ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

জুলাই সনদের চেতনা ধরেই সংবিধান সংশোধন হবে: আইনমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের জুলাই সনদের মূল ভাবধারা ও চেতনার আলোকে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়েই সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের কাজ শুধু সংসদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে খুব শিগগিরই জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করা হবে। পাশাপাশি জুলাই সনদ প্রণয়নে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করে এর ধারাগুলোকে সাংবিধানিক ভাষায় রূপ দেওয়া হবে।
কমিটির গঠন নিয়ে তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটিতে বিএনপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য রয়েছেন। তবে বিরোধীদলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্যপদ এখনো খালি রয়েছে। সরকার তাদের কমিটিতে যুক্ত করতে আগ্রহী এবং তারা যখনই নাম দেবে, তখনই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল সরাসরি কমিটিতে না থাকলেও জুলাই সনদে তাদের অনেক মতামতের প্রতিফলন রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ভারতের ‘কেশবানন্দ ভারতী’ মামলার নীতিও বিবেচনায় রাখা হবে। সংবিধানের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।
কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সংবিধান কোনো একক সরকার বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল। তাই সময়ের প্রয়োজন ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার জরুরি।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সময়ের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই জাতীয় স্বার্থে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলসহ সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, জুলাই সনদের মূল নীতিগুলো অনুসরণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের উপযোগী সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

জুলাই সনদের চেতনা ধরেই সংবিধান সংশোধন হবে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৪৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের জুলাই সনদের মূল ভাবধারা ও চেতনার আলোকে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়েই সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের কাজ শুধু সংসদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে খুব শিগগিরই জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করা হবে। পাশাপাশি জুলাই সনদ প্রণয়নে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করে এর ধারাগুলোকে সাংবিধানিক ভাষায় রূপ দেওয়া হবে।
কমিটির গঠন নিয়ে তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটিতে বিএনপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য রয়েছেন। তবে বিরোধীদলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্যপদ এখনো খালি রয়েছে। সরকার তাদের কমিটিতে যুক্ত করতে আগ্রহী এবং তারা যখনই নাম দেবে, তখনই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল সরাসরি কমিটিতে না থাকলেও জুলাই সনদে তাদের অনেক মতামতের প্রতিফলন রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ভারতের ‘কেশবানন্দ ভারতী’ মামলার নীতিও বিবেচনায় রাখা হবে। সংবিধানের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।
কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সংবিধান কোনো একক সরকার বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল। তাই সময়ের প্রয়োজন ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার জরুরি।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সময়ের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই জাতীয় স্বার্থে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলসহ সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, জুলাই সনদের মূল নীতিগুলো অনুসরণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের উপযোগী সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংসদে উপস্থাপন করা হবে।