ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

আরাফার এক দিনের রোজায় দুই বছরের সহিরা গুনাহ মাফ

আগামী ২৬ মে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজের দিন তথা ইয়াওমে আরাফা। এ দিনের রোজা পালন সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে গুনাহ মাফ, রহমত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মহাসুসংবাদ।
ইসলামের বরকতময় দিনগুলোর মধ্যে আরাফার দিন অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এই দিনেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং লাখো হাজি আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে কান্না, দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন।
শুধু হাজিদের জন্যই নয়, সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যও এই দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অসাধারণ মর্যাদা ও পুরস্কারের সুসংবাদ দিয়েছেন।
আরাফার দিনের রোজার বিশেষ ফজিলত। হজরত আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন
‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ রোজা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’ (মুসলিম ১১৬২, মুসনাদে আহমদ)
আরেক বর্ণনায় হজরত কাতাদা (রা.) থেকে এসেছে—
‘আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি আরাফার দিনের রোজার মাধ্যমে পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম ১১৬২)
হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোজা রাখে, তার একাধারে দুই বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (আবু ইয়ালা; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)
উল্লেখিত হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট হয়, আরাফার দিনের রোজার মর্যাদা কত বিশাল। এটি এমন একটি দিন, যেদিন মহান আল্লাহ বান্দার সবচেয়ে কাছে আসেন এবং অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তাআলা আরাফার দিনের চেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।’ (মুসলিম ১৩৪৮)
অন্য বর্ণনায় এসেছে—
‘আর আল্লাহ তাআলা এ দিনে বান্দাদের কাছাকাছি হন এবং ফেরেশতাদের সামনে গৌরব প্রকাশ করে বলেন— এ বান্দারা কী চায়?’ (মুসলিম ১৩৪৮)
আরাফার দিন: দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়
হজের দিন আল্লাহর মেহমানরা আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করে নিজেদের গুনাহ মাফ ও জীবনের নানা প্রয়োজন আল্লাহর কাছে তুলে ধরেন। মহান আল্লাহ এ দিনে বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং তাদের ক্ষমা করে দেন।
তাই যারা হজে যেতে পারেননি, তাদের জন্যও এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজা, দোয়া, জিকির, তওবা ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ এটি।
আরাফার দিন শুধু একটি সাধারণ দিন নয়; এটি রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির মহামূল্যবান উপলক্ষ। এই এক দিনের রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা দুই বছরের গুনাহ মাফের সুসংবাদ দিয়েছেন, যা একজন মুমিনের জন্য বিরাট নেয়ামত। তাই আসুন, আমরা সবাই এই বরকতময় দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করি। রোজা রাখি, বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করি, দোয়া ও জিকিরে নিজেদের ব্যস্ত রাখি। হয়তো এই দিনটিই আমাদের জীবনের গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

আরাফার এক দিনের রোজায় দুই বছরের সহিরা গুনাহ মাফ

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

আগামী ২৬ মে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজের দিন তথা ইয়াওমে আরাফা। এ দিনের রোজা পালন সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে গুনাহ মাফ, রহমত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মহাসুসংবাদ।
ইসলামের বরকতময় দিনগুলোর মধ্যে আরাফার দিন অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এই দিনেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং লাখো হাজি আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে কান্না, দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন।
শুধু হাজিদের জন্যই নয়, সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যও এই দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অসাধারণ মর্যাদা ও পুরস্কারের সুসংবাদ দিয়েছেন।
আরাফার দিনের রোজার বিশেষ ফজিলত। হজরত আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন
‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ রোজা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’ (মুসলিম ১১৬২, মুসনাদে আহমদ)
আরেক বর্ণনায় হজরত কাতাদা (রা.) থেকে এসেছে—
‘আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি আরাফার দিনের রোজার মাধ্যমে পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম ১১৬২)
হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোজা রাখে, তার একাধারে দুই বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (আবু ইয়ালা; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)
উল্লেখিত হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট হয়, আরাফার দিনের রোজার মর্যাদা কত বিশাল। এটি এমন একটি দিন, যেদিন মহান আল্লাহ বান্দার সবচেয়ে কাছে আসেন এবং অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তাআলা আরাফার দিনের চেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।’ (মুসলিম ১৩৪৮)
অন্য বর্ণনায় এসেছে—
‘আর আল্লাহ তাআলা এ দিনে বান্দাদের কাছাকাছি হন এবং ফেরেশতাদের সামনে গৌরব প্রকাশ করে বলেন— এ বান্দারা কী চায়?’ (মুসলিম ১৩৪৮)
আরাফার দিন: দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়
হজের দিন আল্লাহর মেহমানরা আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করে নিজেদের গুনাহ মাফ ও জীবনের নানা প্রয়োজন আল্লাহর কাছে তুলে ধরেন। মহান আল্লাহ এ দিনে বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং তাদের ক্ষমা করে দেন।
তাই যারা হজে যেতে পারেননি, তাদের জন্যও এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজা, দোয়া, জিকির, তওবা ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ এটি।
আরাফার দিন শুধু একটি সাধারণ দিন নয়; এটি রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির মহামূল্যবান উপলক্ষ। এই এক দিনের রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা দুই বছরের গুনাহ মাফের সুসংবাদ দিয়েছেন, যা একজন মুমিনের জন্য বিরাট নেয়ামত। তাই আসুন, আমরা সবাই এই বরকতময় দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করি। রোজা রাখি, বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করি, দোয়া ও জিকিরে নিজেদের ব্যস্ত রাখি। হয়তো এই দিনটিই আমাদের জীবনের গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।