ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি চক্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পনা করছে। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখন একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছি। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতর থেকে দেশকে সফলভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে সরকার।
কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। বিগত দিনের অপরিকল্পিত প্ল্যান ও প্রজেক্টগুলো আমাদের জ্বালানি খাতকে বিপদের মুখে ফেলেছে। সরকার এগুলো ঠিক করে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার কাজ করছে।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতি হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)। রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে সরকার দেশে ১ লাখ ‘হেলথ ওয়ার্কার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এই স্বাস্থ্যকর্মীরা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন।
চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেহেতু সবকিছুকে প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা পেশাজীবীদের রাজনীতি সচেতন থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সু-সংগঠিত থাকা অযৌক্তিক কিছু নয়। তবে এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বিঘœ না ঘটায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সরকার বিবেচনা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরতদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে দাবিগুলো এসেছে, তা অযৌক্তিক নয়। এগুলো সরকারের বিবেচনার মধ্যে থাকা উচিত।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যখাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এর বাইরেও যত দ্রুত সম্ভব ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সকল চিকিৎসকের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আর কাউকে বিদেশমুখী হতে হবে না।
চিকিৎসক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:২৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি চক্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পনা করছে। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখন একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছি। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতর থেকে দেশকে সফলভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে সরকার।
কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। বিগত দিনের অপরিকল্পিত প্ল্যান ও প্রজেক্টগুলো আমাদের জ্বালানি খাতকে বিপদের মুখে ফেলেছে। সরকার এগুলো ঠিক করে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার কাজ করছে।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতি হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)। রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে সরকার দেশে ১ লাখ ‘হেলথ ওয়ার্কার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এই স্বাস্থ্যকর্মীরা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন।
চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেহেতু সবকিছুকে প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা পেশাজীবীদের রাজনীতি সচেতন থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সু-সংগঠিত থাকা অযৌক্তিক কিছু নয়। তবে এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বিঘœ না ঘটায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সরকার বিবেচনা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরতদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে দাবিগুলো এসেছে, তা অযৌক্তিক নয়। এগুলো সরকারের বিবেচনার মধ্যে থাকা উচিত।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যখাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এর বাইরেও যত দ্রুত সম্ভব ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সকল চিকিৎসকের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আর কাউকে বিদেশমুখী হতে হবে না।
চিকিৎসক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।