ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!
‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’

কংগ্রেসকে ফাঁকি দিয়ে ইরানে ফের হামলা চালাতে নতুন কৌশল!

যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নামে ফের সামরিক অভিযান শুরুর কথা বিবেচনা করছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পিত নতুন এ মার্কিন অভিযানের জন্য ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামটি এরই মধ্যে আলোচনায় রয়েছে। শক্তিশালী ধ্বংসাত্মক হামলার প্রতীক হিসেবে এ নামকরণ করা হতে পারে। গত মঙ্গলবার (১২ মে) এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বড় পরিসরের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আগের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামটি বদলে নতুন নাম ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ফলপ্রসূ না হলে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার স্থবিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চলমান থাকায় আবারও যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন।
কিছু কর্মকর্তার মতে, নতুন অপারেশন নাম ব্যবহার করা হলে হোয়াইট হাউজ যুক্তি দিতে পারবে যে, এটি একটি ‘নতুন সামরিক অভিযান’। ফলে ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধনীতি (ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন) অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সীমিত সময়ের জন্য আবারও অভিযান চালানো নিয়ে আইনি জটিলতা এড়ানো যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে এবং আলোচনার পথে এখন (যুক্তরাষ্ট্র) অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।
এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
ইরানের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’

কংগ্রেসকে ফাঁকি দিয়ে ইরানে ফের হামলা চালাতে নতুন কৌশল!

আপডেট সময় ০৮:১৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নামে ফের সামরিক অভিযান শুরুর কথা বিবেচনা করছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পিত নতুন এ মার্কিন অভিযানের জন্য ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামটি এরই মধ্যে আলোচনায় রয়েছে। শক্তিশালী ধ্বংসাত্মক হামলার প্রতীক হিসেবে এ নামকরণ করা হতে পারে। গত মঙ্গলবার (১২ মে) এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বড় পরিসরের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আগের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামটি বদলে নতুন নাম ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ফলপ্রসূ না হলে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার স্থবিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চলমান থাকায় আবারও যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন।
কিছু কর্মকর্তার মতে, নতুন অপারেশন নাম ব্যবহার করা হলে হোয়াইট হাউজ যুক্তি দিতে পারবে যে, এটি একটি ‘নতুন সামরিক অভিযান’। ফলে ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধনীতি (ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন) অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সীমিত সময়ের জন্য আবারও অভিযান চালানো নিয়ে আইনি জটিলতা এড়ানো যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে এবং আলোচনার পথে এখন (যুক্তরাষ্ট্র) অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।
এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
ইরানের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।