ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!

ফারাক্কা বাংলাদেশের মতো ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে : ন্যাপ মহাসচিব

গতকাল শনিবার ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভসিসি)-রংপুর আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। ছবি: বাসস

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এখন ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ ফারাক্কার অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে ভারতও এখন ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটিতেও এ বাঁধের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে।
গতকাল শনিবার ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভসিসি)-রংপুর আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ন্যাপ-এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১৯৬১ সালে ভারত সরকার ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ব্যারাজ চালুর পর মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এলাকায় নদীভাঙনের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ১৯৯০-২০০১ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারেও ফারাক্কার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে।
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, মওলানা মওলানা ভাসানী অনেক আগেই ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব অনুধাবন করেছিলেন। সে কারণেই তিনি জাতীয় স্বার্থে ফারাক্কার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ভারত কখনোই বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেবে না। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায় দেশ বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবে।
অনুষ্ঠানে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, ফারাক্কা সমস্যার মতো জাতীয় সংকটও যদি জাতিকে জাগাতে না পারে, তবে সামনে আরও বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, বরাক নদীর উজানে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মিতা রহমান বলেন, দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব জাতি গভীরভাবে অনুভব করছে। তিনি ভারতের আগ্রাসী পানি নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক অশোক ধর, সংগঠক মহিউদ্দিন আহমেদ, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিক তালুকদার এবং এএফএম শরীফুল আলম।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

ফারাক্কা বাংলাদেশের মতো ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে : ন্যাপ মহাসচিব

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এখন ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ ফারাক্কার অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে ভারতও এখন ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটিতেও এ বাঁধের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে।
গতকাল শনিবার ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভসিসি)-রংপুর আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ন্যাপ-এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১৯৬১ সালে ভারত সরকার ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ব্যারাজ চালুর পর মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এলাকায় নদীভাঙনের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ১৯৯০-২০০১ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারেও ফারাক্কার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে।
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, মওলানা মওলানা ভাসানী অনেক আগেই ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব অনুধাবন করেছিলেন। সে কারণেই তিনি জাতীয় স্বার্থে ফারাক্কার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ভারত কখনোই বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেবে না। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায় দেশ বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবে।
অনুষ্ঠানে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, ফারাক্কা সমস্যার মতো জাতীয় সংকটও যদি জাতিকে জাগাতে না পারে, তবে সামনে আরও বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, বরাক নদীর উজানে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মিতা রহমান বলেন, দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব জাতি গভীরভাবে অনুভব করছে। তিনি ভারতের আগ্রাসী পানি নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক অশোক ধর, সংগঠক মহিউদ্দিন আহমেদ, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিক তালুকদার এবং এএফএম শরীফুল আলম।