ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহানবী (সা.)-এর মহামূল্যবান উপদেশ

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন মুআজ (রা.) মহানবী (সা.)-এর সাওয়ারির পেছনে বসা ছিলেন। মহানবী (সা.) বললেন, হে মুআজ, মুআজ (রা.) বললেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি হাজির। তিনি (পুনরায়) বললেন, হে মুআজ, মুআজ (রা.) বললেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি উপস্থিত আছি। মহানবী (সা.) বললেন, হে মুআজ, মুআজ বললেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি উপস্থিত আছি।
মহানবী (সা.) এ কথা তিনবার বললেন। এরপর তিনি বললেন, যে বান্দা সত্য মনে সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।’ আল্লাহ তাআলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।
মুআজ (রা.) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি কি মানুষদের এই সংবাদ দিতে থাকব? যাতে তারা তা শুনে সুসংবাদ গ্রহণ করতে পারে। তখন মহানবী (সা.) বললেন, (না) তাহলে তারা এ কথার ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। অবশেষে মুআজ (রা.) হাদিস গোপন রাখার পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মৃত্যুর সময় এ হাদিস বর্ণনা করে গেছেন।
শিক্ষা ও বিধান
১. তাওহিদই মুক্তির মূল চাবিকাঠি।
তাই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’- এই সাক্ষ্য আন্তরিকভাবে গ্রহণ ও বিশ্বাস করা জান্নাত লাভের মাধ্যম।
২. মুখের উচ্চারণের সঙ্গে অন্তরের বিশ্বাস জরুরি। কেননা মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সত্য মনে সাক্ষ্য দেবে।’ অর্থাৎ শুধু মুখে বলা যথেষ্ট নয়, অন্তরে দৃঢ় ঈমান থাকতে হবে।
৩. মহানবী (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য ঈমানের অংশ।
মহানবী (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল—এ কথা বিশ্বাস করা ছাড়া পূর্ণ ঈমান অর্জিত হয় না।
৪. যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বারবার বলা সুন্নত। কেননা মহানবী (সা.) তিনবার ‘হে মুআজ’ বলে সম্বোধন করেছেন। এতে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পুনরাবৃত্তি করা উত্তম।
৫. সাহাবায়ে কেরামের আদব ও আনুগত্য। মুআজ (রা.) বারবার ‘লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ’ বলেছেন। এতে শিক্ষক, বড় ও দ্বিনি নেতার প্রতি সম্মান ও আদবের শিক্ষা পাওয়া যায়।
৬. শুধু আশা নয়, আমলও প্রয়োজন। কেননা মহানবী (সা.) আশঙ্কা করেছিলেন—মানুষ যদি শুধু এ সুসংবাদের ওপর নির্ভর করে, তাহলে আমলে শৈথিল্য আসতে পারে। অথচ ঈমানের সঙ্গে নেক আমল জরুরি।
৭. ইলম গোপন করা উচিত নয়। তাই মুআজ (রা.) মৃত্যুর সময় হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যেন ইলম গোপন করার গুনাহে পতিত না হন। এতে দ্বিনি জ্ঞান প্রচারের গুরুত্ব বোঝা যায়।
৮. সত্যিকার ঈমান মানুষকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে। অতএব, যার অন্তরে বিশুদ্ধ ঈমান থাকবে, আল্লাহ তাআলা তাকে শেষ পর্যন্ত জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ইনশাআল্লাহ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহানবী (সা.)-এর মহামূল্যবান উপদেশ

আপডেট সময় ১২:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন মুআজ (রা.) মহানবী (সা.)-এর সাওয়ারির পেছনে বসা ছিলেন। মহানবী (সা.) বললেন, হে মুআজ, মুআজ (রা.) বললেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি হাজির। তিনি (পুনরায়) বললেন, হে মুআজ, মুআজ (রা.) বললেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি উপস্থিত আছি। মহানবী (সা.) বললেন, হে মুআজ, মুআজ বললেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি উপস্থিত আছি।
মহানবী (সা.) এ কথা তিনবার বললেন। এরপর তিনি বললেন, যে বান্দা সত্য মনে সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।’ আল্লাহ তাআলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।
মুআজ (রা.) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি কি মানুষদের এই সংবাদ দিতে থাকব? যাতে তারা তা শুনে সুসংবাদ গ্রহণ করতে পারে। তখন মহানবী (সা.) বললেন, (না) তাহলে তারা এ কথার ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। অবশেষে মুআজ (রা.) হাদিস গোপন রাখার পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মৃত্যুর সময় এ হাদিস বর্ণনা করে গেছেন।
শিক্ষা ও বিধান
১. তাওহিদই মুক্তির মূল চাবিকাঠি।
তাই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’- এই সাক্ষ্য আন্তরিকভাবে গ্রহণ ও বিশ্বাস করা জান্নাত লাভের মাধ্যম।
২. মুখের উচ্চারণের সঙ্গে অন্তরের বিশ্বাস জরুরি। কেননা মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সত্য মনে সাক্ষ্য দেবে।’ অর্থাৎ শুধু মুখে বলা যথেষ্ট নয়, অন্তরে দৃঢ় ঈমান থাকতে হবে।
৩. মহানবী (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য ঈমানের অংশ।
মহানবী (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল—এ কথা বিশ্বাস করা ছাড়া পূর্ণ ঈমান অর্জিত হয় না।
৪. যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বারবার বলা সুন্নত। কেননা মহানবী (সা.) তিনবার ‘হে মুআজ’ বলে সম্বোধন করেছেন। এতে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পুনরাবৃত্তি করা উত্তম।
৫. সাহাবায়ে কেরামের আদব ও আনুগত্য। মুআজ (রা.) বারবার ‘লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ’ বলেছেন। এতে শিক্ষক, বড় ও দ্বিনি নেতার প্রতি সম্মান ও আদবের শিক্ষা পাওয়া যায়।
৬. শুধু আশা নয়, আমলও প্রয়োজন। কেননা মহানবী (সা.) আশঙ্কা করেছিলেন—মানুষ যদি শুধু এ সুসংবাদের ওপর নির্ভর করে, তাহলে আমলে শৈথিল্য আসতে পারে। অথচ ঈমানের সঙ্গে নেক আমল জরুরি।
৭. ইলম গোপন করা উচিত নয়। তাই মুআজ (রা.) মৃত্যুর সময় হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যেন ইলম গোপন করার গুনাহে পতিত না হন। এতে দ্বিনি জ্ঞান প্রচারের গুরুত্ব বোঝা যায়।
৮. সত্যিকার ঈমান মানুষকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে। অতএব, যার অন্তরে বিশুদ্ধ ঈমান থাকবে, আল্লাহ তাআলা তাকে শেষ পর্যন্ত জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ইনশাআল্লাহ।