পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি এম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রেখে প্রাইভেট এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে সরকারি এম্বুলেন্স ড্রাইভার আঃ হালিম প্যাদার বিরুদ্ধে। হাসপাতালের সামনে সরকারি এম্বুলেন্স রেখে অধিকাংশ সময়ই ড্রাইভার বাসায় এবং ব্যক্তিগত কাজে থাকেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাসির নামে বিষ পান করা একজন রোগী হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ সেবার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তির পরেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে রেখেছেন। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা সরকারী এম্বুলেন্সের ড্রাইভার আঃ হালিম প্যাদাকে ফোন দিলে তিনি আধা ঘন্টা পরে আসতে পারবেন বলে জানান। কিন্তু তারা এত সময় অপেক্ষা না করে প্রাইভেট এম্বলেন্সেই ওই ইমার্জেন্সি রোগীকে মঠবাড়িয়া থেকে বরিশালে নিয়ে যান। আর এতে ওই রোগীর লোকদের ২ হাজার টাকার পরিবর্তে গুনতে হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। রোগীর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের এম্বুলেন্স থাকতেও বেশি টাকায় প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করতে হলো। এম্বুলেন্সের ড্রাইভার আঃ হালিম প্যাদা অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, আমি শারীরীক অসুস্থ্যতার জন্য কিছুক্ষনের জন্য বাসায় গিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে একাধিক গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে তার বিরুদ্ধে, অভিযোগের পাশাপাশি সততা ও পাওয়া গেছে যে, দুই এক জন গণমাধ্যম কর্মীর সাথে তিনি ব্যক্তিগত সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। একই সাথে স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতার অনুসারী হয়েছেন। ফলশ্রুত হিসেবে সেই গণমাধ্যম কর্মীকে মুঠোফোনে ধরিয়ে দেন। যদিও সে ওই ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। অপরদিকে স্থানীয় সেই রাজনৈতিক ব্যক্তি তার সাথে যোগাযোগ না করে সংবাদ না করার আদেশ দেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (জগঙ) ডাঃ সৌমিত্র সিংহ জানান, ইতোপূর্বে এম্বুলেন্স চালককে একাধিকবার কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে আবারও সতর্ক করা হবে। স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য বিষয়টি মাননীয় সংসদ সদস্যকেও অবগত করা হবে।