ভোলা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের সহজ বিজয় নিশ্চিত হলো। কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ তিনি ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন পাননি।
১০ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আব্দুস সালামও মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বহুল আলোচিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের বিজয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। কারণ ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির ত্যাগী এ নেতা এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যা জনগণ ভুলে যায়নি। হাফিজ ইব্রাহিমকে তারা তাদের সুখ-দুঃখে সব সময় পাশে পায়।
এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আশ্রাফ উদ্দিন ফারুক শুক্রবার রাতে বলেন, “কেন্দ্রীয় ১০ দলীয় ইসলামী জোট ভোলা-২ আসনে ছাতা প্রতীকে এলডিপির প্রার্থী মোখফার উদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমরা জোটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মাঠে আমরা আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। তবে জোটের এ নতুন প্রার্থী আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেননি বা সহযোগিতা চাননি।”
এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও আসন পরিচালক মাওলানা মাকসুদুর রহমান ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “১০ দলীয় ইসলামী জোটের কেন্দ্রীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৃহত্তর ইসলাহী স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এটি কোনো দুর্বলতা বা ভয়ের বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং সংগঠনের শৃঙ্খলা, উম্মাহর ঐক্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। আজ আমরা এক ধাপ পিছিয়ে গেলেও আদর্শ ও ন্যায়ের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
প্রত্যাহার শেষে ভোলা-২ আসনে মোট ৫ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির মো. হাফিজ ইব্রাহিম, এলডিপি মোকফার উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির এ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু, আমজনতার দলের মো. আলা উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন খন্দকার।
বিএনপির মো. হাফিজ ইব্রাহিমের জনপ্রিয়তার সাথে অন্য ৪ জনের কোন তুলনাই হয় না। তাই বিএনপির মো. হাফিজ ইব্রাহিমের বিজয় নিশ্চিত বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।