ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

কাতার বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি, এবার প্রায় শূন্য : তথ্যমন্ত্রী

কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনাবেচার প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হলেও ফিফা পেয়েছিল মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার—এমন দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে।
গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২২ ও ২০২৬ সালের সম্প্রচার ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ফিফার কাছ থেকে একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিনেছিল। পরে বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন সেই স্বত্ব কিনে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) কাছে ৯৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে। একই সময়ে স্যাটেলাইট সম্প্রচার স্বত্ব ২২ কোটি টাকা এবং ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফিফা পেয়েছিল মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি অর্থ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জনগণের করের অর্থ ব্যয় করে ৯৮ কোটি টাকায় সম্প্রচার স্বত্ব কেনার ঘটনাকে তিনি বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল—দেশের মানুষকে বিশ্বকাপের খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে, তবে এর জন্য জনগণের অর্থের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না।
এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকার এবার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস কিনেছে। পরে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে অধিকাংশ অর্থ আদায় করা হয়েছে। ফলে সরকারের প্রকৃত আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। রাজস্ব ভাগাভাগির প্রক্রিয়া শেষ হলে এই ঘাটতিও পূরণ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যয়ের তুলনা করলেই আগের ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং এবার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কিনে কীভাবে ব্যয় কমানো হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বিটিভির ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রায় নামমাত্র ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। রাজস্ব ভাগাভাগির কিছু বিষয় এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। সেগুলো সম্পন্ন হলে সরকারের আর কোনো আর্থিক ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সময় বিটিভির নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার না হওয়ায় যে সময় ব্যয় হয়েছে, তার অর্থমূল্য হিসাব করলে পুরো আয়োজন লাভজনক অবস্থানে চলে আসবে। একই সঙ্গে বিটিভির প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা সফলভাবে সম্প্রচার পরিচালনা করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন নিজস্ব গতিতে চলছে এবং চলবে। সরকার এ বিষয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বিটিভির মহাপরিচালক জানান, বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে বিটিভির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করছে বলে তিনি অবগত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাতার বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি, এবার প্রায় শূন্য : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনাবেচার প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হলেও ফিফা পেয়েছিল মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার—এমন দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে।
গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২২ ও ২০২৬ সালের সম্প্রচার ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ফিফার কাছ থেকে একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিনেছিল। পরে বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন সেই স্বত্ব কিনে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) কাছে ৯৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে। একই সময়ে স্যাটেলাইট সম্প্রচার স্বত্ব ২২ কোটি টাকা এবং ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফিফা পেয়েছিল মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি অর্থ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জনগণের করের অর্থ ব্যয় করে ৯৮ কোটি টাকায় সম্প্রচার স্বত্ব কেনার ঘটনাকে তিনি বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল—দেশের মানুষকে বিশ্বকাপের খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে, তবে এর জন্য জনগণের অর্থের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না।
এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকার এবার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস কিনেছে। পরে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে অধিকাংশ অর্থ আদায় করা হয়েছে। ফলে সরকারের প্রকৃত আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। রাজস্ব ভাগাভাগির প্রক্রিয়া শেষ হলে এই ঘাটতিও পূরণ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যয়ের তুলনা করলেই আগের ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং এবার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কিনে কীভাবে ব্যয় কমানো হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বিটিভির ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রায় নামমাত্র ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। রাজস্ব ভাগাভাগির কিছু বিষয় এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। সেগুলো সম্পন্ন হলে সরকারের আর কোনো আর্থিক ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সময় বিটিভির নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার না হওয়ায় যে সময় ব্যয় হয়েছে, তার অর্থমূল্য হিসাব করলে পুরো আয়োজন লাভজনক অবস্থানে চলে আসবে। একই সঙ্গে বিটিভির প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা সফলভাবে সম্প্রচার পরিচালনা করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন নিজস্ব গতিতে চলছে এবং চলবে। সরকার এ বিষয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বিটিভির মহাপরিচালক জানান, বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে বিটিভির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করছে বলে তিনি অবগত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন