ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা

স্টাডি মিউজিক শোনার বিধান

বর্তমান যুগে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর নামে ‘স্টাডি মিউজিক’, ‘ফোকাস মিউজিক’ কিংবা ‘লো-ফাই মিউজিক’-এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করেন, এসব সুর বা মিউজিক পড়াশোনার চাপ কমায় এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে।
কিন্তু একজন মুসলিমের জীবনে শুধু উপকারিতা নয়; বরং কোনো কাজ শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। কেননা ইসলামে মনোযোগের প্রকৃত উৎস হলো আল্লাহর স্মরণ, কোরআনের তিলাওয়াত ও বৈধ উপায়ে আত্মশুদ্ধি। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথাবার্তা ক্রয় করে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ৬)
অনেক মুফাসসিরিনে কেরাম বলেন, এখানে আল্লাহ তাআলা অসার কথাবার্তা দ্বারা গান-বাজনাকে বুঝিয়েছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর : ৫৫৯০)
তাই ফুকাহায়ে কেরামও বাদ্যযন্ত্র ও মিউজিকযুক্ত সংগীত শোনাকে নাজায়েজ বলেছেন। বিশেষত যখন তা মানুষের অন্তরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে এবং ধীরে ধীরে গুনাহের পরিবেশ তৈরি করে। বর্তমানে বাদ্যযন্ত্রের অনেক অ্যাপ ‘স্টাডি মিউজিক’, ‘ফোকাস মিউজিক’ নামে উপস্থাপন করা হলেও, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো হারাম জিনিস হালাল হয়ে যায় না।
যদি সেখানে বাদ্যযন্ত্র, মিউজিকযুক্ত সুরের উপাদান থাকে, তাহলে তা পরিহার করা মুসলিমের জন্য কর্তব্য। (আইনুল মাবুদ, খন্ড : ১৩, পৃষ্ঠা-১৮৬, রাদ্দুল মুহতার, খন্ড : ৯, পৃষ্ঠা-৫৬৬)
কেননা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর জন্য ইসলামে বৈধ বিকল্প রয়েছে। যেমন—কোরআনের তিলাওয়াত শোনা, প্রকৃতির স্বাভাবিক শব্দ (বৃষ্টি, বাতাস ইত্যাদি) যদি তা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত হয়, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে মন শান্ত রাখা ও নিরিবিলি পরিবেশে অধ্যয়ন করা। আর মুমিনের প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুনিয়ার সাময়িক উপকারের জন্য এমন কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়, যা আখিরাতের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
‘স্টাডি মিউজিক’ যদি গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রভিত্তিক হয়, তবে তা থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়ার দাবি। মনে রাখতে হবে, যে জ্ঞান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অর্জন করা হয়, আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন। আর যে হৃদয় আল্লাহর জিকিরে প্রশান্তি খুঁজে পায়, তার জন্য অন্য কৃত্রিম প্রশান্তির প্রয়োজন হয় না।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

স্টাডি মিউজিক শোনার বিধান

আপডেট সময় ০৯:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

বর্তমান যুগে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর নামে ‘স্টাডি মিউজিক’, ‘ফোকাস মিউজিক’ কিংবা ‘লো-ফাই মিউজিক’-এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করেন, এসব সুর বা মিউজিক পড়াশোনার চাপ কমায় এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে।
কিন্তু একজন মুসলিমের জীবনে শুধু উপকারিতা নয়; বরং কোনো কাজ শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। কেননা ইসলামে মনোযোগের প্রকৃত উৎস হলো আল্লাহর স্মরণ, কোরআনের তিলাওয়াত ও বৈধ উপায়ে আত্মশুদ্ধি। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথাবার্তা ক্রয় করে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ৬)
অনেক মুফাসসিরিনে কেরাম বলেন, এখানে আল্লাহ তাআলা অসার কথাবার্তা দ্বারা গান-বাজনাকে বুঝিয়েছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর : ৫৫৯০)
তাই ফুকাহায়ে কেরামও বাদ্যযন্ত্র ও মিউজিকযুক্ত সংগীত শোনাকে নাজায়েজ বলেছেন। বিশেষত যখন তা মানুষের অন্তরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে এবং ধীরে ধীরে গুনাহের পরিবেশ তৈরি করে। বর্তমানে বাদ্যযন্ত্রের অনেক অ্যাপ ‘স্টাডি মিউজিক’, ‘ফোকাস মিউজিক’ নামে উপস্থাপন করা হলেও, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো হারাম জিনিস হালাল হয়ে যায় না।
যদি সেখানে বাদ্যযন্ত্র, মিউজিকযুক্ত সুরের উপাদান থাকে, তাহলে তা পরিহার করা মুসলিমের জন্য কর্তব্য। (আইনুল মাবুদ, খন্ড : ১৩, পৃষ্ঠা-১৮৬, রাদ্দুল মুহতার, খন্ড : ৯, পৃষ্ঠা-৫৬৬)
কেননা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর জন্য ইসলামে বৈধ বিকল্প রয়েছে। যেমন—কোরআনের তিলাওয়াত শোনা, প্রকৃতির স্বাভাবিক শব্দ (বৃষ্টি, বাতাস ইত্যাদি) যদি তা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত হয়, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে মন শান্ত রাখা ও নিরিবিলি পরিবেশে অধ্যয়ন করা। আর মুমিনের প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুনিয়ার সাময়িক উপকারের জন্য এমন কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়, যা আখিরাতের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
‘স্টাডি মিউজিক’ যদি গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রভিত্তিক হয়, তবে তা থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়ার দাবি। মনে রাখতে হবে, যে জ্ঞান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অর্জন করা হয়, আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন। আর যে হৃদয় আল্লাহর জিকিরে প্রশান্তি খুঁজে পায়, তার জন্য অন্য কৃত্রিম প্রশান্তির প্রয়োজন হয় না।