ইউরোপের দেশ ফ্রান্স পাঠানোর নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ, প্রবাস থেকে আনা ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইনের প্রতিশ্রুত টাকা প্রদান না করে উপরন্ত মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীকে মামলা দিয়ে হয়রানী ও তার বাড়িতে হামলার অভিযোগ করেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সবুজবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কাতার প্রবাসী সমাজকর্মী সুব্রত চক্রবর্তী। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক প্রতিনিধি ও তার কাকাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি একজন মধ্যপ্রাচ্য তথা কাতার প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা। প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থ দ্বারা আমি শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাধারণ দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করে চলেছি। প্রতি বছর অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। সামাজিক কর্মকান্ডে আমি চরম তৃপ্তি লাভ করি। দেশে থাকতেও আমি ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও নানা সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছি। আর প্রবাসে আসার পর বৃহৎ পরিসরে করে যাচ্ছি। আমি প্রবাসে থাকার ফলে আমার সামাজিক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করেছেন বেশ কয়েকজন সম্মানিত সাংবাদিকসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এরমধ্যে একজন হলেন একুশের টেলিভিশনের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা বিকুল চক্রবর্তী। গত প্রায় এক দশক ধরে বিকুল চক্রবর্তী নানা অনুষ্ঠান, তার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ, সাংবাদিক অঙ্গন ও শ্রীমঙ্গল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের নামে সময়ে সময়ে আমার কাছ থেকে বহু টাকা অনুদান হিসেবে নিয়েছেন। প্রতিবার আমি দেশে আসলে তিনি অনুষ্ঠানের নামে আমার কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং আমাকে বিভিন্ন সংগঠনের নামে আমাকে ও অন্যান্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করতেন। আমি যখন প্রবাসে কর্মরত থাকতাম তখন বিকুল চক্রবর্তী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান, শীতকালে শীতবস্ত্র প্রদান, ইফতার পার্টি, ঈদ পূর্ণমিলনী, বনভোজনসহ নানা কর্মকান্ড দেখিয়ে আমার বৃদ্ধ মা আরতী চক্রবর্তীর কাছ থেকে নানা সময়ে লাখ-লাখ টাকা নিয়েছেন। ২০২০-২০২১ সালে আমি কাতারে থাকাবস্থায় বিকুল চক্রবর্তী আমাকে তার স্ত্রীর জন্য একটি স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা আনার অনুরোধ করে বলেন দেশে আসার সাথে-সাথে আমার টাকা তিনি পরিশোধ করবেন। তার কথামতো দেশে আসার সময় আমি ৮ আনার একটি স্বর্ণের চেইন, একটি অ্যান্ড্রোয়েট মোবাইল ফোন ও একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনে আনি। যার সাকুল্য মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার মতো। এসব সামগ্রী তাকে প্রদানের পর বিকুল চক্রবর্তী টাকা দেই-দিচ্ছি করে সময় ক্ষেপন করেন। পরে আমি প্রবাসে চলে যাবার সময় তিনি বলেন আমার মায়ের কাছে সব টাকা দিয়ে দিবেন। কিন্তু সেই টাকা আমি আর পাইনি। এরইমধ্যে ২০২২-২০২৩ সালের দিকে দেশে থাকা আমার ভাই সুকান্ত চক্রবর্তীকে ইউরোপে পাঠানোর প্রস্তাব দেন সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী। আমার ভাইসহ আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন সবাইকে ফ্রান্স পাঠানো হবে। তার লোভনীয় প্রস্তাবে আমার ভাই রাজি হয়। প্রাথমিকভাবে ৩ লক্ষ টাকা করে আমার ভাই সুকান্ত চক্রবর্তীসহ বাকিরা বিকুল চক্রবর্তীকে প্রদান করেন। টাকা প্রদানের পর বিকুল চক্রবর্তী আমার ভাইকে ভারতে নিয়ে যান। সেখানে কৈলাশহর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আমার ভাইকে ক্রেস্ট প্রদানের নামে বিকুল ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া ইউরোপে যেতে আরও কিছু সার্টিফিকেট ও শিক্ষাসনদ লাগবে বলে আরও প্রায় লক্ষাধিক টাকা নেন তিনি। একটি জাল শিক্ষাসনদসহ কিছু কিছু অনুষ্ঠানের কৃতিত্ব সনপনপত্র দেওয়া হয় আমার ভাই সুকান্তকে। পরে আমার ভাইসহ আরও কয়েকজনের নামে ফ্রান্সের ভিসার আবেদন করা হয়। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশস্থ ফ্রান্স দুতাবাস সকলের ভিসার আবেদন ভুয়া ডকুমেন্ট/কাগজপত্রের জন্য রিজেক্ট করে। ভিসা রিজেক্টের খবরটি আমি প্রবাসে বসে শুনার পর আমি আমার ভাই সুকান্তকে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাতারে নিয়ে যাই। সেখানে সুকান্ত তার সাথে বিকুলের প্রতারণা, জাল ডকুমেন্ট/কাগজপত্রের এবং বারবার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা আমাকে সবিস্তারে খুলে বলে। এ কথা শুনে আমি বিকুল চক্রবর্তীকে তার মোবাইল ফোনে ফোন করে ভিসার জন্য দেওয়া ৩ লক্ষ টাকাসহ শিক্ষাসনদ ও ডকুমেন্ট তৈরি নামে প্রতারণা করে নেয়া সব টাকা, ক্যামেরা, মোবাইল ও তার স্ত্রীর জন্য আমার কাছ থেকে নেয়া স্বর্ণের চেইনের টাকা পরিশোধের অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি তা পরিশোধে অনিহা প্রকাশ করে আমার সাথে উচ্চবাচ্চ ও অশ্লীল আচরণ করেন। এ নিয়ে আমি কাতারে বসেই ফেসবুক লাইভ করি। লাইভ করার পর শহরের সংবাদকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনেকেই বিষয়টি জ্ঞাত হন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য ভিডিও কলে আমার সাথে কথা বলেন। বিকুল চক্রবর্তী প্রতিশ্রুতি দেন আমি দেশে আসলে আমার ও ভাইয়ের ইউরোপের ভিসার জন্য প্রদত্ত সব টাকা একত্রে পরিশোধ করা হবে। ফলে আমি তাৎক্ষণিক তাদের প্রতি সম্মান রেখে লাইভ রিমুভ করে দেই। পরে আমি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে আসি। দেশে আসার কিছুদিন পর আমি বিকুল চক্রবর্তীকে ফোন করি। কিন্তু বার বার ফোন করার পরও তিনি রেসপন্স করেননি। ফলে বাধ্য হয়ে বিষয়টি সাংবাদিক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন ভাইসহ অন্যদেরকে জানাই। কিন্তু এখনো টাকা পাইনি। এদিকে গত ৬ মার্চ দুপুরে সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে আয়োজিত দোল উৎসবে বিকুল চক্রবর্তীকে দেখতে পেয়ে আমি আমার টাকা কবে দেবেন তা জিজ্ঞেস করি। সেখানেও তিনি আমার সাথে উচ্চবাচ্য করেন। এরপর ওইদিনই বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে বিকুল চক্রবর্তীর নির্দেশে তার কাকাতো ভাই বর্ণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন তরুণ আমার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে দেখে নেবার হুমকি দেয়। তাদের হামলায় আমার বৃদ্ধ মা, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কিত। তিনি আরো বলেন একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা হিসেবে প্রবাসে অর্থ ফেরত, মিথ্যা মামলা, প্রতারণা ও জালিয়াতির জন্য বিকুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় সুব্রত চক্রবর্তীর মা আরতি চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।