ।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com