রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
তাড়াশে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সাতকানিয়া থেকে চুরি হওয়া ইজিবাইক বাঁশখালি থেকে উদ্ধার লালমোহনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প সরকার স্বীকৃত বোর্ড পরীক্ষায় শ্রীমঙ্গলের শেখবাড়ী জামিয়ার ঈর্ষণীয় সাফল্য এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট এর দৌরাত্ম ! মঠবাড়িয়ায় কমপ্লেক্সের সামনে এম্বুলেন্স রেখে বাসায় থাকেন ড্রাইভার : দুর্ভোগে রোগীরা কালিগঞ্জ শিক্ষক সমিতির গাইড বাণিজ্য, প্রায় অর্ধকোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ কলা গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা দাগনভূঞায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের চরম সংকট, ভোগান্তিতে বাইকাররা সিরাজদিখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী ভাংচুর ও কাজে বাধা দানের মামলার ১ জন আসামী গ্রেফতার সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ফারুকউজ্জামান মিয়ার পদত্যাগ

নান্দুহার দাখিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নিয়াজ মোর্শেদ (স্বরূপকাঠি) পিরোজপুর
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

পিরোজপুর জেলার মধ্যে নেছারাবাদ উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত নান্দুহার দারু সুন্নাত মাদ্রাসা সুপারের দুর্নীতির গোমর ফাঁস! ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠাতা সুপার মোহাম্মাদ বাবুল আক্তার তিল তিল করে দুর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি করার গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে। বহু অপকর্মের খল নায়ক মোহাম্মদ বাবুল আক্তার গত ০৪/০৩/২০২৬ সালে অবসরে যান।কিন্তু কথায় আছে,কয়লাকে যতই সাবান-সোডা দেওয়া হোক না কেন কয়লা কিন্তু কালোই থেকে যাবে। আর সেই সূত্র ধরেই সাবেক মাদ্রাসা সুপার বাবুল আক্তার তার চরিত্র পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়নি। বরং বিদায়ের পূর্ব মুহূর্তে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬কে উপেক্ষা করে মহা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চরম বিতর্কিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা উপেক্ষা করে গত ০১/০৩/২৬ তারিখে নিয়ম বহি ভত শরীর চর্চা শিক্ষক মোঃ মাসুম বিল্লাহকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। মোটা অংকের বিনিয়োগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা উপেক্ষা করে ভারপ্রাপ্ত সুপার মাসুম বিল্লাহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ নিয়মের মধ্যে দায়িত্ব পাওয়ার কথা সহ সুপার জাহাঙ্গীর মাওলানার।কিন্তু দুর্নীতিবাজ সদ্য অবসরে যাওয়া বাবুল আক্তার মোটা অংকের বিনিয়োগ নিয়ম নীতির কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। এব্যাপারে সাবেক মাদ্রাসা সুপারের দুর্নীতির বিষয়ে নান্দুহার দারু সুন্নাত ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকরা এক এক করে দুর্নীতির রোজনামচা তুলে ধরলেন গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মোঃ শাহ আলম বাহাদুর বলেন, আমার উচ্চতর স্কেল করতে সাবেক মাদ্রাসা সুপার বাবুল আক্তার ৩০,০০০/- টাকা নেয়। এছাড়াও হুসাইন মকবুলের কাছ থেকে টাকা নেয় ১০,০০০/- টাকা। ফারুক হোসেনের কাছ থেকে ১৫০০০/- টাকা সহ মোঃ ইব্রাহিম মাওলানা সহ নূরুল ইসলামের কাছ থেকেও ১৫০০০/- টাকা নেওয়ার সত্যতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের রফিক মাওলানা ও শিক্ষিকা শায়লা আপার কাছ থেকে ১০,০০০/- টাকা নেওয়ারও সত্যতা নিশ্চিত করেন। এছাড়াও দুর্নীতিবাজ সাবেক সুপার বাবুল আক্তার ইঅইঅউ পড়ার সময়ে নাসিমা আক্তারের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০০০/- টাকা