ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক আনন্দ স্বরের বাড়ির পশ্চিম পাশের এক শতাংশ জমি ভূমিদস্যুর দখলে জনমনে ক্ষোভ, শাস্তির দাবী

সরকারী ভাতাপ্রাপ্ত কবি আনন্দ কুমার স্বরের বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের রাস্তা সংলগ্ন প্রায় ১ শতাংশ বাস্ত জমি জবর দখল করেছে ভূমিদস্যু দীপক কুমার নন্দী। এতে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতনমহল প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি ভূমিদস্যু ও আওয়ামীলীগ নেতা দীপক কুমার নন্দী ও তার সহযোগী ৩৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ভূমিদস্যু মফিজ খান (চিটার মফিজ নামে খ্যাত) রাস্তা বৃদ্ধির কথা বলে বিশিষ্ট কবি, লেখক ও সাংবাদিক আনন্দ কুমার স্বরের নিকট হাজির হয়ে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তার বাড়ির পশ্চিম দিকের রাস্তার মোড় দিয়ে আধা শতক জমি ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। তিনি প্রথমে এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। পরে নানা দেন দরবারের পর রাস্তার উত্তর পাশ দিয়ে এক শতক এবং সংশ্লিষ্ট আধা শতক জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তাকে আধা শতক জমির দাম ২ লক্ষ দশ হাজার টাকা দিয়ে ইজমেন্ট রাইটস নামক একটি দলিল করা হয়। বাকি এক শতক জমি রাস্তার (পশ্চিম পাশে) জায়গা জোর করে দখল করে নেয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ (মূলত এটা রাস্তার জায়গা নয়)। এসময় কবির হাতে লাগানো ফলন্ত ৫টি নরিকেল গাছ, সুপারী গাছ, মেহগিনি গাছ, আম ও বাতামী লেবুর গাছ জোর করে কর্তন ও আর্থসামাজিক সানরাইজ করে তচনছ করা হয়। এর প্রতিবাদে কবি আনন্দ কুমার স্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহানের নিকট (বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলার এডিএম) একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি পরবর্তীতে এসিল্যান্ড পাপিয়া সুলতানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এঘটনার সত্যতা পান। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নোটিশ করলে তারা হাজির হননি। এরপর একই সাথে ইউএনও ও এসিল্যান্ড অন্যত্র বদলী হলে বিষয়টি অমিমাংসিত থেকে যায়। সংশ্লিষ্ট অপর সূত্র জানায়, দীপক নন্দী ও তার দলবল দীর্ঘদিন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় জমি কেনাবেচা করে আসছে। এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির জমি জাল জালিয়াতি ও ভুয়া ওয়ারেশ কায়েম দিয়ে নামপত্তনের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যে সার্বিক সহযোগিতা করে ভূমিদস্যুবৃত্তির মাফিয়া ডন আওয়ামীলীগ নেতা মফিজ খান। এলাকার সচেতনমহলের অভিযোগ, এচক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ এসব কার্যে আইনের ফাঁক ফোঁকের মাধ্যমে চলমান থাকলেও কার্যত কোন শাস্তির আওতায় আসছে না। বিভিন্ন ঘটনাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এসব কর্মকান্ড আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যাবস্থা করলে এলাকাবাসী শান্তি পেত বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক আনন্দ স্বরের বাড়ির পশ্চিম পাশের এক শতাংশ জমি ভূমিদস্যুর দখলে জনমনে ক্ষোভ, শাস্তির দাবী

আপডেট সময় ১২:২৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সরকারী ভাতাপ্রাপ্ত কবি আনন্দ কুমার স্বরের বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের রাস্তা সংলগ্ন প্রায় ১ শতাংশ বাস্ত জমি জবর দখল করেছে ভূমিদস্যু দীপক কুমার নন্দী। এতে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতনমহল প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি ভূমিদস্যু ও আওয়ামীলীগ নেতা দীপক কুমার নন্দী ও তার সহযোগী ৩৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ভূমিদস্যু মফিজ খান (চিটার মফিজ নামে খ্যাত) রাস্তা বৃদ্ধির কথা বলে বিশিষ্ট কবি, লেখক ও সাংবাদিক আনন্দ কুমার স্বরের নিকট হাজির হয়ে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তার বাড়ির পশ্চিম দিকের রাস্তার মোড় দিয়ে আধা শতক জমি ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। তিনি প্রথমে এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। পরে নানা দেন দরবারের পর রাস্তার উত্তর পাশ দিয়ে এক শতক এবং সংশ্লিষ্ট আধা শতক জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তাকে আধা শতক জমির দাম ২ লক্ষ দশ হাজার টাকা দিয়ে ইজমেন্ট রাইটস নামক একটি দলিল করা হয়। বাকি এক শতক জমি রাস্তার (পশ্চিম পাশে) জায়গা জোর করে দখল করে নেয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ (মূলত এটা রাস্তার জায়গা নয়)। এসময় কবির হাতে লাগানো ফলন্ত ৫টি নরিকেল গাছ, সুপারী গাছ, মেহগিনি গাছ, আম ও বাতামী লেবুর গাছ জোর করে কর্তন ও আর্থসামাজিক সানরাইজ করে তচনছ করা হয়। এর প্রতিবাদে কবি আনন্দ কুমার স্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহানের নিকট (বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলার এডিএম) একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি পরবর্তীতে এসিল্যান্ড পাপিয়া সুলতানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এঘটনার সত্যতা পান। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নোটিশ করলে তারা হাজির হননি। এরপর একই সাথে ইউএনও ও এসিল্যান্ড অন্যত্র বদলী হলে বিষয়টি অমিমাংসিত থেকে যায়। সংশ্লিষ্ট অপর সূত্র জানায়, দীপক নন্দী ও তার দলবল দীর্ঘদিন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় জমি কেনাবেচা করে আসছে। এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির জমি জাল জালিয়াতি ও ভুয়া ওয়ারেশ কায়েম দিয়ে নামপত্তনের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যে সার্বিক সহযোগিতা করে ভূমিদস্যুবৃত্তির মাফিয়া ডন আওয়ামীলীগ নেতা মফিজ খান। এলাকার সচেতনমহলের অভিযোগ, এচক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ এসব কার্যে আইনের ফাঁক ফোঁকের মাধ্যমে চলমান থাকলেও কার্যত কোন শাস্তির আওতায় আসছে না। বিভিন্ন ঘটনাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এসব কর্মকান্ড আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যাবস্থা করলে এলাকাবাসী শান্তি পেত বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।