ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

পবিত্র আশুরা আজ

  • ইসলাম ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০৯:২৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • 84

আজ শুক্রবার ১০ মহররম পবিত্র আশুরা । আশুরা শব্দের অর্থ দশম। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঘটনার কারণে হিজরি মহররম মাসের দশম দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ। সবশেষ ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদত বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে শোক ও ত্যাগের মহিমাময় অনুষজ্ঞ। এ দিনটিতে বিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নামাজ-রোজাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত করে থাকেন। শিয়া সম্প্রদায় তাজিয়া মিছিল বের করে থাকে। দিনটি উপলক্ষ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। আজ সরকারি ছুটির দিন।
দিনটি উপলক্ষ্য বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে পবিত্র আশুরার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলকে স্বৈরাচারী শাসক ফেরাউনের কবল থেকে আল্লাহ রক্ষা করেছিলেন এই দিন।
হজরত হোসাইন (রা.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে সেদিন কারবালা প্রান্তরে পরিবার-পরিজন নিয়ে শাহাদতবরণ করেছিলেন। রাসুল (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং তার সাহাবিদের প্রবর্তিত খেলাফতি শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার সংগ্রামে তিনি শাহাদতবরণ করেন। কারবালার ঘটনা আমাদের অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে সংগ্রাম করার কথাই শিক্ষা দেয়।
ইবাদত : হাদিসে এসেছে, আশুরার রোজা পালনে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহররম মাসে রোজা ফরজ ছিল। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে রোজা ঐচ্ছিক হিসাবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা।
ইফার আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল : পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বাদ জোহর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএমপির নির্দেশনা : তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও লাঠি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ আদেশ তাজিয়া মিছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলবত থাকবে।
আশুরা নিয়ে প্রচলিত যত ভুল ধারণা
পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ আশুরার দিন ঘিরে মুসলিম সমাজে নানা ধরনের বিশ্বাস ও প্রথা প্রচলিত রয়েছে। তবে এর বড় একটি অংশের সঙ্গে কোরআন বা বিশুদ্ধ হাদিসের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত সামাজিক রীতি এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা এসব ভুল ধারণার ভিড়ে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে আশুরার মূল শিক্ষা।
আশুরার গুরুত্ব ও রোজার প্রেক্ষাপট
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহররমের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ ফেরাউনের অত্যাচার থেকে হজরত মুসা (আ.) এবং বনী ইসরাইলকে মুক্তি দিয়েছিলেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর দেখতে পান যে, ওখানকার ইহুদি সম্প্রদায় এই দিনে রোজা রাখছে। কারণ জানতে পেরে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমাদের অধিকার তাদের চেয়ে বেশি। এরপর তিনি মুসলমানদের এই দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে রমজান মাস এবং আশুরার দিন ছাড়া অন্য কোনো দিনের রোজার ফজিলত পাওয়ার জন্য এতটা উন্মুখ হতে দেখিনি। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা আবশ্যক ছিল। পরবর্তীতে তা ঐচ্ছিক বা নফল ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। তবে এর সওয়াব অনেক বেশি; এই একটি রোজার বিনিময়ে মহান আল্লাহ বান্দার বিগত এক বছরের ছোট গুনাহ মাফ করে দেন।
