ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

দিনে ৫০০০ কোটি টাকা লোকসান, তবু বিজ্ঞাপন দেখায় না গুগল

চ্যাটজিপিটি বা আধুনিক এআই টুল জনপ্রিয় হওয়ার আগেই ইন্টারনেটে মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ছিল গুগল সার্চ। কোনো তথ্য জানার দরকার হলেই প্রথম কাজ ছিল গুগলে সার্চ করা। আর গুগলের হোমপেজ খুললেই চোখে পড়ত একেবারে সাদা, পরিষ্কার একটি পেজ মাঝখানে শুধু রঙিন লোগো আর ছোট্ট একটি সার্চ বক্স।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভিজিট হওয়া ওয়েবসাইটগুলোর একটি হয়েও সেখানে নেই কোনো ব্যানার বিজ্ঞাপন, নেই পপ-আপ বা অপ্রয়োজনীয় কনটেন্ট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত বড় একটি কোম্পানি কেন তাদের হোমপেজে বিজ্ঞাপন দেখায় না? এর পেছনে রয়েছে বিশাল এক ব্যবসায়িক কৌশল।
১৯৯৮ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন যখন গুগল তৈরি করছিলেন, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল দ্রুত ও সহজ একটি সার্চ ইঞ্জিন বানানো। শুরুতে হোমপেজ এতটা ফাঁকা থাকার পেছনে কোনো বিশেষ পরিকল্পনা ছিল না। বরং সীমিত ডিজাইন ও সাধারণ কোডিং জ্ঞান দিয়েই তারা একটি সিম্পল সার্চ বক্স তৈরি করেছিলেন। পরে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা এই মিনিমাল ডিজাইনটিই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছেন।
সেই সময় ইন্টারনেটের জনপ্রিয় পোর্টালগুলো যেমন ইয়াহু! বা এমএসএন হোমপেজজুড়ে খবর, বিজ্ঞাপন ও নানা সার্ভিসে ভরা থাকত। ফলে সেগুলো খুলতে সময় লাগত অনেক বেশি। অন্যদিকে গুগলের পেজ ছিল অত্যন্ত হালকা, যা খুব দ্রুত লোড হতো। ধীরগতির ইন্টারনেটের যুগে এই স্পিডই গুগলকে মানুষের কাছে আলাদা করে তোলে।
আরেকটি বড় কারণ ছিল ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা। ২০০০ সালের শুরুর দিকে মানুষ অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনে বিরক্ত হয়ে পড়েছিল। পপ-আপ ও ব্যানারে ভরা ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের ক্লান্ত করে তুলছিল। গুগল ঠিক উল্টো পথে হাঁটে। তারা বুঝেছিল, মানুষকে বিরক্ত না করে দ্রুত ফলাফল দিলে ব্যবহারকারীর বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব। আর সেই বিশ্বাসই গুগলকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ডগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুগলের আসল ব্যবসা হোমপেজে নয়, বরং সার্চ রেজাল্টে। কেউ যখন বেস্ট স্মার্টফোন আন্ডার ২০ হাজার বা কোনো নির্দিষ্ট পণ্য সম্পর্কে সার্চ করেন, তখন সেই ব্যবহারকারীকে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে ধরে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। এই ধরনের টার্গেটেড বিজ্ঞাপনের জন্য বিজ্ঞাপনদাতারা অনেক বেশি অর্থ দিতে রাজি থাকেন। ফলে হোমপেজে বিজ্ঞাপন না দেখিয়েও গুগল বিপুল আয় করতে সক্ষম হয়েছে।
যদি একটা হিসাব করি যে গুগল তাদের হোমপেজ থেকে কতটা আয় করতে পারত, তাহলে সংখ্যাগুলো সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো। গুগলে প্রতিদিন প্রায় ৮৫০ কোটি ভিজিট হয়। যদি গুগল সেখানে ব্যানার বিজ্ঞাপন দিত, তাহলে তারা প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার-১৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারত। বার্ষিক হিসেবে এই আয় প্রায় ২০ লাখ কোটি থেকে ৫০ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা হল, যদি সেখানে বিজ্ঞাপন থাকত, তাহলে হয়তো এত মানুষ গুগলে আসতেই চাইত না!
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাইলে গুগল তাদের হোমপেজে ব্যানার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারত। কারণ প্রতিদিন কয়েকশো কোটি মানুষ গুগলে ভিজিট করেন। কিন্তু গুগল জানে, হোমপেজ পরিষ্কার ও দ্রুত রাখাই দীর্ঘমেয়াদে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আজও গুগলের সেই ফাঁকা হোমপেজ শুধু একটি ডিজাইন নয়, বরং এটি বিশ্বের সবচেয়ে সফল ডিজিটাল কৌশলগুলোর একটি উদাহরণ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

দিনে ৫০০০ কোটি টাকা লোকসান, তবু বিজ্ঞাপন দেখায় না গুগল

আপডেট সময় ০৬:৩১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

চ্যাটজিপিটি বা আধুনিক এআই টুল জনপ্রিয় হওয়ার আগেই ইন্টারনেটে মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ছিল গুগল সার্চ। কোনো তথ্য জানার দরকার হলেই প্রথম কাজ ছিল গুগলে সার্চ করা। আর গুগলের হোমপেজ খুললেই চোখে পড়ত একেবারে সাদা, পরিষ্কার একটি পেজ মাঝখানে শুধু রঙিন লোগো আর ছোট্ট একটি সার্চ বক্স।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভিজিট হওয়া ওয়েবসাইটগুলোর একটি হয়েও সেখানে নেই কোনো ব্যানার বিজ্ঞাপন, নেই পপ-আপ বা অপ্রয়োজনীয় কনটেন্ট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত বড় একটি কোম্পানি কেন তাদের হোমপেজে বিজ্ঞাপন দেখায় না? এর পেছনে রয়েছে বিশাল এক ব্যবসায়িক কৌশল।
১৯৯৮ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন যখন গুগল তৈরি করছিলেন, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল দ্রুত ও সহজ একটি সার্চ ইঞ্জিন বানানো। শুরুতে হোমপেজ এতটা ফাঁকা থাকার পেছনে কোনো বিশেষ পরিকল্পনা ছিল না। বরং সীমিত ডিজাইন ও সাধারণ কোডিং জ্ঞান দিয়েই তারা একটি সিম্পল সার্চ বক্স তৈরি করেছিলেন। পরে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা এই মিনিমাল ডিজাইনটিই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছেন।
সেই সময় ইন্টারনেটের জনপ্রিয় পোর্টালগুলো যেমন ইয়াহু! বা এমএসএন হোমপেজজুড়ে খবর, বিজ্ঞাপন ও নানা সার্ভিসে ভরা থাকত। ফলে সেগুলো খুলতে সময় লাগত অনেক বেশি। অন্যদিকে গুগলের পেজ ছিল অত্যন্ত হালকা, যা খুব দ্রুত লোড হতো। ধীরগতির ইন্টারনেটের যুগে এই স্পিডই গুগলকে মানুষের কাছে আলাদা করে তোলে।
আরেকটি বড় কারণ ছিল ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা। ২০০০ সালের শুরুর দিকে মানুষ অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনে বিরক্ত হয়ে পড়েছিল। পপ-আপ ও ব্যানারে ভরা ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের ক্লান্ত করে তুলছিল। গুগল ঠিক উল্টো পথে হাঁটে। তারা বুঝেছিল, মানুষকে বিরক্ত না করে দ্রুত ফলাফল দিলে ব্যবহারকারীর বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব। আর সেই বিশ্বাসই গুগলকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ডগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুগলের আসল ব্যবসা হোমপেজে নয়, বরং সার্চ রেজাল্টে। কেউ যখন বেস্ট স্মার্টফোন আন্ডার ২০ হাজার বা কোনো নির্দিষ্ট পণ্য সম্পর্কে সার্চ করেন, তখন সেই ব্যবহারকারীকে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে ধরে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। এই ধরনের টার্গেটেড বিজ্ঞাপনের জন্য বিজ্ঞাপনদাতারা অনেক বেশি অর্থ দিতে রাজি থাকেন। ফলে হোমপেজে বিজ্ঞাপন না দেখিয়েও গুগল বিপুল আয় করতে সক্ষম হয়েছে।
যদি একটা হিসাব করি যে গুগল তাদের হোমপেজ থেকে কতটা আয় করতে পারত, তাহলে সংখ্যাগুলো সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো। গুগলে প্রতিদিন প্রায় ৮৫০ কোটি ভিজিট হয়। যদি গুগল সেখানে ব্যানার বিজ্ঞাপন দিত, তাহলে তারা প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার-১৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারত। বার্ষিক হিসেবে এই আয় প্রায় ২০ লাখ কোটি থেকে ৫০ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা হল, যদি সেখানে বিজ্ঞাপন থাকত, তাহলে হয়তো এত মানুষ গুগলে আসতেই চাইত না!
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাইলে গুগল তাদের হোমপেজে ব্যানার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারত। কারণ প্রতিদিন কয়েকশো কোটি মানুষ গুগলে ভিজিট করেন। কিন্তু গুগল জানে, হোমপেজ পরিষ্কার ও দ্রুত রাখাই দীর্ঘমেয়াদে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আজও গুগলের সেই ফাঁকা হোমপেজ শুধু একটি ডিজাইন নয়, বরং এটি বিশ্বের সবচেয়ে সফল ডিজিটাল কৌশলগুলোর একটি উদাহরণ।