শরীয়তপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজকে কেন্দ্র করে উত্তাল শরীয়তপুরের রাজনীতি। ভিডিওটিতে পালং বাজারের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয় সদর পৌরসভার যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বেপারির বিরুদ্ধে। ডবে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই ব্যবসায়ী রামু ঘোষ নিজেই অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। ফলে এখন প্রশ্ন নুরুজ্জামান বেপারী কি সত্যিই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, নাকি তাকে ঘিরে রচিত হয়েছে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের এক ভয়ংকর নাটক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কোথাও স্পষ্টভাবে চাঁদা দাবি বা লেনদেনের কোনো দৃশ্য দেখা না গেলেও, সেটিকে উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা চালায় একটি কুচক্র মহল। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি প্রতিষ্ঠানটির বাইরে গেলো কীভাবে। কার স্বার্থেই বা ছড়ানো হলো এমন বিতর্ক। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে সাংবাদিকরা যখন রামু ঘোষের মুখোমুখি হন, তখন গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক বিস্ফোরক দৃশ্য। সিসিটিভি ফুটেজটি যারা কুচক্রী মহলের ইশারায় প্রতিষ্ঠানের বাইরে ছড়িয়েছে, এমনি এক চক্রান্তকারীর সাথে মোবাইলে তীব্র উত্তেজিত কণ্ঠে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। কথোপকথনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার দাবি অনুযায়ী, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিকল্পিতভাবে এই ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রামু ঘোষ নিজেই সরাসরি জানিয়েছেন, নুরুজ্জামান বেপারী তার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেননি। তাকে জড়িয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাহলে কেন টার্গেট করা হলো নুরুজ্জামান বেপারীকে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের অস্বস্তি। কারণ, নুরুজ্জামান বেপারী বরাবরই ছিলেন মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। একাদিক বার নিজের ফেসবুক লাইভ, প্রতিবাদী সভা ও রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে যারা চাঁদাবাজি করছে, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে জেলার নেতারা কেনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। ব্যস, সুনির্দিষ্ট কারও নাম না নিলেও, এই সত্য উচ্চারণে গায়ে আগুন লাগে আসল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট চক্রের। তার এই অবস্থানেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই নুরুজ্জামান বেপারীর মতো একজন ত্যাগী ও সাহসী নেতাকে ‘ডিজিটাল ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ, যিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তাকেই উল্টো চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। নুরুজ্জামান বেপারী কোনো হঠাৎ উত্থান হওয়া ড্রয়িংরুমের রাজনীতিক নন। উত্তাল ৯০ দশক এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ দলের দুঃসময়ে ছাত্র নেতা জাকির খানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন তিনি। এমনটাই দাবি করেন তার অনুসারীরা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নির্যাতন, হামলা ও একের পর এক মামলার বোঝা মাথায় নিয়েও দলীয় আদর্শ থেকে সরে যাননি বলে জানান তৃণমূল নেতাকর্মীরা। শামীম ওসমানের প্রভাববলয়ের রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়লে তিনি নিজ জেলা শরীয়তপুরে ফিরে আসেন। কিন্তু দল ক্ষমতার বাইরে থাকাকালেও তিনি কখনো অন্য দলে যোগ দেননি কিংবা সুবিধাবাদী রাজনীতির পথে হাঁটেননি এমন দাবিও করেন তার ঘনিষ্ঠদের। বরং বিএনপির রাজনীতিকে সক্রিয় রাখতে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথে রক্ত ঘাম ঝরিয়েছেন জিয়ার আদর্শের এই ত্যাগী নেতা। সম্প্রতি অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামান বেপারী প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, এই শহরের একটি মানুষও যদি প্রমাণ করতে পারে আমি কারো কাছ থেকে চাঁদাবাজি করেছি, তাহলে কোনো বহিষ্কারের অপেক্ষা করবো না। দলের জন্য জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে আন্দোলন করেছি আমার বিচার আমি নিজেই করবো। এদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রকৃত তদন্ত ছাড়াই একটি মহল কেন্দ্রীয় যুবদলের কিছু নেতাকে বিভ্রান্ত করে দ্রুত বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করিয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের প্রত্যাশা অতিদ্রুত কেন্দ্রীয় যুবদল সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সুপরিকল্পিত সাজানো ডিজিটাল ষড়যন্ত্র চক্রান্তের মুখোশ উন্মোচন করবে এবং দুঃসময়ের রাজপথের এই নির্যাতিত নেতাকে ফিরিয়ে দেবে তাঁর হারানো সম্মান।
সংবাদ শিরোনাম
চাঁদাবাজির অভিযোগে ত্যাগী নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ
-
মঞ্জুরুল ইসলাম রনি শরীয়তপুর - আপডেট সময় ০২:২৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- 345
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























