ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি: সিইসি

রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। অতীতে এসব নির্বাচনে ব্যাপক সংঘাত ও প্রাণহানি হয়েছে। তাই রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজনে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (আনফ্রেল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর্যবেক্ষণের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘‘ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাতের ঘটনা বেশি হয়েছে। অনেক জায়গায় শুধু প্রাণহানি নয়, বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে। এ জিনিস থামাতে হবে। তা থামানোটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমরা কোন রক্তপাত চাই না। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা দিতে চাই। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।’’ এ বিষয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিইসি।
স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘‘সবাইকে একত্রিত করার চেষ্টা করব। যাতে করে এ ধরণের সংঘাত এড়িয়ে সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে পারি, সে চেষ্টা করব।’’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিইসি অতীতের সহিংসতার তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)–এর তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত হন। এছাড়া আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৬ জন নিহত হন।’’
সিইসি বলেন, ‘‘আমাদের চেষ্টার কোন ঘাটতি থাকবে না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব। আমাদের চেষ্টার সঙ্গে সকলের সহযোগিতা পেলে দেশের স্বার্থে, সকলের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আরও নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র শুধু জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, তৃণমূল পর্যায়ের গণতন্ত্র আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরাই সরাসরি মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।’’
দলীয় সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসি চাপ বোধ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘‘নির্বাচনের জন্য সরকার একটি প্রধান অংশীজন। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসনসহ সব রাষ্ট্রীয় সংস্থার সহায়তা লাগে।’’
তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কমিশন যে সহযোগিতা পেয়েছে, ভবিষ্যতেও একই ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এ সরকারের অধীনে এখনো কোনো নির্বাচন হয়নি, তাই এ বিষয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে নির্বাচন কমিশন পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে কাজ করবে।’’
সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় একটি দায়িত্ব, কারণ দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ।
ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
ভোটের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যৎ কমিশনের জন্য কর্মশালা ও প্রতিবেদন তৈরির কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, কোথায় কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল তা সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরবর্তী কমিশন সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইসি কারও পক্ষেও নয়, কারও বিপক্ষেও নয়। কমিশনের লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। দেশের মঙ্গল ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংঘাত এড়িয়ে অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি: সিইসি

আপডেট সময় ০১:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। অতীতে এসব নির্বাচনে ব্যাপক সংঘাত ও প্রাণহানি হয়েছে। তাই রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজনে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (আনফ্রেল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর্যবেক্ষণের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘‘ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাতের ঘটনা বেশি হয়েছে। অনেক জায়গায় শুধু প্রাণহানি নয়, বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে। এ জিনিস থামাতে হবে। তা থামানোটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমরা কোন রক্তপাত চাই না। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা দিতে চাই। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।’’ এ বিষয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিইসি।
স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘‘সবাইকে একত্রিত করার চেষ্টা করব। যাতে করে এ ধরণের সংঘাত এড়িয়ে সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে পারি, সে চেষ্টা করব।’’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিইসি অতীতের সহিংসতার তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)–এর তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত হন। এছাড়া আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৬ জন নিহত হন।’’
সিইসি বলেন, ‘‘আমাদের চেষ্টার কোন ঘাটতি থাকবে না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব। আমাদের চেষ্টার সঙ্গে সকলের সহযোগিতা পেলে দেশের স্বার্থে, সকলের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আরও নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র শুধু জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, তৃণমূল পর্যায়ের গণতন্ত্র আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরাই সরাসরি মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।’’
দলীয় সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসি চাপ বোধ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘‘নির্বাচনের জন্য সরকার একটি প্রধান অংশীজন। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসনসহ সব রাষ্ট্রীয় সংস্থার সহায়তা লাগে।’’
তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কমিশন যে সহযোগিতা পেয়েছে, ভবিষ্যতেও একই ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এ সরকারের অধীনে এখনো কোনো নির্বাচন হয়নি, তাই এ বিষয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে নির্বাচন কমিশন পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে কাজ করবে।’’
সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় একটি দায়িত্ব, কারণ দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ।
ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
ভোটের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যৎ কমিশনের জন্য কর্মশালা ও প্রতিবেদন তৈরির কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, কোথায় কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল তা সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরবর্তী কমিশন সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইসি কারও পক্ষেও নয়, কারও বিপক্ষেও নয়। কমিশনের লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। দেশের মঙ্গল ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংঘাত এড়িয়ে অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।