ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

শিশুদের সঙ্গে প্রাণোচ্ছ্বল সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ডে-কেয়ার সেন্টারের শিশুদের সঙ্গে প্রাণোচ্ছ্বল সময় কাটান। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ডে-কেয়ার সেন্টারের শিশুদের সঙ্গে প্রাণোচ্ছ্বল সময় কাটালেন ।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে প্রধানমন্ত্রী মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শনে যান।
ডে-কেয়ার সেন্টার জুড়ে তখন শিশুদের খেলনার টুংটাং শব্দ, কোথাও কচি কণ্ঠের হাসি আর আনন্দময় চিৎকার। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপে মুখর চার দেয়াল। এমন প্রাণচঞ্চল মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিরাপত্তার কড়া দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ১৮ মিনিট সময় কাটান শিশুদের সঙ্গে। এ সময় তিনি যেন ফিরে গেলেন সেই নির্ভার শৈশবে। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা আনন্দে বিভোর হয়ে ওঠে।
ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রবেশের পরপরই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান সরকার প্রধান তারেক রহমান। মুহূর্তেই তাকে ঘিরে ধরেন ছোট্ট শিশুরা। কেউ হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে, কেউ টেনে নিয়ে যায় খেলনার কাছে। কয়েকজন নিজেদের হাতে আঁকা ছবি দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীও মন দিয়ে সেসব দেখেন, মুগ্ধ হাসিতে প্রশংসা করেন। কখনও আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন শিশুদের মাথায়, কখনও তাদের কথায় হেসে ওঠেন প্রাণ খুলে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘিরে থাকা ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন। শিশুদের বিভিন্ন রকমের চকলেট, টফি. ললিপপ নিজ হাতে দিয়েছেন, দিয়েছেন গিফট ব্যাগও। চকলেট-টফি দিতে দিতে শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কেউ কি বাকি আছে? পেয়েছো তোমরা সবাই?
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকে কার জন্মদিন বলো তো? একেক জনকে বলতে শোনা যায়, আংকেল আমার, আংকেল আমার।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো আমরা এক সাথে কেক কাটি।’
শিশুদের নিয়ে হাতে হাতে রেখে কেক কাটেন সরকার প্রধান।
এ সময়ে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কক্ষ। ‘শিশুরা আনন্দে বলছিলো হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থ ডে।’ এর মধ্যে একজন শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মুখে তুলে কেক খাইয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন ছোট্ট শিশু আরিবা। সে বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী আংকেলকে দেখে আমি যে কী খুশি বলতে পারছি না। আংকেলের সাথে মজা করে কেক খেয়েছি। আংকেলও কেক খেয়েছেন। কি মজা কি মজা। আংকেল খুব ভালো, খুব সুইট। ‘
টেবিলে রাখা পুতুল আর চকলেট, ললিপপ দেখিয়ে দিয়ে আরিবা বলে, এই যে আংকেল আমাদের গিফটও দিয়েছেন।
ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না এখানে শিশুদের কিভাবে যতœ নেয়া হয় তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী ওই সময়ে জানতে চান, শিশুদের কি কি খাবার দেয়া হয়। ওদের মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এইসব শিশু দিবাযন্ত্র কেন্দ্র পরিচালনা করে। ঢাকাসহ সারা দেশে এ ধরনের ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে ২০টি।
তিনি আরো জানান, চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এই কেন্দ্রে সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। এই কেন্দ্রে শিশুরা সংখ্যায় ৬০ জন। আজ উপস্থিত ৫৫ জন।
প্রধানমন্ত্রী ডে কেয়ার সেন্টারটিতে আনন্দঘন অবস্থান শেষে হাত নেড়ে ‘টা-টা’ দিয়ে শিশুদের কাছ থেকে বিদায় নেন।
প্রধানমন্ত্রী যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন শিশুরা হাত নেড়ে, সালাম দিয়ে বিদায় জানান। শিশুদের নিষ্পাপ হাসি আর ভালোবাসার ভেতর প্রধানমন্ত্রী যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন দায়িত্বের কঠিন বাস্তবতা।