করে নিতেন বাবুল আক্তার। অথচ নিয়মের বাইরে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় সমগ্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সহ সকল স্টাফদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে বিগত সময়ে। শুধু মাত্র চাকুরী হারানোর ভয়ে কোন শিক্ষক মুখ খুলতে সাহস পায়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ে গত এক বছরের মধ্যে অনেক কিছুতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। আর সেই সূত্র ধরেই প্রতিবাদী শিক্ষক সমাজ সহ সকল স্টাফরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন। এব্যাপারে সহকারী সুপার মোঃ জাহাঙ্গীর গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সদ্য অবসরে যাওয়া বাবুল আক্তার আমার সাথে বিমাতৃসুলভ আচরণ করার পাশাপাশি অর্থ নৈতিক ভাবে পঙ্গু করেছেন। নিয়োগের সময় নগদ একলক্ষ টাকার চেক নেওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থকড়িও নিয়েছেন। গণমাধ্যম কর্মীদের সন্মানে অশ্রুসিক্ত ভাষায় বলেন, অবসর নেওয়া বাবুল আক্তার আমাকে এক ধরনের বোতল বন্দি করে ছিল। চেক ছাড়াও কৌশল অবলম্বন করে প্রায় আর দুই লক্ষ টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষক অবগত আছেন। আজকে সদ্য অবসরে যাওয়া বাবুল আক্তারের দুর্নীতির কারনে আমরা বেতন বেনাস পাচ্ছি না। আমাদের সবাইকে একধরনের পঙ্গু করেছেন। আমি সহ আমরা সকলেই দুর্নীতিবাজ সদ্য অবসরে যাওয়া বাবুল আক্তারের কঠিন শাস্তির দাবি জানাই। আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ আপনাদের শরণাপন্ন হয়েছি। আমরা সকলেই নীতি আদর্শের মধ্যে বাঁচতে চাই। আমার সাথে কঠিন হটকারিতার আশ্রয় নিয়ে পথে বসানোর গুরুত্বপূর্ণ মিশনে ছিল দুর্নীতিবাজ সদ্য অবসরে যাওয়া বাবুল আক্তার। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের শাহ আলম বাহাদুর স্যার সহ হুসাইন মকবুল, ফারুক হোসেন, ইব্রাহিম, নূরুল ইসলাম, শায়লা ম্যাডামও নাসিমা আক্তার গণ মাধ্যম কর্মীদের বলেন, আসলেই আমাদের সকলের সাথে এক ধরনের প্রতারণা সহ কঠিন দুর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সত্যতা তুলে ধরলেন। এছাড়াও মাদ্রাসার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আসলেই ঠান্ডা মাথায় সদ্য অবসরে যাওয়া বাবুল আক্তার একজন দুর্নীতিবাজ মাদ্রাসা সুপার। আমরা সকলেই দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই। আমরা সকলেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকৃত অপরাধীর কঠিন শাস্তি হোক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কথা হয় সদ্য অবসরে যাওয়া বাবুল আক্তারের সাথে। মিডিয়ার কোন ধরনের প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে অবসরে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কঠিন দুর্নীতি করার নজির স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এব্যাপারে বর্তমান মাদ্রাসার সভাপতিও সমগ্র বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। কিন্তু কৌশল অবলম্বন করে সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। অবশ্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার সমগ্র বিষয়টি আমলে নেন। আসলেই সমগ্র বিষয়টি লজ্জা জনক। একজন মাদ্রাসা সুপারের দুর্নীতির কথা শুনে আমি অবাক হচ্ছি। একজন ধর্মীয় আচার আচরণে পরিচালিত মাদ্রাসা সুপার এভাবে ঠান্ডা মাথায় দুর্নীতি করতে পারে। ভাবতে গেলে আমাদের সকলের লজ্জা হয়। তবে এটাও সত্য সঠিক তথ্য উদঘাটন করার পর প্রকৃত অপরাধীর কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে নান্দুহার দারু সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সকল শিক্ষকদের দিকে সুনজরের আশ্বাসের কথাও বলেন।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com