ভিত্তিহীন যত সামাজিক বিশ্বাস
আশুরার দিনটিকে কেন্দ্র করে এমন কিছু বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে, যা ইসলামের চার ইমাম বা কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম সমর্থন করেননি। এগুলোর কোনো শক্ত প্রমাণ ইসলামী গ্রন্থে নেই। যেমন: এই দিনে হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল— এমন দাবির সপক্ষে কোনো সহিহ হাদিস নেই।
এই দিনে হযরত ইব্রাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন— এই তথ্যটিরও কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায় না। আশুরার দিনে গোসল করলে সারা বছর রোগবালাই থেকে দূরে থাকা যায়— এটি সম্পূর্ণ একটি লোকজ বিশ্বাস, যার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই।
এই দিনে চোখে সুরমা দিলে চোখের জ্যোতি বাড়ে বা রোগ হয় না— এ ধারণার সপক্ষেও কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই।
বিশেষ খাবারের আয়োজন— আশুরার দিনে নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা খিচুড়ি রান্না করে বিতরণ করার বিশেষ কোনো ধর্মীয় নির্দেশ ইসলামে নেই।স্বাভাবিকভাবে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন করায় বাধা নেই, তবে একে সওয়াবের কাজ বা ধর্মীয় অংশ মনে করা ভুল।
আশুরা কোনো অশুভ বা অপয়া দিন নয়— ইসলামে কোনো দিন বা ক্ষণকে অশুভ মনে করার সুযোগ নেই। প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি তাকি উসমানি জানান, কোনো দিন নিজে থেকে ভালো বা মন্দ হয় না। আল্লাহ যাকে মর্যাদা দেন, কেবল সেটিই মর্যাদাবান।
১০ই মহররম কেয়ামত হবে— এমন গুঞ্জনও ছড়ানো হয়, যার সপক্ষে কুরআন বা হাদিসের কোনো স্পষ্ট বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
আশুরা এবং কারবালা
মহররমের ১০ তারিখে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর সপরিবারে শাহাদাত বরণ ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। তবে আলেমরা স্পষ্ট করেছেন যে, কারবালার ঘটনার বহু আগে থেকেই আশুরার দিনটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল। আল্লাহ তায়ালা তার অসীম হেকমতে এই মর্যাদাবান দিনটিতেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্রকে শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। তাই আশুরার মূল আমল হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও রোজা রাখা, কোনো ধরনের শোকের মাতম বা বুক চাপড়ানো নয়।
আশুরার সঠিক আমল
পবিত্র এই দিনে ইসলামসম্মত ও প্রমাণিত কাজগুলো অত্যন্ত সহজ:
মহররমের ৯ ও ১০ তারিখে (অথবা ১০ ও ১১ তারিখে) রোজা রাখা। ইহুদিদের সংস্কৃতির সঙ্গে যেন মিলে না যায়, সেজন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) দুটি রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
বেশি বেশি আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা।
সাধ্যমতো দান-সদকা করা। হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তির ইতিহাস এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের গল্প থেকে শিক্ষা নেওয়া।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