সেন্টারটি পরিদর্শনের সময়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ছাড়াও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

শিশুদের সঙ্গে প্রাণোচ্ছ্বল সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ডে-কেয়ার সেন্টারের শিশুদের সঙ্গে প্রাণোচ্ছ্বল সময় কাটালেন ।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে প্রধানমন্ত্রী মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শনে যান।
ডে-কেয়ার সেন্টার জুড়ে তখন শিশুদের খেলনার টুংটাং শব্দ, কোথাও কচি কণ্ঠের হাসি আর আনন্দময় চিৎকার। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপে মুখর চার দেয়াল। এমন প্রাণচঞ্চল মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিরাপত্তার কড়া দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ১৮ মিনিট সময় কাটান শিশুদের সঙ্গে। এ সময় তিনি যেন ফিরে গেলেন সেই নির্ভার শৈশবে। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা আনন্দে বিভোর হয়ে ওঠে।
ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রবেশের পরপরই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান সরকার প্রধান তারেক রহমান। মুহূর্তেই তাকে ঘিরে ধরেন ছোট্ট শিশুরা। কেউ হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে, কেউ টেনে নিয়ে যায় খেলনার কাছে। কয়েকজন নিজেদের হাতে আঁকা ছবি দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীও মন দিয়ে সেসব দেখেন, মুগ্ধ হাসিতে প্রশংসা করেন। কখনও আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন শিশুদের মাথায়, কখনও তাদের কথায় হেসে ওঠেন প্রাণ খুলে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘিরে থাকা ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন। শিশুদের বিভিন্ন রকমের চকলেট, টফি. ললিপপ নিজ হাতে দিয়েছেন, দিয়েছেন গিফট ব্যাগও। চকলেট-টফি দিতে দিতে শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কেউ কি বাকি আছে? পেয়েছো তোমরা সবাই?
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকে কার জন্মদিন বলো তো? একেক জনকে বলতে শোনা যায়, আংকেল আমার, আংকেল আমার।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো আমরা এক সাথে কেক কাটি।’
শিশুদের নিয়ে হাতে হাতে রেখে কেক কাটেন সরকার প্রধান।
এ সময়ে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কক্ষ। ‘শিশুরা আনন্দে বলছিলো হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থ ডে।’ এর মধ্যে একজন শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মুখে তুলে কেক খাইয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন ছোট্ট শিশু আরিবা। সে বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী আংকেলকে দেখে আমি যে কী খুশি বলতে পারছি না। আংকেলের সাথে মজা করে কেক খেয়েছি। আংকেলও কেক খেয়েছেন। কি মজা কি মজা। আংকেল খুব ভালো, খুব সুইট। ‘
টেবিলে রাখা পুতুল আর চকলেট, ললিপপ দেখিয়ে দিয়ে আরিবা বলে, এই যে আংকেল আমাদের গিফটও দিয়েছেন।
ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না এখানে শিশুদের কিভাবে যতœ নেয়া হয় তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী ওই সময়ে জানতে চান, শিশুদের কি কি খাবার দেয়া হয়। ওদের মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এইসব শিশু দিবাযন্ত্র কেন্দ্র পরিচালনা করে। ঢাকাসহ সারা দেশে এ ধরনের ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে ২০টি।
তিনি আরো জানান, চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এই কেন্দ্রে সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। এই কেন্দ্রে শিশুরা সংখ্যায় ৬০ জন। আজ উপস্থিত ৫৫ জন।
প্রধানমন্ত্রী ডে কেয়ার সেন্টারটিতে আনন্দঘন অবস্থান শেষে হাত নেড়ে ‘টা-টা’ দিয়ে শিশুদের কাছ থেকে বিদায় নেন।
প্রধানমন্ত্রী যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন শিশুরা হাত নেড়ে, সালাম দিয়ে বিদায় জানান। শিশুদের নিষ্পাপ হাসি আর ভালোবাসার ভেতর প্রধানমন্ত্রী যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন দায়িত্বের কঠিন বাস্তবতা।
সেন্টারটি পরিদর্শনের সময়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ছাড়াও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।