বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা পর্যটন শিল্পে বদলে দিবে সীতাকুন্ডে অর্থনীতি টুঙ্গিপাড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে পাট বীজ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন কুড়িগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত কালীগঞ্জে তিন হাজার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যের বীজ ও সার বিতরণ কার্ষক্রম উদ্বোধন সদর দক্ষিণে রেল-বাস দুর্ঘটনায়, উচ্ছেদ অভিযান দুপচাঁচিয়ায় কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বৃত্তির অর্থসহ এ্যাওয়ার্ড প্রদান গলাচিপা প্রশাসনের আয়োজনে গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভা আর্থিক সংকটে থমকে যেতে বসা সূচনার স্বপ্ন, পাশে জকসু প্রতিনিধিরা তাড়াশে পৌরসভার ১৭টি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ

পর্যটন শিল্পে বদলে দিবে সীতাকুন্ডে অর্থনীতি

সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

পর্যটন শিল্পে অপার সম্ভাবনাময় উপজেলা চট্টগ্রামের সীতাকু-। সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, ঝর্ণা আর কৃত্রিম লেকের অপরূপ মেলবন্ধণ সীতাকু-ের অর্থনীতি বদলে দিতে সক্ষম এই পর্যটন শিল্প। দেশে প্রতিনিয়ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইকো-ট্যুরিজম। যার অন্যতম উপাদান পাহাড়-পর্বত, অরণ্য, সমুদ সৈকত, নদী-নালা, জীব বৈচিত্র্য, বৃক্ষ-বনানী, প্রাণীকূল, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি-বিনোদন ও জনসাধারণের বৈচিত্র্যময় জীবন-যাপনের পদ্বতি। যার সব কিছুই বিদ্যমান রয়েছে সীতাকু-ে। ছোট দারোগারহাটে সহ¯্রধারা-সুপ্তধারা আর পন্থিছিলার মায়াবী ঝরঝরি ঝর্ণা, গুলিয়াখালী, বাঁশবাড়ীয়া, সৈয়দপুর ও আকিলপুর সমুদ্র সৈকত, বোটানিক্যাল গার্ডেন-ইকোপার্ক, ভাটিয়ারী কৃত্রিম লেক আর ভ্রমণপ্রেমীদের আগ্রহের তালিকার নতুন করে যোগ হয়েছে ফৌজদারহাট লিঙ্করোডের ডিসি পার্কের মতো বেশ কয়েক‘টি আকর্ষণীয় স্পটে সজ্জিত এই উপজেলা। সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ১২ শত ফুট উচু পাহাড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান, প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন আর বার আউলিয়ার পূর্ণভূমি উপজেলাকে করেছে সম্মৃদ্ধ। প্রাকৃতিক বৈরী পরিবেশের ধাক্কা সামলিয়ে বরাবরই উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো নিজেদের রাঙ্গাতে শুরু করে আপন সাজে। পরিবেশ-জলবায়ুর পরিবর্তনে নতুন করে আবারো প্রাণচাঞ্চল্যতায় ফিরে আসতে অভ্যস্ত উপজেলার আকর্ষণীয় স্পটগুলো। গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন স্পটগুলোর অবস্থান‘সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিবরণীতে উপজেলায় প্রতিনিয়ত ভিড় করছে ভ্রমণপ্রেমী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বর্ষামৌসুমে কৃত্রিম লেক ও ঝর্ণাগুলোর সৌন্দর্যের সাথে বহুগুণ বেড়ে যায় পর্যটকের সংখ্যা। বাড়তে থাকে হোটেল-রেস্তোরাঁয় জমজমাট ব্যবসা আর পর্যটনমূখী সড়কগুলোর ব্যস্ততা। সীতাকু-ে পর্যটন শিল্প‘কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কতিপয় পেশাজীবি ও কতেক বেকার যুবকের বিকল্প কর্মসংস্থান। আবার পর্যটন উপজেলার একটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক খাতও বটে। সীতাকু-ে পর্যটন শিল্প বিকাশের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও সরকারি কার্যকর পদক্ষেপের কারণে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়েছে। অথচ অফুরন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত সীতাকু- পর্যটন শিল্পে খুবই সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। সম্প্রতি উপজেলার ইকোপার্ক, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত ও সহ¯্রধারা-সুপ্তধারা ঝর্ণা‘সহ কয়েকটি দর্শণীয় স্পটের অপরূপ সৌন্দর্যের স্বাক্ষী হয়েছেন সীতাকু- আইনজীবি সমিতির সভাপতি আবুল হাসান মোঃ সাহাব উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক কাজী নাসিম উদ্দিন, সীতাকু- মেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী, পশ্চিম সৈয়দপুরের বাসিন্দা মোঃ সাইদুল ইসলাম, নাটক ও চ্চলচিত্র অভিনেতা সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং সীতাকু- সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লিখক মোঃ সাহাব উদ্দিন। ভ্রমণপ্রেমীরা জানান, সীতাকু-ের পর্যটন স্পটগুলো খুবই মনোরম। দৃষ্টিনন্দন স্পটগুলোর সৌন্দর্যে আগত পর্যটকদের অনেকেই স্মার্টফোনে নিজেদের স্মৃতি ধরে রাখার লোভ কিছুতেই সামলাতে পারেন না। উপজেলার বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্পট ঘুরতে এসে গত কয়েক বছরে কতেক মৃত্যু‘সহ অসংখ্য পর্যটক গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও থামছেনা পর্যটকদের গাইড লাইন না নেওয়া বা সাঁতার না জেনে ঝর্ণা কিংবা কৃত্রিম লেকে অসতর্ক ভাবে নেমে পড়ার প্রচেষ্ঠা। অতি উৎসাহী কিশোর-তরুণ পর্যটক‘দের মধ্যে নির্দেশনা মানার প্রবণতা খুবই কম। মূলত তরুণ-কিশোর পর্যটকরা দুর্ঘটনার শিকার হ”ছেন বেশি। গতকাল সহ¯্রধারা ও সুপ্তধারায় গিয়ে দেখা যায় ৩০ থেকে ৪০ জন তরুণ কিশোর পর্যটকের অবস্থান। সেখানেও দেখা যায় পর্যটকেরা কোন প্রকার সতর্কতা না মেনে ঝর্ণার উপরে নিজেদের ছবি তোলতে অহেতুক ব্যস্থতা কিংবা পাশের বিপজ্জনক ঢালুতে শুয়ে থাকার দৃশ্য। এদিকে পর্যটকেরা উপজেলার দর্শনীয় স্পটগুলো দেখতে গেলেও প্রবেশ পথ থেকে কোথাও সতর্কতামূলক তেমন কোনো দিক নির্দেশনা নেই। ইজারাদাররা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে মৌখিক ভাবে বিষয়টি পর্যটকদের নিয়মিত জানানো হয়। অথচ অতি উৎসাহী পর্যটকদের সেদিকে কোন নজর নেই। সীতাকু- ইত্তেহাদ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের অনেকেই অতি উৎসাহী হয়ে বিপজ্জনক ঢালুতে চলাচল, গাইড লাইন না মেনে, সাঁতার না জেনে ঝর্ণা কিংবা কৃত্রিম লেকে অসতর্কভাবে নেমে পড়ার প্রচেষ্ঠায় দেখা দেয় দুর্ঘটনা। পর্যটকেরা সচেতন হলে দুর্ঘটনা অনেকটা এড়ানো যেতো। এদিকে দূর্ঘটনা ঘটলেও উপজেলায় নেই কোন ডুবুরী টিম। দূর্ঘটনা মোকাবেলায় একটি ডুবুরী টিমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। উপজেলায় আগমণ বাড়তে থাকায় কমছে পর্যটকদের পাশাকের শালিনতা। তাতে নৈতিবাচক প্রভাব‘সহ দেখা দিয়েছে ভিন্ন সংস্কৃতি। আর পর্যটকদের বাড়তি আগমণে সীতাকু-ের আবাসিক হোটেলগুলোতে বেড়েছে অসামাজিক কার্যক্রম। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি। পূর্ব সৈয়দপুর থেকে প্রধান শিক্ষক কাজী নাসিম উদ্দিন বলেন, পর্যটকরা আমাদের অতিথি। সড়ক পথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক‘রা সীতাকু-ে আগমণ করে। মনোরম স্পটগুলোর আকর্ষণে সমুদ্র সৈকতের কাঁদা মাটি অতিক্রম করে, ঝর্ণা ও লেকের পানিতে সাঁতার কেটে কিংবা পাহাড়ি আঁকা-বাকা আর ঢালু পথ পেরিয়ে পর্যটক‘রা নিজেদের চাহিত স্পট পরিদর্শণ শেষে ফিরে যায় আপন গন্তব্যে। তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর উন্নয়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সকলের সহযোগিতা একান্ত আবশ্যক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন পাহাড়, ঝর্ণা, সমুদ্র সৈকত, আর কৃত্রিম লেকের অপরূপ মেলবন্ধন সীতাকু- উপজেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীব-বৈচিত্র্যে ভরপুর সীতাকু-ে আগত পর্যটক‘রা আকর্ষণীয় স্পটগুলো পরিদর্শন শেষে নিরাপদে নিজেদের গন্তব্যে ফিরে যায়। প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আবাসিক সুবিধা থাকায় সীতাকু-ের পর্যটন স্পটগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পর্যটকের আগমণ। পর্যটন শিল্পে বদলে দিতে পারে সীতাকু-ের অর্থনীতি।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com