মুমিনের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো হজ। একজন মুমিন তার সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করে হলেও এই মহান ইবাদত আদায়ের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন।
তবে কখনো কখনো সরকার, সমাজনেতা, প্রিয়জন বা অন্য কোনো না কোনোভাবে অনেকের হজের ব্যবস্থা হয়ে থাকে । এক্ষেত্রে সরকারি খরচে বা অন্যের অর্থায়নে হজে যাওয়া মূলত তাদের পক্ষ থেকে একটি হাদিয়া, সহযোগিতা ও সম্মানজনক বিষয়। যদি কোনো ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, হজের যাবতীয় ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাহ যথাযথভাবে আদায় করেন, তাহলে তিনি পূর্ণ সওয়াবই লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ। কেননা হজ কবুল হওয়ার মূল বিষয় হলো—
ইখলাস, তাকওয়া ও হালাল উপার্জন।
তাই কারো আর্থিক সহায়তায় হজে যাওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং এটি মুসলিম সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত। ফকিহ আবু লাইস (রহ.) বলেন, শাসকের পক্ষ থেকে উপহার গ্রহণ করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেছেন, যদি জানা না যায় যে, তা হারাম উৎস থেকে এসেছে, তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েজ।
ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, ‘আমিও এই মত পোষন করি, যতক্ষণ পর্যন্ত এর মধ্যে কোনো হারাম বিষয় স্পষ্টভাবে জানা না যায়।’ (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়্যা, ৫/৩৯৬)
এমনকি সাহাবায়ে কেরামের যুগেও শাসকদের পক্ষ থেকে উপহার গ্রহণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মানুষকে উপহার দিতেন এবং তা গ্রহণ করা হতো। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ১০৫৬৯)
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি—হজের সফর হালাল সম্পদ দ্বারা হওয়া চাই। যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, সরকার বা কোনো ব্যক্তি হারাম উপার্জনের টাকা দ্বারা কাউকে হজে পাঠাচ্ছে, তাহলে সেই অর্থ গ্রহণ করা বৈধ হবে না।
আর হারাম সম্পদ দ্বারা হজ আদায় করলে হজের কবুলিয়ত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা, মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি উত্তম ও হালাল সম্পদ নিয়ে হজে বের হয় এবং ‘লাব্বাইক’ বলতে বলতে যাত্রা করে, তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষক বলে ওঠে: ‘তোমার ডাকে সাড়া দেওয়া হয়েছে, তোমার রিজিক হালাল, তোমার বাহন হালাল এবং তোমার হজ কবুল হয়েছে।’ আর যখন কেউ হারাম সম্পদ নিয়ে হজে বের হয় এবং ‘লাব্বাইক’ বলে, তখন আকাশ থেকে ঘোষণা আসে: ‘তোমার ডাকে সাড়া নেই। তোমার রিজিক হারাম, তোমার ব্যয় হারাম এবং তোমার হজ অগ্রহণযোগ্য।’ (মুজামে আওসাত, হাদিস নং : ৫২২৮)
অনেকেই মনে করেন, নিজের অর্থ ব্যয় না করলে হয়তো হজের পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে না। অথচ বাস্তবতা হলো—যদি উপার্জন হালাল হয়, সহায়তা বৈধ হয় এবং হজ ইখলাসের সাথে আদায় করা হয়, তাহলে আল্লাহর রহমতের দরজা উন্মুক্ত। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দার আন্তরিকতা দেখেন, অর্থের পরিমাণ নয়। ফিকহি কিতাব সমূহে আছে, ‘যদি দাতার সম্পদের অধিকাংশ হালাল হয়, তাহলে তার উপহার গ্রহণ করতে কোনো সমস্যা নেই; যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা না যায় যে, তা হারাম সম্পদ থেকে এসেছে।’ (মাজমাউল আনহার : ৪/১৮৬, বাজাজিয়্যা : ৬/৩৬০, কাজি খান : ৩/৪০০)
অতএব, সরকারি খরচে কিংবা কারো সহযোগিতায় হজে যাওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ এবং এতে পূর্ণ সওয়াব লাভের আশা করা যায়। তবে শর্ত হলো—সহযোগিতার উৎস বৈধ হতে হবে, আর হজ হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। হজ শুধু কাবাঘর প্রদক্ষিণ নয়; বরং এটি আত্মাকে পবিত্র করার এক মহান প্রশিক্ষণ।
সংবাদ শিরোনাম
সরকার বা অন্যের খরচে হজ করার বিধান
-
মুফতি ওমর বিন নাছির - আপডেট সময় ১০:৫৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- 126
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























