ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

শামা ওবায়েদ তৃণমূলে নারীর অংশ নেওয়া নিশ্চিতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তন জরুরি

রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতা ও নীতিতে পরিবর্তন এনে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ নারীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তৃণমূলের নারীদের ক্ষমতায়ন ও সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন তারা।
গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সমাপনী সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। জার্মানভিত্তিক রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুংয়ের (এফইএস) সহযোগিতায় সংলাপটি আয়োজন করা হয়।
সংলাপে শামা ওবায়েদ বলেন, শিক্ষা নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়। তবে রাজনীতি ও সমাজে অনলাইন হয়রানিসহ নানা বাধা এখনো রয়েছে। এসব মোকাবিলায় রাষ্ট্র ও সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নারীদের সহায়তা করা একটি নীতিগত বিষয় হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এই পথ কখনোই সহজ নয়। যত বাধাই থাকুক, নারীদের মেধা ও আত্মসম্মান নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট ও সংলাপের সঞ্চালক জিল্লুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দল ও মতের নারীরা একসঙ্গে কাজ করেছেন- এটাই এ আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির জন্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে নারীদের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, নারীরা যেন সমাজের সব ক্ষেত্রে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে জন্য মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থ ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি নারীদের এগিয়ে আসার পথে বড় বাধা। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনীহা, দলীয় কাঠামো এবং পরিবারে সম্পত্তিসহ সামাজিক বৈষম্য দূর করা না গেলে এর প্রভাব রাজনীতিতেও থেকে যাবে।
এবি পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নারী নেতৃত্ব হলো একটি দেশ ও সমাজ কতদূর এগিয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ মানদ-। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে হবে। নেতৃত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, গুণগত ও অর্থবহ হতে হবে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পরিবারতন্ত্রে আবদ্ধ এবং নতুন নারী নেতৃত্ব তুলে আনতে অনীহা দেখায়। সাইবার বুলিং প্রতিরোধেও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, আদর্শগত পার্থক্য নির্বিশেষে নারীদের শক্তিশালী করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। নারীর অধিকার কোনো দয়া নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ। পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

শামা ওবায়েদ তৃণমূলে নারীর অংশ নেওয়া নিশ্চিতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তন জরুরি

আপডেট সময় ০৬:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতা ও নীতিতে পরিবর্তন এনে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ নারীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তৃণমূলের নারীদের ক্ষমতায়ন ও সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন তারা।
গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সমাপনী সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। জার্মানভিত্তিক রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুংয়ের (এফইএস) সহযোগিতায় সংলাপটি আয়োজন করা হয়।
সংলাপে শামা ওবায়েদ বলেন, শিক্ষা নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়। তবে রাজনীতি ও সমাজে অনলাইন হয়রানিসহ নানা বাধা এখনো রয়েছে। এসব মোকাবিলায় রাষ্ট্র ও সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নারীদের সহায়তা করা একটি নীতিগত বিষয় হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এই পথ কখনোই সহজ নয়। যত বাধাই থাকুক, নারীদের মেধা ও আত্মসম্মান নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট ও সংলাপের সঞ্চালক জিল্লুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দল ও মতের নারীরা একসঙ্গে কাজ করেছেন- এটাই এ আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির জন্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে নারীদের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, নারীরা যেন সমাজের সব ক্ষেত্রে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে জন্য মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থ ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি নারীদের এগিয়ে আসার পথে বড় বাধা। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনীহা, দলীয় কাঠামো এবং পরিবারে সম্পত্তিসহ সামাজিক বৈষম্য দূর করা না গেলে এর প্রভাব রাজনীতিতেও থেকে যাবে।
এবি পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নারী নেতৃত্ব হলো একটি দেশ ও সমাজ কতদূর এগিয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ মানদ-। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে হবে। নেতৃত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, গুণগত ও অর্থবহ হতে হবে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পরিবারতন্ত্রে আবদ্ধ এবং নতুন নারী নেতৃত্ব তুলে আনতে অনীহা দেখায়। সাইবার বুলিং প্রতিরোধেও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, আদর্শগত পার্থক্য নির্বিশেষে নারীদের শক্তিশালী করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। নারীর অধিকার কোনো দয়া নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ। পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।