ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান Logo জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী Logo ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ভারত Logo ৪৬ বছর পর আবার আলোচনায় শহীদ জিয়ার ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ Logo বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসি : সিইসি Logo কিশোর তাহসিনের ড্রোন শুধু স্বপ্ন নয় Logo ‘স্যরি’ বললেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়  Logo চলচ্চিত্রের দুর্দশা কাটাতে করণীয় নির্ধারণে সেমিনার

ধনবাড়ীতে বিদ্যালয়ের রাস্তা না থাকায় দুর্ভোগে কমলমতি শিক্ষার্থীরা

চারপাশে গাছগাছালিতে ঘেরা মনোরম পরিবেশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দোতলা একটি ভবন। এটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা এই বিদ্যালয়ের ভেতরে সব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরেও যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগ চরমে। রাস্তা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান শিক্ষকসহ অভিভাবকেরা। ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৪ স্থাপিত হয়। জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালে। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকসহ শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে বিদ্যালয় সূত্রে। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের। শুষ্ক মৌসুমে জমির আইল ও বাড়ির ঝোপঝাড় দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ফলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমে গেছে। বিদ্যালয়ের সংলগ্ন ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে রাস্তা থাকলেও এই বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই। ক্ষেতের পানি শুকিয়ে গেলে হেঁটে চলাচল করতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় রিপন বলেন, বিদ্যালয়ের আশপাশে বাড়ি দিয়ে যাতায়াত করলে বকা শুনতে হয়। তাই শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পানির মধ্য দিয়েই পারাপার হতে হয়। এতে অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই ও পোশাক ভিজে যায়। ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় অন্যত্র শিক্ষার্থী চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ। তাই শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া রোধে দ্রুত স্থায়ী রাস্তার দাবি জানাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ উপস্থিতির হার নেমে আসে। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুনা বলে, রাস্তা না থাকায় আমরা স্কুলে আসতে পারছি না। অন্যজনের বাড়ির ভেতর দিয়ে আসতে হচ্ছে আমাদের খুব কষ্ট হয় আমরা উপজেলা ইউএনও স্যার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে রাস্তাটি করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ধনবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন,রাস্তায় করতে প্রধান শিক্ষকের লিখিত আবেদন পেলেই রাস্তার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

ধনবাড়ীতে বিদ্যালয়ের রাস্তা না থাকায় দুর্ভোগে কমলমতি শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৯:৪১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চারপাশে গাছগাছালিতে ঘেরা মনোরম পরিবেশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দোতলা একটি ভবন। এটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা এই বিদ্যালয়ের ভেতরে সব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরেও যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগ চরমে। রাস্তা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান শিক্ষকসহ অভিভাবকেরা। ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৪ স্থাপিত হয়। জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালে। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকসহ শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে বিদ্যালয় সূত্রে। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের। শুষ্ক মৌসুমে জমির আইল ও বাড়ির ঝোপঝাড় দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ফলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমে গেছে। বিদ্যালয়ের সংলগ্ন ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে রাস্তা থাকলেও এই বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই। ক্ষেতের পানি শুকিয়ে গেলে হেঁটে চলাচল করতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় রিপন বলেন, বিদ্যালয়ের আশপাশে বাড়ি দিয়ে যাতায়াত করলে বকা শুনতে হয়। তাই শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পানির মধ্য দিয়েই পারাপার হতে হয়। এতে অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই ও পোশাক ভিজে যায়। ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় অন্যত্র শিক্ষার্থী চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ। তাই শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া রোধে দ্রুত স্থায়ী রাস্তার দাবি জানাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ উপস্থিতির হার নেমে আসে। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুনা বলে, রাস্তা না থাকায় আমরা স্কুলে আসতে পারছি না। অন্যজনের বাড়ির ভেতর দিয়ে আসতে হচ্ছে আমাদের খুব কষ্ট হয় আমরা উপজেলা ইউএনও স্যার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে রাস্তাটি করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ধনবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন,রাস্তায় করতে প্রধান শিক্ষকের লিখিত আবেদন পেলেই রাস্তার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।