বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
মধুপুরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে তাল গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন চৌহালীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভ মৃত্যুঞ্জয়ী উদ্বোধন রাজশাহীতে অপহৃত দুই বোন উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার পলাশবাড়ীতে অসুস্থ শিশুকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মন্দির নির্মাণ ও আলোচনা সভা গজারিয়ায় বাউশিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এর নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার নগরকান্দায় প্রচার মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই: মান্না জামায়াত নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে লন্ডনে বিক্ষোভ ই-কমার্সের প্রতারণার দায়িত্ব নিতে হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে : অর্থমন্ত্রী




হিংসা-ক্রোধ দূর করুন, সুস্থ থাকুন

জাফর আহমাদ :
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১




আনাস রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তোমরা কি আবু দামদামের মতো হতে পারো না? সাহাবিরা প্রশ্ন করলেন, আবু দামদাম কে? তিনি বলেন, ‘তোমাদেরআূর্বের যুগের একজন মানুষ। তিনি প্রতিদিন সকালে (দোয়াটি) বাক্যটি বলতেন। ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি ক্বাদ তাসাদ্দাকতু বিইরদি আলা ইবাদিকা’ অর্থাৎÑ ‘হে আল্লাহ! আমি আমার মর্যাদা-সম্মান আপনার বান্দাদের জন্য দান করলাম।’ অন্য বর্ণনায়, ‘তিনি বলতেন, আমাকে যে গালি দেয় আমি আমার সম্মান তাকে দান করলাম।’ হাদিসটির সনদ সহিহ। (আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, বাব মা জাআ ফির রাজুলি)
রাগ-ক্রোধ, হিংসা-বিদ্বেষ মন-মননকে কলুষিত করে, চরিত্রকে করে কালিমাযুক্ত, শরীর অসুস্থ হয়। আমরা যদি নিজেদেরকে এগুলো থেকে মুক্ত করতে পারি তাহলে নিজেই বেশি উপকৃত হবো। অন্তর হিংসার কঠিন ভার থেকে মুক্ত হবে। দেহ-মন সুস্থ থাকবে। সার্বিক প্রশান্তি লাভ করব। রাসূলুল্লাহ সা: এ ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন এবং একটি দোয়াও শিক্ষা দিয়েছেন। কারো প্রতি রাগ সৃষ্টি হলে বা কারো প্রতি বিদ্বেষ জন্ম নিলে উপরের দোয়াটি পড়বেন।
চলুন, আমরা সবাই আবু দামদামের মতো হওয়ার চেষ্টা করি। কি লাভ এগুলোর প্রতিশোধ নিয়ে? বরং লাভের পরিবর্তে এগুলো আপনার আমার দেহ-মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলবে। বাংলা সাহিত্যের একজন পরিশীলিত সাহিত্যিক বলেছেন, ‘ভুলে যাওয়াটাও আল্লাহর এক বিশেষ রহমত।’ তিনি বলেছেন, প্রতিদিন আমরা নানা প্রকৃতির লোকের সাথে যোগাযোগ করে থাকি। এদের অনেকে মনে কষ্ট দেয়, গালি দেয়, কটু কথা বলে, দুর্ব্যবহার করে এগুলো যদি মানুষ নিজের মধ্যে জমা করে রাখত তাহলে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ত। সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কিন্তু এগুলো আমরা ভুলে যাই বলে সমাজ ও সভ্যতা এখনো টিকে আছে। অন্যথায় সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতো।
আমরা ক্ষমা করি। মহান আল্লাহ তায়ালাও ক্ষমা করতে বলেছেন। তাহলে আমরাও মহান প্রভুর ক্ষমা পাবো। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা দিয়েছেন। ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের আগে যারা ঈমানের সাথে বিদায় হয়েছেন তাদেরকেও ক্ষমা করুন। আর মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের হৃদয়ে হিংসা, বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি মহা করুণাময়, পরম দয়ালু।’ (সূরা হাশর-১০)
এ আয়াতের দাবি হলোÑ কোনো মুসলমানের মনে মুসলমানের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা থাকা উচিত নয়। মুসলমানদের সঠিক জীবনাচার হলোÑতাদের পূর্ববর্তী মুসলমান ভাইদের লানত বা অভিশাপ দেবে না কিংবা তাদের সাথে সম্পর্কহীনতার কথা বলবে না। বরং তাদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে থাকবে। যে বন্ধন মুসলমানদের পরস্পর সম্পর্কিত করেছে তা হলোÑ ঈমানের বন্ধন। কোনো ব্যক্তির অন্তরে অন্য সব জিনিসের চেয়ে ঈমানের গুরুত্ব যদি অধিক হয় তাহলে ঈমানের বন্ধনের ভিত্তিতে তার ভাই, সে অনিবার্যভাবেই তাদের কল্যাণকামী হবে। তাদের জন্য অকল্যাণ, হিংসা-বিদ্বেষ এবং ঘৃণা কেবল তখনই তার অন্তরে স্থান পেতে পারে যখন ঈমানের মূল্য ও মর্যাদা তার দৃষ্টিতে কমে যাবে এবং অন্য কোনো জিনিসকে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করবে। তাই ঈমানের সরাসরি দাবি, একজন মুমিনের অন্তরে অন্য কোনো মুমিনের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।
আনাস রা: থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, একসময় রাসূলুল্লাহ সা:-এর মজলিসে একাধারে তিন দিন একটি ঘটনা ঘটতে থাকল। রাসূলুল্লাহ সা: বলতেন, ‘এখন তোমাদের সামনে এমন এক ব্যক্তির আগমন হবে যে জান্নাতের অধিবাসী। আর প্রত্যেকবারই সেই ব্যক্তি হতে একজন আনসার সাহাবি। এতে আবদুল্লøাহ ইবনে আসের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিলো যে, তিনি এমন কি কাজ করেন যার ভিত্তিতে নবী সা: তার সম্পর্কে বারবার এই সুসংবাদ দান করলেন। সুতরাং তার ইবাদতের অবস্থা দেখার জন্য একটা উপলক্ষ সৃষ্টি করে তিনি পরপর তিন দিন তার বাড়িতে গিয়ে রাত কাটাতে থাকলেন। কিন্তু রাতের বেলা তিনি কোনো প্রকার অস্বাভাবিক কাজকর্ম দেখতে পেলেন না। বাধ্য হয়ে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই আপনি এমন কী কাজ করেন, যে কারণে আমরা নবী সা:-এর মুখে আপনার সম্পর্কে বিরাট সুসংবাদ শুনেছি। তিনি বললেন, আমার ইবাদত-বন্দেগির অবস্থা তো আপনি দেখেছেন। তবে একটি বিষয় হয়তো এর কারণ হতে পারে। আর তা হলো, ‘আমি আমার মনের মধ্যে কোনো মুসলমানের জন্য বিদ্বেষ পোষণ করি না এবং মহান আল্লাহ তাকে যে কল্যাণ দান করেছেন সেজন্য তাকে হিংসাও করি না।’ (নাসায়ি)
তবে এর মানে এই নয় যে, কোনো মুসলমান অন্য কোনো মুসলমানের কথা ও কাজে যদি কোনো ত্রুটি দেখতে পান তাহলে তাকে তিনি ত্রুটি বলবেন না। কোনো ঈমানদার ভুল করলেও সেটাকে ভুল না বলে শুদ্ধ বলতে হবে কিংবা ভ্রান্ত বলা যাবে না, ঈমানের দাবি কখনো তা নয়। তবে সেই ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা রেখে অত্যন্ত দরদের সাথে তার সংশোধনের উদ্দেশ্যে তার সাথে একান্তে বসাও ঈমানের দাবি। কিন্তু কোনো জিনিসকে প্রমাণের ভিত্তিতে ভুল বলা এবং ভদ্রতা রক্ষা করে তা প্রকাশ করা এক কথা আর শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা, নিন্দাবাদ ও কুৎসা রটনা করা এবং গালমন্দ করা আরেক কথা। সমসাময়িক জীবিত লোকদের বেলায়ও এরূপ আচরণ করা হলে তা একটি বড় অন্যায়। কিন্তু পূর্বের মৃত লোকদের সাথে এরূপ আচরণ করলে তা আরো বড় অন্যায়। কারণ এরূপ মন ও মানসিকতা এমনই নোংরা যে, তা মৃতদেরও ক্ষমা করতে প্রস্তুত নয়। মুমিন ভাইবোন যারা আমার আগে চলে গেছে তিনি যতই খারাপ হোক তার জন্য দোয়া করতে হবে।
আমরা দেখেছি যে, এভাবে হৃদয়কে বিদ্বেষ, হিংসা ও ঘৃণামুক্ত রাখা রাসূলুল্লাহ সা:-এর অন্যতম সুন্নাহ যা তিনি বিশেষভাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। একটু চেষ্টা করলে আল্লাহর রহমতে আমরাও এ গুণ অর্জন করতে পারব। গালি শুনে, গিবতের কথা শুনে বা অন্য কোনো কারণে কারো বিরুদ্ধে মনের মধ্যে ক্রোধ, হিংসা বা বিদ্বেষ সঞ্চিত হলে বেশি বেশি আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে মনকে যথাশিগগিরই শান্ত করার চেষ্টা করতে হবে। কিছুটা শান্ত হলে নিজের জন্য এবং ওই ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। যেন আল্লাহ আমাকে ও তাকে মাফ করে দেন। ম্যানেজার, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, জিন্দাবাজার শাখা, সিলেট




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com