পবিত্র আশুরা আজ

আপডেট সময় ০৯:২৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আজ শুক্রবার ১০ মহররম পবিত্র আশুরা । আশুরা শব্দের অর্থ দশম। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঘটনার কারণে হিজরি মহররম মাসের দশম দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ। সবশেষ ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদত বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে শোক ও ত্যাগের মহিমাময় অনুষজ্ঞ। এ দিনটিতে বিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নামাজ-রোজাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত করে থাকেন। শিয়া সম্প্রদায় তাজিয়া মিছিল বের করে থাকে। দিনটি উপলক্ষ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। আজ সরকারি ছুটির দিন।
দিনটি উপলক্ষ্য বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে পবিত্র আশুরার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলকে স্বৈরাচারী শাসক ফেরাউনের কবল থেকে আল্লাহ রক্ষা করেছিলেন এই দিন।
হজরত হোসাইন (রা.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে সেদিন কারবালা প্রান্তরে পরিবার-পরিজন নিয়ে শাহাদতবরণ করেছিলেন। রাসুল (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং তার সাহাবিদের প্রবর্তিত খেলাফতি শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার সংগ্রামে তিনি শাহাদতবরণ করেন। কারবালার ঘটনা আমাদের অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে সংগ্রাম করার কথাই শিক্ষা দেয়।
ইবাদত : হাদিসে এসেছে, আশুরার রোজা পালনে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহররম মাসে রোজা ফরজ ছিল। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে রোজা ঐচ্ছিক হিসাবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা।
ইফার আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল : পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বাদ জোহর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএমপির নির্দেশনা : তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও লাঠি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ আদেশ তাজিয়া মিছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলবত থাকবে।
আশুরা নিয়ে প্রচলিত যত ভুল ধারণা
পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ আশুরার দিন ঘিরে মুসলিম সমাজে নানা ধরনের বিশ্বাস ও প্রথা প্রচলিত রয়েছে। তবে এর বড় একটি অংশের সঙ্গে কোরআন বা বিশুদ্ধ হাদিসের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত সামাজিক রীতি এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা এসব ভুল ধারণার ভিড়ে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে আশুরার মূল শিক্ষা।
আশুরার গুরুত্ব ও রোজার প্রেক্ষাপট
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহররমের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ ফেরাউনের অত্যাচার থেকে হজরত মুসা (আ.) এবং বনী ইসরাইলকে মুক্তি দিয়েছিলেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর দেখতে পান যে, ওখানকার ইহুদি সম্প্রদায় এই দিনে রোজা রাখছে। কারণ জানতে পেরে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমাদের অধিকার তাদের চেয়ে বেশি। এরপর তিনি মুসলমানদের এই দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে রমজান মাস এবং আশুরার দিন ছাড়া অন্য কোনো দিনের রোজার ফজিলত পাওয়ার জন্য এতটা উন্মুখ হতে দেখিনি। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা আবশ্যক ছিল। পরবর্তীতে তা ঐচ্ছিক বা নফল ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। তবে এর সওয়াব অনেক বেশি; এই একটি রোজার বিনিময়ে মহান আল্লাহ বান্দার বিগত এক বছরের ছোট গুনাহ মাফ করে দেন।
ভিত্তিহীন যত সামাজিক বিশ্বাস
আশুরার দিনটিকে কেন্দ্র করে এমন কিছু বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে, যা ইসলামের চার ইমাম বা কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম সমর্থন করেননি। এগুলোর কোনো শক্ত প্রমাণ ইসলামী গ্রন্থে নেই। যেমন: এই দিনে হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল— এমন দাবির সপক্ষে কোনো সহিহ হাদিস নেই।
এই দিনে হযরত ইব্রাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন— এই তথ্যটিরও কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায় না। আশুরার দিনে গোসল করলে সারা বছর রোগবালাই থেকে দূরে থাকা যায়— এটি সম্পূর্ণ একটি লোকজ বিশ্বাস, যার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই।
এই দিনে চোখে সুরমা দিলে চোখের জ্যোতি বাড়ে বা রোগ হয় না— এ ধারণার সপক্ষেও কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই।
বিশেষ খাবারের আয়োজন— আশুরার দিনে নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা খিচুড়ি রান্না করে বিতরণ করার বিশেষ কোনো ধর্মীয় নির্দেশ ইসলামে নেই।স্বাভাবিকভাবে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন করায় বাধা নেই, তবে একে সওয়াবের কাজ বা ধর্মীয় অংশ মনে করা ভুল।
আশুরা কোনো অশুভ বা অপয়া দিন নয়— ইসলামে কোনো দিন বা ক্ষণকে অশুভ মনে করার সুযোগ নেই। প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি তাকি উসমানি জানান, কোনো দিন নিজে থেকে ভালো বা মন্দ হয় না। আল্লাহ যাকে মর্যাদা দেন, কেবল সেটিই মর্যাদাবান।
১০ই মহররম কেয়ামত হবে— এমন গুঞ্জনও ছড়ানো হয়, যার সপক্ষে কুরআন বা হাদিসের কোনো স্পষ্ট বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
আশুরা এবং কারবালা
মহররমের ১০ তারিখে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর সপরিবারে শাহাদাত বরণ ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। তবে আলেমরা স্পষ্ট করেছেন যে, কারবালার ঘটনার বহু আগে থেকেই আশুরার দিনটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল। আল্লাহ তায়ালা তার অসীম হেকমতে এই মর্যাদাবান দিনটিতেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্রকে শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। তাই আশুরার মূল আমল হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও রোজা রাখা, কোনো ধরনের শোকের মাতম বা বুক চাপড়ানো নয়।
আশুরার সঠিক আমল
পবিত্র এই দিনে ইসলামসম্মত ও প্রমাণিত কাজগুলো অত্যন্ত সহজ:
মহররমের ৯ ও ১০ তারিখে (অথবা ১০ ও ১১ তারিখে) রোজা রাখা। ইহুদিদের সংস্কৃতির সঙ্গে যেন মিলে না যায়, সেজন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) দুটি রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
বেশি বেশি আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা।
সাধ্যমতো দান-সদকা করা। হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তির ইতিহাস এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের গল্প থেকে শিক্ষা নেওয়া।